Monday, December 26, 2016

'সুনামির' যুগপূর্তি আজ, প্রাণ হারিয়েছিল ২,২৬০০০

মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ 'সুনামি'র এক যুগ পূর্তি আজ। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে ৯.১‌৫ মাত্রার প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হওয়ার পর ভারত মহাসাগরে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি হয়। এই দুর্যোগে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও শ্রীলঙ্কাসহ ঊপকূলবর্তী দেশগুলো দুই লাখ ২৬ হাজার মানুষ মারা যায়। খবর এএফপি ও রয়র্টার্সের। ১২ বছর আগের সেই বিভীষিকায় ইন্দোনেশিয়ায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাদের স্বজনরা সুনামির বর্ষপূর্তির দিনে বিশেষ দোয়া ও কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের স্মরণ করেন। আচেহ প্রদেশের উলি লিউয়ি কবরস্থানে সুনামিতে নিহত ১৪ হাজার ৮০০ মানুষকে দাফন করা হয়েছিল। সোমবার সেখানে মরিয়ম নামে এক নারী স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। মরিয়ম এএফপিকে বলেন, আমি প্রতিবছর আমার সন্তান, পুত্রবধু এবং তার তিন সন্তানের জন্য দোয়া করতে এখানে আসি। ৬৫ বছর বয়সী মরিয়ম তার স্বজনদের মৃতদেহ দেখেননি। তিনি সুনামির সময় একটি গাছের গুঁড়ি আকড়ে ধরে বেঁচে ছিলেন। তিনি নিশ্চিত তার স্বজনদের উলি লিউয়ি কবরস্থানেই দাফন করা হয়েছে।
তাই প্রতি বছর এখানে আসেন তিনি। আচেহ প্রদেশের বেসার জেলার সিরনে ৪৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে কবর দেয়া হয়েছে। সেখানেও স্বজন হারানো মানুষেরা ভিড় করে কবরস্থানে ফুল দেন। তাদের বিশ্বাস প্রিয়তম স্বজনেরা এখানকার জমিনেই চিরশয্যায় শায়িত আছেন। সুনামির সময় আচেহ প্রদেশের সাগরমুখী যেসব মসজিদ টিকেছিল, স্বজনদের কবর জিয়ারতের পর এসব মসজিদে ভিড় জমান স্বজনরা। সেখানে তারা গণদোয়ায় অংশ নেন। থাইল্যান্ডে পরিচয়হীন ৪০০ মৃতদেহ ২০০৪ সালের সুনামিতে থাইল্যান্ডে পাঁচ হাজার ৩৯৫ জন নিহত হয়েছিল। এরমধ্যে প্রায় দুই হাজার বিদেশী ট্যুরিস্ট ছিলেন।   রয়টার্সের প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, সুনামির এক যুগ পরেও দেশটিতে নিহতের মধ্যে চারশ' জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। থাইল্যান্ডের ফাং গা প্রদেশের টাকুয়া পা জেলার উপ-পুলিশ সুপার আনন্দ বুনকারকাইউ বলেন, ২০০৪ সাল থেকে কর্তৃপক্ষ সুনামিতে নিহতদের চার থেকে পাঁচ হাজার স্বজননের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ সংগ্রহ করতে বলে আসছে। এরমধ্যে এখনও প্রায় চারশ'টি মরদেহ রয়েছে যার পরিচয় আমরা জানতে পারিনি।

No comments:

Post a Comment