জেলার
রায়পুরার নিলক্ষ্যার চরে রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী
রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজুর উপস্থিতিতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই লাঠিয়াল
বাহিনী। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার পূর্বের বিরোধ মেটাতে সংসদ সদস্য সেখানে
গিয়েছিলেন। আগে থেকেই সেখানে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা
না করে সর্দার ছোমেদ আলী ও রাজিব বাহিনী রোববার প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা
চালালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত
হয়েছেন। জানা যায়, গত ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ তিন দিন ধরে
চলে। এতে চারজন নিহত হন। আহত হন অনেকে। ঘটনার পর থেকে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি
রয়েছে। ওই ঘটনার মীমাংসার জন্য সংসদ সদস্য রোববার নিলক্ষ্যায় যান। তার
সঙ্গে পুলিশও ছিল। তিনি যখন বীরগাঁও যাচ্ছিলেন তখন হরিপুর এলাকায় ছোমেদ আলী
ও রাজিব বাহিনীর লোকজন হক চেয়ারম্যান সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ
সময় বেশ কয়েকটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় হক চেয়ারম্যানের সমর্থকরা
সংগঠিত হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুরু হয় টেঁটা ও
বন্দুকযুদ্ধ। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধরা হলেন : সজল
হোসেন (২২), ওবায়দুল্লাহ (১৮) ও সাইজ উদ্দিন (৩৫)। চিকিৎসা নিতে তারা
হাসপাতালে গেলেও গ্রেফতার এড়াতে আহত অবস্থায় হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান।
নিজের উপস্থিতিতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় হতভম্ব হয়ে যান সংসদ
সদস্য। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে আসেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দুই
বাহিনীর মধ্যে গত নভেম্বরে তিন দিনব্যাপী টেঁটা ও বন্দুকযুদ্ধে ৪ জন নিহত
হন। এদের মধ্যে ৩ খুনের ব্যাপারে আজও কোনো মামলা হয়নি। বাধ্য হয়ে স্বজনরা
আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দুই গ্রুপের বিবাদ মেটাতে সংসদ সদস্য
এসেছিলেন। কিন্তু তার উপস্থিতিতেই ফের সংঘর্ষ হল। জানতে চাইলে রায়পুরা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ
নির্বাচনের পর থেকেই নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যে
প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ চলে আসছে। কিছু দিন পর পর থেমে থেমে
সংঘর্ষ হচ্ছে। ওই বিরোধ মেটানোর জন্য স্থানীয় সংসদ ওই এলাকায় যান। তার
উপস্থিতিতেই দু’পক্ষ ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত
পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment