Monday, January 2, 2017

বছরজুড়ে সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত তুরস্ক

উদীয়মান শক্তি তুরস্ক ২০১৬ সালে প্রত্যক্ষ করেছে বহু সন্ত্রাসী হামলা। এসব হামলায় স্বদেশী কুর্দি জঙ্গি এবং ইসলামী উগ্রপন্থীরা জড়িত বলে দায়ী করছে সরকার। হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি ঘটেছে নববর্ষের শুরুতে তুরস্কের বৃহত্তম নগরী ইস্তা¤ু^লের একটি নাইট ক্লাবে। এতে ১৬ বিদেশীসহ অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে আংকারায় এক পুলিশ কর্মকর্তারা গুলিতে মারা যান তুরস্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত। সন্ত্রাসী হামলার আশংকায় নববর্ষের রাতে ইস্তাম্বুলে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৭ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। দেশটির সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলা সংক্ষেপে তুলে ধরা হল।
১৯ ডিসেম্বর : বিশ্রামে থাকা এক পুলিশ সদস্য গুলি করে তুরস্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কারলভকে হত্যা করে। এ সময় হামলাকারী চিৎকার করে বলে, আলেপ্পোকে ভুলো না।
১৪ ডিসেম্বর : মধ্যাঞ্চলীয় শহর কেসেরিতে সামরিক বাসে আত্মঘাতী হামলায় ১৪ সেনা নিহত এবং আরও বহু সেনা আহত হন। নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেক) সন্ত্রাসী শাখা কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফ্যালকনস (টিএকে) হামলার দায় স্বীকার করে।
১০ ডিসেম্বর : ইস্তাম্বুলে ফুটবল ম্যাচ শেষে জোড়া বোমা হামলায় ৪৪ জন নিহত এবং ১৬৬ জন আহত হন। হাতাহতদের বেশিরভাগই পুুলিশ সদস্য। টিএকে এ হামলার দায় স্বীকার করে।
৯ অক্টোবর : দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেমদিনলির একটি পুলিশ ফাঁড়িতে গাড়িবোমা হামলায় ১৯ জন নিহত হন। এ হামলার জন্য পিকেকেকে দায়ী করা হয়।
২৬ আগস্ট : সিরীয় সীমান্ত সংলগ্ন কুর্দি অধ্যুষিত শহর সিজরে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় ১১ পুলিশ সদস্য নিহত হন। পিকেকে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
২০ আগস্ট : সিরীয় সীমান্ত সংলগ্ন গাজিয়ানটেপ শহরে কুর্দিদের বিয়েতে তিনটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৪ শিশুসহ ৫৭ জন নিহত হন। এ হামলার জন্য আইএসকে দায়ী করা হয়েছে।
২৮ জুন : তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কামাল আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল হলের প্রবেশপথে তিন আত্মঘাতী বন্দুক হামলার পর নিজেদেরও বোমা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। নিহত হয় অন্তত ৪৭ জন। এজন্য আইএসকে দায়ী করা হয়।
৭ জুন : ইস্তাম্বুলের ফাহেত জেলার বেইজিত এলাকায় একটি পুলিশ বাসে গাড়িবোমা হামলায় ৭ পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হন ১১ জন। আহত হন ৩৬ জন। চারজন সন্দেহভাজন আটক করা হয়।
৩১ মার্চ : দক্ষিণ-পূর্ব কুর্দি অধ্যুষিত এ দিয়ারবাকিরের একটি বাসস্টেশনে গাড়িবোমা হামলায় ৭ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং আহত হন ২৭ জন।
১৯ মার্চ : ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্রে পর্যটকপূর্ণ একটি ব্যস্ত এলাকায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৪ বিদেশী পর্যটক নিহত এবং আহত হন ৩৬ জন।
১৩ মার্চ : আংকারায় গাড়িবোমায় ৩৭ জন নিহত হন। আহত হন ৭৫ জন। টিএকে এ হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করে।
১৭ ফেব্রুয়ারি : আংকারার কাছে সেনাবাহিনীর বাস লক্ষ্য করে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ২৭ সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন ৬১ জন।
১২ জানুয়ারি : সুলতান আহমেদ স্কয়ারে আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৪ জনই জার্মান পর্যটক।
১০ অক্টোবর ২০১৫ : আংকারায় কুর্দিপন্থী এক র‌্যালিতে দুই আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১০২ জন নিহত এবং অন্তত ২৪৮ জন আহত হন। আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা এটি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা এ হামলা চালায়। এএফপি।

No comments:

Post a Comment