আনারস বাগান ধ্বংসের ঘটনায় রাঙ্গামাটির নিরীহ পাহাড়িদের ধরপাকড় ও গ্রেফতার বন্ধসহ অবিলম্বে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে নানিয়ারচরে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ চলছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে অবরোধ শুরু হয়েছে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অবরোধের ফলে রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক এবং রাঙ্গামাটি-বুড়িঘাট-নানিয়ারচর নৌপথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নানিয়ারচরের স্থানীয় পাহাড়িরা এই অবরোধের ডাক দেয়।এলাকাবাসী জানান, ৫ দফা দাবি নিয়ে অবরোধ দিয়েছেন তারা। দাবিগুলো হচ্ছে- আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি, ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভুমিকা, বেদখলকৃত জমি ফেরত দেয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা। অবরোধকারীরা দাবি করে বলেন, ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা দিয়ে অন্যায়ভাবে নিরীহ পাহাড়িদের ধরপাকড় ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এতে পাহাড়ি এলাকায় ক্ষোভ ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তাই অবিলম্বে নির্দোষী নিরীহ পাহাড়িদের ধরপাকড় ও গ্রেফতার বন্ধ করাসহ আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছেন নানিয়ারচরের পাহাড়িরা।
বুড়িঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা বলেন, পুলিপাড়া ও মহাপুরুম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়িদের ভূমি বেদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে কতিপয় সেটেলার বাঙালি। এ কারণে এলাকায় কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তিনি বলেন, আনারসের বাগান কেটে দেয়ার ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে ৫ জন নিরীহ পাহাড়িকে আটক করায় ক্ষোভ, উত্তেজনা ও আতংক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেজন্য এলাকাবাসী ৫ দফা দাবি নিয়ে অবরোধ পালন করছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। বুড়িঘাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মো. জামাল ও মধু মিয়া নামে দুই কৃষক বছরভিত্তিক চুক্তি করে স্থানীয় মারমাদের কাছ থেকে জমি নিয়ে আনারস বাগান করেছেন। শনিবার রাতে বাগানের প্রায় ৪২ হাজার আনারস গাছ সবগুলো কেটে দেয়া হয়েছে। অথচ জমি নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল না। নানিয়াচর থানা পুলিশের ওসি আবদুল লতিফ বলেন, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। অবরোধ দিয়েছে যারা দিয়েছে তারা তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করুক। কিন্তু কোনো উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর কিছু করার চেষ্টা করলে তখন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের পুলিপাড়ায় দুই বাঙালি কৃষকের আনারস গাছ কেটে বাগান ধ্বংস করে দেয় কিছু দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় স্থানীয় পাহাড়িদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। এতে পাহাড়িদেরকে গণহারে ধরপাকড় ও গ্রেফতার শুরু হয়।

No comments:
Post a Comment