গোয়ালন্দে
এ বছর ব্যাপক সবজির আবাদ হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
তবে মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে ঘন কুয়াশা নিয়ে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘন
কুয়াশার কারণে সবজি চাষীদের মনে সৃষ্টি হয়েছে হতাশার। চরাঞ্চলের মাঠকে মাঠ
দেখা যায় সবজি আর সবজি ক্ষেত। এক সময় যেসব জমিতে কৃষকরা শুধু ধান-পাট চাষের
উপর নির্ভরশীল ছিল সে এলাকায় এখন বেগুন, টমেটো, পিঁয়াজ, আলু, কপি, সিম,
লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছে। ব্যাপক ফলনে চাষীদের মনে খুশির বন্যা
বইছে। ধান-পাটের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে গোয়ালন্দের কৃষকরা গত কয়েক বছর
যাবত সবজি চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে
জানা যায়, গত কয়েক বছর যাবত এই এলাকায় ব্যাপক সবজি আবাদ হচ্ছে। এ বছর এই
উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১২শ’ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করা হয়েছে।
ব্যাপক ফলন হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের
জেলাগুলোতে রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার কৃষকরা সবজি বিক্রি মাত্র শুরু
করেছেন।
সাধারণত দুই-তিন মাস পর্যন্ত সবজি বিক্রি করে থাকে। গত প্রায় এক
সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের মনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অধিক
সময় ধরে কুয়াশা থাকলে কপি, বেগুন, টমেটোসহ সবজির গাছ স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে পচন
ধরার সম্ভাবনায় কৃষকদের মনে মলিনতা দেখা দিয়েছে। পরিদর্শনকালে জানা যায়,
চর দৌলতদিয়া এলাকার সবজি চাষী মোঃ জাহের শেখ ও সাহেব আলী জানান ২৫ বিঘা
জমিতে তারা বেগুন ও টমেটোর আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৫ হাজার টাকা
খরচ হয়েছে। এ সময় তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে কুয়াশা পড়ছে তাতে
এভাবে কুয়াশার সাথে রোদ বন্ধ থাকলে টমেটো ও বেগুন গাছে পোকা ধরে পচে যাবে।
তখন দেনা পরিশোধ করব কি দিয়ে তাই ভেবে পাচ্ছি না। গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি
অফিসের উপ-সহকারী মঞ্জুর রহমান জানান, গোয়ালন্দ এ বছর ৫শ’ হেক্টর বেগুন এবং
২৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো ও অন্যান্য শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিমসহ
মোট ১২শ’ ৫ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ করা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment