বৃক্ষমানব
আবুল বাজানদার। যিনি ফিরে পেতে যাচ্ছেন স্বাভাবিক জীবন। তার দুই হাতের দশ
আঙুল কাজ করছে। আর এ কারণেই তিনি বিজয় দিবসে দুই হাতে জড়িয়ে ধরতে পেরেছেন
লাল সবুজের পতাকা। এ যেন তার জন্য আরেকটি বিজয়। তার চোখেমুখে এখন আনন্দের
ছটা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবুল বাজানদার যুগান্তরকে বলেন, এই
দেশ-এই মাটি, এই দেশের মানুষের দোয়া ও করুণায় আমি বেঁচে আছি। ফিরে পেতে
যাচ্ছি স্বাভাবিক জীবন। যেখানে আমার দুই হাত ছিল গাছের শিকড়ের মতো। সেই
হাতে পতাকা ধরা আমার জন্য ছিল শুধুই কল্পনা। সেই কল্পনা এখন বাস্তবে রূপ
নিয়েছে। আমি দুই হাতে ধরতে পেরেছি আমার দেশের পতাকা। এ যে কেমন অনুভূতি, তা
ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আবুল বাজানদার বলেন, দুই পায়ে এখনও ব্যান্ডেজ।
তাই
বিজয় দিবসে বাইরে যেতে পারিনি। রুমে বসেই উদযাপন করেছি বিজয় দিবস। শ্রদ্ধা
জানিয়েছি আমার দেশের শহীদদের প্রতি। আবুল বাজানদার বলেন, জয় বাংলা উচ্চারণ
করতেই যেন বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। মনে অন্যরকম একটা সাহস জাগে। তাই জয় বাংলা
বলে আনন্দ পাই, আলোড়িত হই। এজন্য মেয়েকেও শিখিয়েছি জয় বাংলা। শিখিয়েছি দেশ
মাতৃকার স্লোগান, মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। তিনি বলেন, এবার মেয়েকে নিয়ে তার
মা শহীদ মিনারে ঘুরে এসেছে। আশা রাখি, আগামী বছর বিজয় দিবসে আমি নিজেও
যেতে পারব। তিনি বলেন, দেশবাসীর দোয়ায় অনেকটাই স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাস দেড়েকের মধ্যেই শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠব। সুস্থ হয়ে
বাড়ি ফেরার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা আছে আমার।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাজানদার বলেন, খুব ছোটবেলায় যখন আমি স্বাভাবিক ছিলাম
তখন এসব দিনগুলোয় পতাকা উড়াতাম। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তো আর ধরতে
পারিনি। পতাকা ধরার জন্য বুকে অন্যরকম একটা হাহাকার ছিল। ভাবতাম জীবনে
কোনোদিন আর এই পতাকা ছুঁতে পারতাম না। আল্লাহ তো আমাকে আবার সেই সুযোগ
দিয়েছেন। আমি তো আগের জীবন ফিরে পেতে যাচ্ছি।

No comments:
Post a Comment