ইনজুরির
ধাক্কায় টানা ছয় মাস মাঠের বাইরে। নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম ম্যাচেই বল
হাতে আলো ছড়ালেন। কিন্তু হারল দল। দ্বিতীয় ম্যাচ দেখলেন গ্যালারিতে বসে। সে
ম্যাচে জিততে জিততেও সতীর্থদের আত্মাহুতি দেখে নিজেকে বিলাপ গুণেছেন কাটার
মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। দলও হোয়াইওয়াশের সামনে। তাইতো শনিবার তৃতীয়
ম্যাচেও নিজেকে মেলে ধরলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু তাতে কি সতীর্থরা যে তাকে
যোগ্য সহায়তাটুকু দিতে পারেননি। তবে মোস্তাফিজ ঠিকই আদায় করে নিয়েছেন কিউই
বোলারদের সমীহ। ৮ উইকেটের বড় হারে যে দুটি উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা, তা
দখল করেছেন বাম-হাতি এই পেসার। একমাত্র তাকেই সমীহ করে খেলতে বাধ্য হয়েছেন
উইলিয়ামসনরা। প্রথম ওভারেই প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান টম ল্যাথামের উইকেট
তুলে নেন মোস্তাফিজ। তার বলে বিভ্রান্ত হয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন
ল্যাথাম। দ্বিতীয় ওভারেও একের পর এক বর্ষিত হতে থাকে গোলা। পঞ্চম বলটি
কিছুই বুঝতে পারেননি নিল ব্রুম। সহজ ক্যাচ দেন প্রথম স্লিপে। কিন্তু ইমরুল
কায়েস সেটি ছেড়ে শুধু মোস্তাফিজকে উইকেট বঞ্চিতই করলেন না, দলকেও ডোবালেন।
কারণ নিল ব্রুমই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ১৭৯ রানের জুটি গড়ে
বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। তবে দিন শেষে মোস্তাফিজের সান্ত্বনা হতে
পারে ৯৭ রানে ব্রুমকে ফিরিয়ে তার টানা শতক বঞ্চিত করা। প্রথম স্পেলে
মোস্তাফিজের বোলিং ৪-২-৬-১, আসলে এখানে থাকা উচিত ছিল ২ উইকেট। পরে আরও দুই
স্পেলে বল করেছেন কাটার মাস্টার। তৃতীয়বার বল হাতে এসে ফেরান সেই ব্রুমকে।
৯৭ রান করা ব্রুম ক্যাচ দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফিকে। শেষ পর্যন্ত ৯ দশমিক ২
ওভার বল করে দুটি মেডেনসহ ৩২ রান দিয়ে মোস্তাফিজ তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট।
প্রথম ম্যাচে তিনি ১০ ওভারে ৬২ রানে নেন ২ উইকেট। তবে রান দেখে মোস্তাফিজকে
বিচার করা যাবে না। কিউইদের ৩৪১ রানের ম্যাচে প্রথম স্পেলে মোস্তাফিজের
বোলিং ফিগার ছিল, ৫-০-১৫-১। প্রথম ওভার করতে এসে মোস্তাফিজ দেন দুই রান,
দ্বিতীয় ওভারে পাঁচ,
তৃতীয় ওভারে চার রান। তবে ওই ওভারের প্রথম বলেই
মার্টিন গাপটিলকে তুলে নেন তিনি। মোস্তাফিজের স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে
গাপটিল বল আকাশে তুলে দেন, যেটি ধরতে একদম বেগ পেতে হয়নি সৌম্য সরকারের।
চতুর্থ ও পঞ্চম ওভারে দেন মাত্র দুই রান করে। তবে দ্বিতীয় স্পেলে এসে মার
খান মোস্তাফিজ। পাঁচ ওভারে দেন ৪৭ রান। এরই মধ্যে শেষ দিকে তুলে নেন শতক
করা ল্যাথামের উইকেট। গত জুলাইতে সাসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি ২০
ব্লাস্ট ও রয়্যাল লন্ডন কাপে অংশ নিতে গিয়ে চোটে আক্রান্ত হন মোস্তাফিজুর
রহমান। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকায় ফিরে দীর্ঘদিন পুনর্বাসনে
ছিলেন। এজন্য ঘরের মাঠে আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ মিস করেন।
খেলতে পারেননি ঘরোয়া টি ২০'র সবচেয়ে বড় আসর বিপিএলও। কিন্তু নিউজিল্যান্ড
সফরে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচেই আলো ছড়ান মোস্তাফিজ। সাত ওভার বল করে ৩৯ রান
দিয়ে নেন ২ উইকেট, যার ধারাবাহিকতা দুই ম্যাচেও দুটি করে ৪ উইকেট পান তিনি।
গত বছরের জুনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই বল হাতে আলো
ছড়াচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি ২০- সব ঘরানার ক্রিকেটেই
বল হাতে বেশ সফল তিনি। এর স্বীকৃতিও পেয়েছেন কাটার মাস্টার, আইসিসির এবারের
সেরা উদীয়মান ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর আগে ১০ ওয়ানডেতে ২৮ এবং
১৩ টি ২০ ম্যাচে ২২ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ। আর দুটি টেস্টে তার সংগ্রহ ৪
উইকেট।

No comments:
Post a Comment