মিত্রকে
আর পাশে পাওয়া যাচ্ছে না আগের মতো। প্রথমে এটা ছিল নিছক অস্বস্তি। ক্রমে
ক্রমে সেটাই এখন রীতিমতো চাপ। শীতল যুদ্ধের সময়ে ভারতের ঘনিষ্ঠতম মিত্র ছিল
রাশিয়া। গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে চলার ফাঁকে
দূরত্ব বেড়েছে তাদের সঙ্গে। এখন মস্কোর তালিবান-নীতি থেকে শুরু করে
চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে তাদের ভূমিকা রীতিমতো উদ্বেগে ফেলে
দিয়েছে ভারতের সাউথ ব্লককে। দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য বন্ধু দেশটির সঙ্গে
সম্পর্কের এই অধোগতি নিয়ে বেজায় চিন্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদিও। মঙ্গলবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে একথা বলা
হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে সমস্যার ক্ষেত্রগুলো
খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার জন্য বিদেশ সচিব এস জয়শঙ্করকে নির্দেশ
দিয়েছেন মোদি। প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাশিয়াবিষয়ক ডেস্ককে ঢেলে
সাজা এবং সে দেশের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর কথাও ভাবছে
সরকার। বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, একটু দেরিতে টনক নড়েছে সাউথ ব্লকের। তিন
মাস আগে, উরি-কাণ্ডের পরেই যথেষ্ট বেসুরে বাজতে শুরু করেছিল রাশিয়া।
ভারত-পাক তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইসলামাবাদের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালায়
তারা। এর পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে যত বারই সন্ত্রাসবাদের
প্রশ্নে একঘরে করার চেষ্টা করেছে নয়াদিল্লি, তত বারই শীতল মনোভাব নিয়েছে
রাশিয়া। তা সে গোয়ায় ‘ব্রিকস’ সম্মেলনই হোক অথবা অমৃতসরে ‘হার্ট অব এশিয়া’র
মঞ্চ। এবার প্রমাণ মিলল দিল্লি-মস্কো সম্পর্কের ভিত এতটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে
যে ভারতের চক্ষুশূল ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের’ (সিপিইএস) প্রতি
মস্কো এখন প্রকাশ্যেই সমর্থন জানাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, এ প্রকল্পের সঙ্গে
নিজেদের একটি প্রকল্পও জুড়ে নেয়ার লক্ষ্যে দফায় দফায় আলোচনাও চালাচ্ছে
মস্কো। চীনের জিংজিয়াং থেকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান পর্যন্ত প্রস্তাবিত ওই
করিডর যাওয়ার কথা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে। এটা নিয়ে চিনের কাছে
একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির আশংকা, করিডরের নামে আর্থিক
সাহায্য নিয়ে ইসলামাবাদ আসলে ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে সামরিক
অবকাঠামো বাড়াবে। এবার বোমা ফাটালেন পাকিস্তানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত
আলেক্সে দেদভ।
তিনি জানিয়েছেন, মস্কোর ‘ইউরেশিয়ান ইকনমিক প্রজেক্ট’-এর
সঙ্গে চীন-পাকিস্তান করিডরকে কীভাবে সংযুক্ত করা যায় তা নিয়ে দফায় দফায়
আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে। দেদভের কথায়, ‘চীন-পাকিস্তান আর্থিক
করিডর পাক অর্থনীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই, আঞ্চলিক যোগাযোগের
জন্যেও এটা জরুরি।’ সম্প্রতি আফগান তালিবানের জঙ্গিপনাকে রাশিয়া ‘জাতীয়
সামরিক-রাজনৈতিক আন্দোলন’ হিসেবে তুলে ধরাতেও ঘুম ছুটেছে সাউথ ব্লকের।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্তার কথায়, ‘গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে
আমাদের যথাসাধ্য কূটনীতির পরেও মস্কো লস্কর বা জইশ-ই-মহম্মদকে জঙ্গি সংগঠন
হিসেবে ঘোষণা করেনি।’ এ বিষয়ে আমেরিকা কোন অবস্থান নেবে, এখনও তা স্পষ্ট
নয়। আপাতত আমেরিকার হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক মধুর।

No comments:
Post a Comment