Monday, January 2, 2017

উত্তরপ্রদেশে এবার দুই বৌমার লড়াই

উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতা নিয়ে যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে তার মূলে রয়েছে দুই বৌমার লড়াই। দু’দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে বহিষ্কার করেছিলেন বাবা মুলায়ম সিং। সমাজবাদী পার্টি প্রধান মুলায়মের ওই পদক্ষেপে অনেকেই ভেবেছিলেন ওটা বাবা-ছেলের মনোমালিন্য। তবে, মনোমালিন্যের অবসান ঘটিয়ে হোক আর নিজের শক্তি প্রদর্শন করেই হোক ২৪ ঘণ্টার আগেই দলে ফিরে এসেছিলেন অখিলেশ। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানিয়েছে, আসন্ন ভোটের সমাজবাদী পার্টির অন্দরের লড়াইটা আসলে হতে চলেছে মুলায়ম সিং যাদবের দুই বৌমার। অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের স্ত্রী ডিম্পল এবং অখিলেশের সৎ-ভাই প্রতীকের স্ত্রী অপর্ণার।
পর্দার আড়ালে সংঘাতের আবহে জড়িয়ে পড়েছেন দুই পুত্রবধূ। অখিলেশ শিবির মনে করে, বাবা-ছেলের মনোমালিন্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে মুলায়মের দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা এবং তার বৌমা অপর্ণার। এই দু’জন মিলেই অখিলেশ-ডিম্পলের বিরুদ্ধে মুলায়মকে উস্কে দিচ্ছেন। এমনকি এই নেতাদের দাবি, অপর্ণা রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠার পর থেকেই মুলায়মের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে অখিলেশের। নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন মুলায়মের ভাই শিবপাল এবং অমর সিং। সাধনা মনে করেন, প্রতীকেরও সমান অধিকার রয়েছে লক্ষেœৗর গদিতে। কিন্তু কুস্তিগির প্রতীক রাজনীতিতে আগ্রহী নন। সাধনার বাজি তাই অপর্ণা। ডিম্পল ইতিমধ্যেই লোকসভার এমপি হয়ে রাজনীতির ময়দানে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছেন। তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন বিয়ের ১০ বছরের মাথায়। সেখানে মাত্র পাঁচ বছর আগে বিয়ে হওয়া অপর্ণা ইতিমধ্যেই আসন্ন ভোটে লক্ষেœৗ ক্যান্টনমেন্ট আসনের ঘোষিত প্রার্থী। তাকে জেতাতে পূর্ণ শক্তিতে নেমে পড়েছেন শিবপাল। সাবেক কংগ্রেস, বর্তমান বিজেপি নেত্রী রীতা বহুগুণা জোশী বরাবর জিতে এসেছেন এই আসনে। অপর্ণার জন্য তাই সহজ কোনো আসন চেয়েছিলেন সাধনা। বারণ করেন অপর্ণাই। এক দিন সাংবাদিক পিতাকে তিনি বলেছিলেন, বিয়ে করলে প্রতীককেই করবেন। তেমনই এখানেও জানিয়ে দেন, হারা আসন থেকে জিতে এসেই সক্রিয় রাজনীতিতে পা দেবেন তিনি।
নাম ঘোষণার পর থেকেই ওই বিধানসভা এলাকায় মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন সমর্থকদের ‘অপর্ণা দিদি।’ শিবপাল জানেন, ‘অখিলেশ কাঁটা’ সরাতে হবে দাদার পরিবারের কাউকে দিয়েই। প্রতীক রাজি নন, তাই অপর্ণাই বাজি। সাধনা-শিবপাল-অমরের গ্রুপ চায়, অপর্ণাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে। যে তরুণ নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখিয়ে অখিলেশ প্রচার চালাচ্ছেন, সেই যুক্তিতেই বয়সে আরও ছোট অপর্ণাকে তার বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচনে যেতে চান তারা। তাই শুরু থেকেই এই ত্রিমূর্তি মুলায়মকে চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন, কোনোভাবেই যেন ভোটের আগে অখিলেশকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা না হয়। ‘দ্বিতীয়া’র আব্দার ফেলতে পারেননি সত্তরোর্ধ্ব মুলায়ম। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন। অখিলেশ ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, অপর্ণা জিতলে মুলায়মকে প্রভাবিত করে তাকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাতে চাইবেন শিবপালরা। কারণ, সে ক্ষেত্রে তারা সহজেই সরকারের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারবেন। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অখিলেশের অস্ত্র হতে পারেন ডিম্পল। স্ত্রীকে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী পদপার্থী হিসেবে তুলে ধরতে পারেন তিনি। নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিও সহায়ক হবে অখিলেশের। তিনি বার্তা দিতে পারেন, ডিম্পল কুর্সিতে বসলেও নেপথ্যে থাকবেন সেই অখিলেশ যাদবই। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই, সে ক্ষেত্রে যাদব পরিবারে ক্ষমতার চাবিকাঠির মূল লড়াইটা হয়ে দাঁড়াবে ডিম্পল বনাম অপর্ণা।

No comments:

Post a Comment