খুলে
দেয়া হয়েছে সূর্যভিলা। সেখানে ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকরা নিজ নিজ বাসায়
উঠেছেন। রাজধানীর দক্ষিণখান থানার পূর্ব আশকোনায় জঙ্গি আল-বাছির জামে মসজিদ
সংলগ্ন বাসাটির নিচতলায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটি)। এ
সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ।
মঙ্গলবার সিটি ইউনিটের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা বিভিন্ন জনের
সঙ্গে কথা বলে। এরপর দক্ষিণখান থানা পুলিশের একটি দল বাসাটি খুলে দেয়। এর
আগে সোমবার বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট বাসাটি থেকে
দ্বিতীয় দিনের মতো আলামত সংগ্রহ করে। দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা
যুগান্তরকে বলেন, ভবনটি খুলে দেয়া হয়েছে। শুধু নিচতলায় যে ফ্ল্যাটে জঙ্গিরা
বাসা ভাড়া নিয়েছিল ওই ফ্ল্যাটটি মামলার তদন্তের স্বার্থে সিলগালা করে রাখা
হয়েছে। অন্য ফ্লোরগুলো ভাড়াটিয়াদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন,
নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকায় পুলিশের একটি টিম সার্বক্ষণিক মোতায়েন রাখা
হয়েছে। দোতলার ভাড়াটিয়া নাসরিন জানান, তিন দিন আতংকে ছিলেন। নিজ বাড়িতেই
জঙ্গি আছে ভাবতেই পারেননি।
জঙ্গিদের ধরে নেয়ার পর পর এখন তারা নিরাপদ বোধ
করছেন। শনিবার সকাল থেকে পাশে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। দুপুরে দক্ষিণখান
থানা পুলিশ অনুমতি দেয়ার পর তারা বাসায় ওঠেন। কুয়েত প্রবাসী জামাল হোসেনের
বাড়ি সূর্যভিলা। বাড়িওয়ালার মেয়ে জোনাকি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে ১০ হাজার
টাকা ভাড়ায় ইমতিয়াজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি বাসাটি ভাড়া নেয়। ওই ব্যক্তি
ভাড়াটিয়া ফরম পূরণ করে দিয়েছিল এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের একটা কপিও জমা
দিয়েছে। এসব কপি তারা থানায় জমা দিয়েছেন। অভিযানের পর মঙ্গলবার পুলিশ
বাসাটি খুলে দিয়েছে। তারা ও বাসার ভাড়াটিয়ারা সবাই বাসায় উঠেছেন। ২৪
ডিসেম্বর আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন রিপল টোয়েন্টিফোর’ নামে বিশেষ
অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ১৬ মাস বয়সী মেয়ে মারিয়াম বিনতে জাহিদকে নিয়ে
মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও ৪ মাস বয়সী শিশু জুয়াইরিয়াকে নিয়ে
জঙ্গি মইনুল ইসলাম মুসার স্ত্রী তৃষা মনি ওরফে আয়েশা আত্মসমর্পণ করেন। এ
ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় করা মামলায় ২৬ ডিসেম্বর সোমবার তাদেরকে আদালতে হাজির
করে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ওই অভিযানে সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে
নারী জঙ্গি শাকিলা ওরফে তাহিরা ও পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে কিশোর জঙ্গি
আদর নিহত হয়। শাকিলা সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় গুরুতর আহত
হওয়া তার ৪ বছরের মেয়ে সাবিনা ওরফে সামিনা ওরফে আফিফা গুরুতরও জখম হয়ে
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

No comments:
Post a Comment