Sunday, December 18, 2016

ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয়ে নাটকীয় বৃদ্ধি

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প সম্প্রসারণবাদী রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন এবং ন্যাটো জোটের প্রতি তার অঙ্গীকার নিয়ে সংশয় দেখা দেয়ায় ইউরোপজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের শাসনে যুক্তরাষ্ট্রের তেমন নির্ভরশীল মিত্র থাকবে না বলে আশংকার মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোর জাতীয় প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির চুক্তি করল। শীর্ষ বৈঠকের পর ইউরোপের নেতারা এক সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলেছেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপীয়দের অবশ্যই আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। খবর লস এঞ্জেলেসে টাইমসের। নির্বাচনী প্রচারণাকালে ট্রাম্প বলেছেন, নর্থ আটলান্টিক ট্রিইটি অর্গানাইজেশনের রক্ষণাবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রকে মাত্রাতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হচ্ছে। ন্যাটো চুক্তিতে বলা হয়েছিল, প্রতিটি সদস্য দেশ তার জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস, ব্রিটেন,
এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ড ছাড়া সংস্থার বাকি দেশগুলো এই বাধ্যবাধকতা মানেনি। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে ২৮ সদস্যবিশিষ্ট ইইউ দেশগুলো এই বাধ্যবাধকতা মেনে চলার অঙ্গীকার করেছে। এমনকি ইইউভুক্ত যে ছয়টি দেশ ন্যাটোর সদস্য নয় তারাও এই শর্ত মেনে নিয়েছেন। এর মানে হচ্ছে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেছেন, ন্যাটোর ভেতরেই আমাদের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির আসল কারণ রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ। শীর্ষ সম্মেলনে মার্কেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অবরোধের জন্য চাপ দেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের উষ্ণ সম্পর্কের কারণে অবরোধ আরোপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। তিনি বলেন, নতুন প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে ইউক্রেন সংকট নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের অবরোধের সময়সীমা আরও ছয়মাস বাড়ানো হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাকে নৈশভোজে দাওয়াত দেয়া হয়নি। কারণ তার দেশ ইতিমধ্যেই ইইউ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা নিয়ে ইউরোপের বহু নেতাই অসন্তুষ্ট।

No comments:

Post a Comment