Tuesday, December 13, 2016

চট্টগ্রামের পাঁচ জঙ্গি ৯ দিনের রিমান্ডে

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম বাংলাদেশ বা হুজিবি-এর পাঁচ নেতাকে তিনটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথকভাবে ৩ দিন করে মোট ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
তবে তিনটি মামলার রিমান্ডের সময় একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিন সময় পাবে পুলিশ। গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালত এ আদেশ দেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন- আসামি তাজুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, আবু জার গিফারী, ইফতেশাম আহমেদ ও নুরে আলম। পাঁচজনের বিরুদ্ধে নগরীর আকবর শাহ থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন এবং সন্ত্রাস দমন আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের হয়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, হুজিবি- এর পাঁচ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ২১ দিনের জন্য রিমান্ড নেয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে তিনটি মামলায় পৃথকভাবে ৩ দিন করে মোট ৯ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তবে মামলাগুলোর রিমান্ডের সময় একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিন সময় পাবে পুলিশ।
গত ৮ই ডিসেম্বর নগরীর আকবর শাহ থানার এলাকার একটি বাড়ি থেকে এ পাঁচ হুজি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭। এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে নগরীর আকবর শাহ থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেন। প্রত্যেকটি মামলায় এ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন চলতি নভেম্বরের শেষদিকে সড়কপথে চট্টগ্রামে আসে। তারা বাসা ভাড়া করে নিজেদের সাংগঠনিক ও প্রশিক্ষণের কাজ চালানোর চেষ্টা করেছিল। পরে নাশকতা করে নিজেদের চাঙা করার পাশাপাশি অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের।
র‌্যাব-৭ গোয়েন্দারা জানান, হুজিবিকে সংগঠিত করতে ইতিমধ্যে শীর্ষ নেতারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কুষ্টিয়ায় একাধিকবার আঞ্চলিক ও মাঠ পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে। কুষ্টিয়াতে একটি গোপন বৈঠকে তারা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল।
এজন্য তারা কয়েকজন মিলে কুষ্টিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনার নকশা তৈরি করেছিল। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের আগেই অভিযান চলাকালীন সময়ে জঙ্গিরা পুড়িয়ে ফেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, ল্যাপটপ ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে ফেলতে সমর্থ হয় জঙ্গিরা। পরে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, হুজিবি’র বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতারা একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিল চট্টগ্রামের আস্তানায়।
>>>মানবজমিন

No comments:

Post a Comment