নারায়ণগঞ্জের
চাঞ্চল্যকর সাত খুনের নেপথ্যে ছিল অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। সে সময় এ
জেলায় কর্মরত র্যাব-পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের অনেকেই অবৈধ অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব সুবিধাভোগীর মধ্যে এক ধরনের
যোগসাজশও ছিল। মূলত সেভেন মার্ডারের পেছনে অর্থ লেনদেনের বিষয় থাকায় অপহরণ
ঘটনার পর তাদের উদ্ধারে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বহুল আলোচিত সাত খুনের
ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা
হয়।
ওই সময় উচ্চ আদালতের নির্দেশে এ কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত শেষ হওয়ার
পর কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ১৩৪ পৃষ্ঠার তদন্ত
প্রতিবেদনের এক স্থানে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে
সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। গার্মেন্টের ঝুট
ব্যবসা, সরবরাহ ও ঠিকাদারি কর্মকাণ্ড, অবৈধ বালু, মাটি, পাথর ব্যবসা,
অশ্লীল যাত্রা, জুয়া ও অবৈধ মাদক ব্যবসা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন থেকেই চলছে।
অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে এসব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সহায়তা দেয় স্থানীয় প্রশাসন,
পুলিশ, র্যাব, রাজনীতিবিদ ও কিছুসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী। সাত খুনের পর অবৈধ
সুবিধাভোগীর পরিবর্তন হলেও কর্মকাণ্ডগুলো চলমান রয়েছে। আশংকা প্রকাশ করে
বলা হয়, এগুলো প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে তা আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
এমনকি একই সঙ্গে সাত খুনের মতো লোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাও
অস্বাভাবিক নয়। এক্ষেত্রে সরকার একাধিক কমিটি গঠন করে প্রতিরোধে করণীয়
নির্ধারণ করে দিতে পারে।

No comments:
Post a Comment