Saturday, December 24, 2016

আমরা আশাবাদী ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক -দ্য হিন্দুকে বার্নিকাট

বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন একটি  ‘ভালো জিনিস’। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টেফান্স ব্লুম বার্নিকাট এ মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি কথা বলেছেন বাংলাদেশ সরকারের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পদক্ষেপ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব, ইত্যাদি নিয়ে। সম্প্রতি কলকাতা সফরে গিয়ে বার্নিকাট ভারতের পত্রিকা দ্য হিন্দুকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে দেয়া হলো।
প্রশ্ন: জুলাইয়ে গুলশান হামলার পর বাংলাদেশ সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আপনি কী মনে করেন?
উত্তর: ক্ষমতায় বসার পর থেকে সন্ত্রাসীদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্সে’র যে-ই নীতি প্রধানমন্ত্রীর, তার ওপর ভিত্তি করেই কাজ করেছেন তিনি। তিনি ভারত সরকারের সঙ্গে খুবই নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি ও তার সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের অসাধারণ আংশীদার। আল-কায়েদা ও আইএস’র হুমকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা বিদেশি, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্লগারদের আক্রমণ করতে চায়। বাংলাদেশ আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ ছিল। নতুন সিটি ইউনিট খোলা হয়েছে। অনেক সার্ভিসকে ঘনিষ্ঠভাবে একযোগে কাজ করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বন্ধু ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ সামনে এগিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিগগিরই একটি দল বাংলাদেশে আসবে। প্রশিক্ষণ ও ম্যাটেরিয়ালের দিক থেকে আমরা আরও কী করতে পারি, তা খতিয়ে দেখবে তারা।
প্রশ্ন: ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্র কি আশাবাদী যে এ নির্বাচন সম্পূর্ণরূপে অংশগ্রহণমূলক হবে? যুক্তরাষ্ট্র কি দুই প্রধান দলের মধ্যে সংলাপ আয়োজনে কোনোভাবে সম্পৃক্ত?
উত্তর: আমরা আশাবাদী যে এ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক। এর চেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো প্রধানমন্ত্রী নিজেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের শেষে বলেছেন যে, তিনি ২০১৯ সালের নির্বাচন দেখতে চান। দুই দলের মধ্যে সংলাপের প্রশ্ন খুবই সংকীর্ণ। হ্যাঁ, এই দুই দল সব দিক থেকেই দেশের প্রধান দুই দল। কিন্তু বাংলাদেশে আরও অনেক দল আছে। আমি মনে করি, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি অংশত নির্ভর করবে দেশব্যাপী আলোচনার ওপর। শুধু দলগুলোর মধ্যে নয়, দেশের নাগরিকদের মধ্যেও। বাংলাদেশে শক্ত নির্বাচন কমিশন আছে। নতুন কমিশন কীভাবে গঠিত হয়, সেটি হবে একটি ভালো নির্বাচনের প্রথম ও বাস্তব লক্ষণ হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন?
উত্তর: আমাদের স্বার্থ সত্যিই একই সূত্রে গাঁথা। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে আমরা আমাদের স্বার্থ ও মঙ্গলকে সংজ্ঞায়িত করি। আমি মনে করি আমরা উভয় দেশই (ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র) বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতি থেকে ভুগি। এসব স্মৃতি অনেক সময় বাংলাদেশীদের আমাদের প্রভাব ও স্বার্থ নিয়ে সন্দেহপ্রবণ করে তুলেছে। সরকার না হলেও, বাংলাদেশীদের করেছে, যদিও বিভিন্ন সরকার ভিন্নভিন্নভাবে আচরণ করেছে। বাংলাদেশীরা ভীষণ স্বাধীন। যখনই আমাদের দু’দেশ, সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবিশেষ দৃশ্যত তাদের (বাংলাদেশিদের) নিজ সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতায় অনভিপ্রেত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তখন আমরা নিজেদের বিপদই ডেকে আনি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ প্রস্তাবিত হয়েছে। এটি কি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করে?
উত্তর: সবচেয়ে ব্যয়বহুল উন্নয়ন কাজ কী? অবকাঠামো। আমি ও যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, যদি চীন এ সমাধানের অংশ হতে চায়, এটি ভালো জিনিস। আমরা বিশ্বজুড়ে প্রত্যেক প্লেয়ারের কাছ থেকে যেটি চাই সেটি হলো, আমরা এআইআইবি’র কথা বলি বা চীনা সরকারের কথাই বলি, দয়া করে দায়িত্বশীল প্লেয়ার হোন। স্বীকৃতি দিন যে, এত বছর ধরে বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক এমন এক কাঠামো গড়ে তুলেছে যেটি স্বচ্ছ, কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক। এমনভাবে এ কাঠামো গড়া হয়েছে যাতে আপনি যদি কোন সুযোগ প্রস্তান দিয়ে থাকেন, তবে এই আন্তর্জাতিক আদর্শ মেনে চলুন। এর ফলে সবাই আরও শক্তিশালী হবে।
>>>মানবজমিন

No comments:

Post a Comment