অভ্যন্তরীণ
সমস্যা সমাধান করে আওয়ামী লীগে শৃংখলা ফেরানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোববার
চট্টগ্রাম সফর করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সকালে নাস্তা করার কথা বলে তিনি সোজা গিয়ে
উপস্থিত হন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায়।
সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিউদ্দিনের ছেলে
ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং
সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনকে নিয়ে
রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নাস্তার ফাঁকে ওবায়দুল কাদের
বলেন, ‘মহিউদ্দিন ভাই, আপনি আমাদের মুরুব্বি। আপনি আমার নেতা। নাছির আমাদের
ছোট। আপনি নাছিরের নেতা। সহযোগী সংগঠন, ছাত্রলীগ-যুবলীগে টুকটাক সমস্যা
থাকবে। কিন্তু আপনারা নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন তাহলে বিষয়টা কেমন
লাগে? কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে সরাসরি জানাবেন। আমি সমাধান করতে পারব। আমি
পারব না মনে করলে নেত্রীকে জানাবেন। কিন্তু নিজেরা নিজেরা কাদা ছোড়াছুড়ি
করবেন না।’
এ সময় নাস্তার টেবিলে ওবায়দুল কাদেরের দু’পাশে বসা মহিউদ্দিন
চৌধুরী ও মেয়র নাছির নিশ্চুপ ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর চশমাহিলে
মহিউদ্দিনের বাসায় যান কাদের। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর সকাল ১০টার দিকে তিনি
সেখান থেকে বেরিয়ে সড়পথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে নগর আওয়ামী লীগের
সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে মহিউদ্দিনের কাছে জানতে চান ওবায়দুল কাদের। এ সময়
মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সব ওয়ার্ডে কমিটি আছে। নেত্রী নিজেই মহানগর কমিটি
দিয়েছেন। তবে সব ওয়ার্ড সমানভাবে অ্যাকটিভ নয়।’ এ কথা শুনে তৎক্ষণাৎ
ওবায়দুল কাদের ফোনে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের
সঙ্গে কথা বলেন এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমকে নিয়ে
চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। নাস্তা শেষে সাংবাদিকদের
মুখোমুখি হন ওবায়দুল কাদের। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
‘নির্বাচনের মাত্র ২ বছর বাকি। আমরা আমাদের নিজেদের ভেতরের সমস্যাগুলো
সমাধান করে ফেলতে চাই। আগামী ৩ মাসের মধ্যে আমরা পার্টির অভ্যন্তরীণ
বিষয়গুলো সমাধান করব। যেসব সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন হয়নি সেগুলো আগামী ৬
মাসের মধ্যে করে ফেলব।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য আমারা অলআউট
প্রিপারেশনে যাচ্ছি। সেজন্য আমরা চট্টগ্রাম দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম।
মহানগর
আওয়ামী লীগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর ছাত্রলীগ নিয়ে ঘরোয়া আলোচনা করেছি।
একটা টিমওয়ার্ক গড়ে তুলব।’ বৈঠক সম্পর্কে মহিউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের
বলেন, ‘আমাদের ছাত্রলীগের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে। আমরা তাদের সঙ্গে বসে
সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। তাদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। সামনে
নির্বাচন। আশা করি নির্বাচনের আগে তৃণমূলে দলের ভিত্তি শক্ত হবে।’ আ জ ম
নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো গ্যাপ নেই। যেগুলো আছে সেগুলো
চিন্তার ভিন্নতা। এটা আমরা কাদের ভাইকে বলেছি। তিনি সংগঠনকে গতিশীল করার
কথা বলেছেন। কেউ সংগঠনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করলে তার প্রতি জিরো
টলারেন্স দেখানোর কথা বলেছেন তিনি।’ দুই নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার
সময় সেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী,
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক
মো. সামসুল আরেফিন, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস
ভট্টাচার্য, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নূর ই আলম চৌধুরী মিনা,
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নূরুল
আজিম রণি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি
সুজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রলীগ সংশোধন না হলে সাংগঠনিক ও প্রশাসিক
ব্যবস্থা : মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় বৈঠককালে ছাত্রলীগের প্রতি হুশিয়ারি
উচ্চারণ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দল ও সরকারের সুনাম ক্ষুণœ হয় এমন
কাজ থেকে বিরত না থাকলে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময়
ছাত্রলীগকে টেন্ডার বাণিজ্যে অংশ না নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দেন তিনি। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ
গ্রুপিং এবং মারামারি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তোমরা মারামারি করবে
কেন? মুরুব্বি আছেন মহিউদ্দিন ভাই। উনার কাছে আসবা, উনার সঙ্গে পরামর্শ
করবা। নিজেরা মারামারি কর আর দোষ পড়ে নেতাদের। নেতারা কি তোমাদের মারামারি
করতে বলেন? নেত্রীর পরিষ্কার মেসেজ আছে, ২ বছর পর নির্বাচন। এগুলো আমরা আর
টলারেট করব না। গত ১৫-১৬ বছর তো আমি ছাত্রলীগ ডিল করিনি। নেত্রী এখন বলছেন,
তুমি ছাত্রলীগটাকে একটু দেখ। সেজন্য আমরা ছাত্রলীগ ডিল করতে শুরু করেছি।
তাই সাবধান হয়ে যাও তোমরা।’ মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় উপস্থিত হয়ে তোপের
মুখে পড়েন নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল
আজিম রণি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি
সুজন।
আত্মঘাতী হামলার ঘটনা আরও ঘটতে পারে : ফেনী থেকে প্রতিনিধি জানান,
রোববার দুপুরে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদরের ফতেহপুরে রেল ওভারপাসের
উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
‘দেশে আত্মঘাতী হামলা আরও ঘটতে পারে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার
নেতৃত্বে অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনে সরকার
সামান্যতম শৈথিল্য প্রদর্শন করেনি। বার্লিন, আমেরিকা, ফ্রান্স, পাকিস্তানে এ
ধরনের ঘটনা ঘটছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী
সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন।’ এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন
প্রকল্পের পরিচালক আফতাব হোসেন খান, কুমিল্লা সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত
প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমদ, সেনাবাহিনীর প্রকল্প প্রকৌশলী মেজর মাহবুবুর রহমান,
জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, মজিবুল হক রিপন চেয়ারম্যান, আবু
সুফিয়ান, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌরসভার
প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

No comments:
Post a Comment