হাজিরানামার
পরিবর্তে কারাগারে পৌঁছানো হয়েছে জামিননামা। আর এ জামিননামায় কারাগার
থেকে বেরিয়ে গেল র্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া চাঞ্চল্যকর ৭ লাখ পিস ইয়াবা
মামলার দুই আসামি। মুক্তি পাওয়া দুই আসামি হল- মোহাম্মদ শরীফ হোসেন ও
মোহাম্মদ সামছুল। দুই আসামির জামিনে মুক্তি পাওয়া নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য
সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পতেঙ্গা থানার জিআরও
এএসআই হারুন ও কনস্টেবল বোরহান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা
তদন্তে সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জামিন পাওয়া
সামছুলকে বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থেকে পুনরায় গ্রেফতার করেছে র্যাব।
জানা গেছে, ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত দুই আসামিকে আদালতে
রিমান্ড শুনানিতে উপস্থিত করার জন্য হাজিরা পরোয়ানা ইস্যুর আদেশ দেন। ৯
জানুয়ারি রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পতেঙ্গা থানার
দায়িত্বপ্রাপ্ত জিআরও হাজিরা পরোয়ানার পরিবর্তে আসামিদের মুক্তি পরোয়ানার
আদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান। কারা কর্তৃপক্ষ মুক্তি পরোয়ানা
পেয়ে যথানিয়মে ৮ জানুয়ারি বিকালে চাঞ্চল্যকর এ মামলায় দুই আসামি মোহাম্মদ
শরীফ হোসেন ও মোহাম্মদ সামছুলকে মুক্তি দেন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা
পতেঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) ফৌজুল আজিম শুক্রবার যুগান্তরকে জানান, ৭ লাখ
পিস ইয়াবা মামলায় এত তাড়াতাড়ি আসামি জামিন পাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
আসাম জামিন পাওয়ার বিষয়টি আদালতে খোঁজ নিয়ে দেখব। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয়
কারাগারের জেলার মাহাবুবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, আসামির জামিননামার কাগজ
কারাগারে পৌঁছার পর যথানিয়মে আমরা আসামিদের মুক্তি দেই। কেননা জামিননামা
পাওয়ার পর আসামি আটকে রাখার এখতিয়ার আমাদের নেই।
১০ জুন বিষয়টি জানাজানি
হলে আদালতজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ওইদিন চট্টগ্রাম আদালতের
অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া বিষয়টি
যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের আদেশ দেন। জিআরও’র দায়িত্বে অবহেলা ও
জালিয়াতির কারণে আসামিরা কারাগার হতে মুক্তি পেয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ
করেন। মুক্তি পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুর
আদেশ দেন। আদেশে আরও উল্লেখ করেন, আদালত আসামিদের জামিন/মুক্তি দেয়ার আদেশ
প্রদান না করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট জিআর শাখার জিআরও এএসআই হারুন কিভাবে
জেলখানায় আসামিদের মুক্তি পরোয়ানা পাঠালেন এ বিষয়ে তাকে ৩ দিনের মধ্যে
লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়। একই সঙ্গে আসামিরা কিসের ভিত্তিতে কারাগার
থেকে বের হল তার প্রমাণপত্রসহ (সংশ্লিষ্ট জিআর শাখা থেকে প্রেরিত আসামিদের
মুক্তি পরোয়ানা) ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে চট্টগ্রাম কারাগারের জেল
সুপারকে নির্দেশ দেন। এএসআই হারুনকে জিআরও’র দায়িত্ব থেকে
প্রত্যাহারপূর্বক এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করে ফলাফল আদালতকে জানাতে বলা
হয়েছে। এদিকে সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জিআরও মোহাম্মদ হারুন এবং কনস্টেবল বোরহানকে আদালত থেকে বুধবার প্রত্যাহার
করা হয়েছে। তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্তি করা হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, গত
বছরের ২৬ নভেম্বর রাতে র্যাব-৭ কর্ণফুলী নদীতে এফবি রিফা নামক বোটে অভিযান
চালিয়ে ৭ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ৭ জনের মধ্যে ৪
জন মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা), তারা হলেন নবী হোসেন, ইসাক, শরিফ হোসেন ও
নুরুল আমিন। এদের মধ্যে ট্রুলারের মাঝি নবী হোসেন ৩০ বছর এবং শরিফ ১৩ বছর
আগে অবৈধভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে পরিচয় গোপন করে বসবাস করছে। বাকি
দু’জন ট্রুলারের ইঞ্জিনম্যান ইসাক ও নুরুল আমিন ছোটবেলায় বাবা-মার সঙ্গে
কক্সবাজারে এসে পরে চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়। আটক হওয়া বাকি তিনজন
হল- কক্সবাজারের ফারুক ও সামছুল এবং বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকার ফারুক
হোসেন। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা করা হয়, যার নম্বর পতেঙ্গা ২৩(১১)১৬।
গ্রেফতার ৭ জনের মধ্যে মোহাম্মদ শরীফ হোসেন ও মোহাম্মদ সামছুল জামিনে
বেরিয়ে গেছেন। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর ও
দক্ষিণ) পরিতোষ ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের জন্য
পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন। র্যাব ৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ
উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আসামির জামিন পাওয়া নিয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না। ৭
লাখ পিস ইয়াবাসহ কর্ণফুলী নদী থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করে পতেঙ্গা থানা
পুলিশের কাছে আমরা সোপর্দ করি। মামলাটি পতেঙ্গা থানা পুলিশ তদন্ত করছে। তবে
জামিন পাওয়া দুই আসামির বিষয়ে আমাদের জানানোর পর আমরা কক্সবাজার থেকে
মোহাম্মদ সামছুলকে গ্রেফতার করে কক্সবাজার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি।
অপরজনকে ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছি।

No comments:
Post a Comment