Tuesday, January 3, 2017

বেগমগঞ্জে যুবলীগ কর্মীকে পুকুরে ফেলে হত্যা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুরে পুলিশকে লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় যুবলীগ কর্মীকে নির্যাতন ও পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোকন ওই গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যুবলীগ কর্মী জাকির হোসেন খোকন বাড়ির পাশে তার বন্ধুদের নিয়ে কথা বলছিলেন। থানার ওসি (তদন্ত) জসিম উদ্দিন ও সেকেন্ড অফিসার সাইফুল ভূঁইয়া খোকনকে আটক করে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ও অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করার হুমকি দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে খোকনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে খোকনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। খোকনের চিৎকারে লোকজন ছুটে এলে পুলিশ তড়িঘড়ি করে থানায় চলে যায়। স্বজনরা রাত সাড়ে ৮টায় খোকনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত খোকনের ভাই ফাহাদ বাদী হয়ে ওসি জসিম উদ্দিন ও সেকেন্ড অফিসার সাইফুল ভূঁইয়াকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
ফাহাদ হোসেনসহ তার স্বজনরা যুগান্তরকে জানান, জসিম উদ্দিন ও সাইফুল ভূঁইয়া খোকনের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শারীরিক নির্যাতন ও লাথি মেরে পাশের ডোবায় ফেলে দিলে তার মৃত্যু হয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপির কাছে ওসি জসিম উদ্দিন ও সেকেন্ড অফিসার সাইফুল ভূঁইয়ার বিচার দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ওসি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে যুগান্তরকে জানান, যুবলীগ কর্মী জাকির হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে থানায় মাদকসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। পুলিশ দেখে দৌড়ে পাশের ডোবায় লাফ দিয়ে মারা যান তিনি। সেকেন্ড অফিসার সাইফুল ভূঁঁইয়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে জানান, পুলিশ দেখা মাত্রই খোকন পাশের ডোবায় লাফ দিয়ে মারা যান। বেগমগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান সাজু যুগান্তরকে বলেন, ‘জাকির হোসেন খোকন যুবলীগ কর্মী কিনা আমি জানি না। তবে তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় ও সোনাইমুড়ী থানায় ইয়াবা ও মাদক মামলা রয়েছে।’ খোকনের ভাই ফাহাদ বাদী হয়ে জিডি করেছেন। ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে অবশ্যই মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

No comments:

Post a Comment