গাজীপুরে
ব্রিজে স্কুল ব্যাগ রেখে তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়ে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা
করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে
কড্ডা ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এই স্কুল ছাত্রী এক যুবকের
মোটরসাইকেলে চড়ে এখানে এসে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নদে ঝাঁপ দেয়।
স্থানীয়রা জানায়, স্কুল ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি পরিচয়পত্রে নিহত স্কুল
ছাত্রীর নাম শামিমা আক্তার লিমা বলে জানা গেছে। পরিচয়পত্রে দেখা যায়,
শামীমা কোনাবাড়ি এমএ কুদ্দুস উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী, রোল নম্বর
৬। সে কোনাবাড়ি রিফুজীপাড়া এলাকার আবদুল জলিলের মেয়ে। তার স্কুল ব্যাগে
পরিচয়পত্র ছাড়াও কয়েকটি প্রেমপত্র, এক কিশোরের সঙ্গে যুগল ছবি, ২০১৫ সালে
জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নম্বরপত্র পাওয়া গেছে। নদ থেকে উদ্ধারকারী মো.
শহিদুল ইসলাম ও স্থানীয়রা জানান, সকাল ১১টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে এক
যুবকের সঙ্গে লিমা কোনাবাড়ির দিক থেকে এসে কড্ডা ব্রিজে দাঁড়ায়। এখানে
দুজনে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে লিমা স্কুল ব্যাগটি
ব্রিজে রেখে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেয়।
এ সময় ওই যুবক দ্রুত ওই মোটরসাইকেলে
পালিয়ে যায়। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা নদে খোঁজাখুঁজি করে দুপুর ১টার
দিকে লিমার লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা
উদ্ধার হওয়া লাশ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
মর্গে পাঠায়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, লিমাকে মৃত
অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পিতা আবদুল জলিল জানান, লিমা তার একমাত্র
মেয়ে। সে কোনাবাড়ী এমএ কুদ্দুছ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
জলিল পেশায় কাঁচামাল ব্যবসায়ী। কোনাবাড়ি এলাকায় প্রায় ১২ বছর ধরে বসবাস
করেন। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। লিমার সঙ্গে কোনো ছেলের প্রেমের
সম্পর্ক ছিল বলে তার জানা নেই।

No comments:
Post a Comment