মোবাইল
ফোনে কলড্রপ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি এবং
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নানা চেষ্টা-তদবির করেও কমাতে পারছে না কলড্রপ
ভোগান্তি। শতকরা ৩ ভাগের বেশি কলড্রপ হলে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ
দিয়েছিল বিটিআরসি। কিন্তু কোনো অপারেটরই এ নির্দেশনা মানছে না। এছাড়া
অপারেটরদের নানা ধরনের অফার সংবলিত ‘কল’ ও ‘শর্ট মেসেজ সার্ভিসে’ও (এসএমএস)
গ্রাহকরা অতিষ্ঠ। এ অবস্থায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডাক ও
টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এ ভোগান্তি নিরসনে রোববার তিনি সব
মোবাইল অপারেটরের সিইওদের ডেকে পাঠান। বেলা ৩টায় সচিবালয়ের কার্যালয়ে
প্রতিমন্ত্রী তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক
দফা ডেটলাইন ঠিক করে দেয়ার পরও কোয়ালিটি সার্ভিস ও কলড্রপের বিষয়ে কোনো
অগ্রগতি না হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ডাক ও টেলিকম বিভাগ।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি এ বিষয়ে কঠোর হয়নি বলেও মনে করছেন ডাক ও টেলিকম
বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় কলড্রপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে
বলে অপারেটরদের হুশিয়ার করে দিয়েছে টেলিকম বিভাগ। বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড.
শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ডাক ও টেলিকম বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য
একটি লিখিত আদেশ জারির বিষয়ে কমিশনের সর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোয়ালিটি সার্ভিসের ব্যাপারে বিটিআরসি কোনো কম্পোমাইজ করছে না।
সামনেও করবে না। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কলড্রপ কিভাবে হচ্ছে ও কি পরিমাণ
হচ্ছে তা নিরসনে বিটিআরসি উন্নত ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে।
মনিটরিং টিম ইতিমধ্যে এ প্রযুক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে।
আগে মোবাইল ফোন
অপারেটরদের ডাটার ওপর নির্ভর করে আমাদের কল ড্রপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে
হতো। এখন আর তাদের ওপর নির্ভর করতে হবে না। এখন বিটিআরসিই কলড্রপের ডাটা
তৈরি করে অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। মোবাইল ফোনে কলড্রপের
কারণে প্রতি বছর গ্রাহকদের ৩৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছে
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে
নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ১১ কোটি ৭০ লাখ। এরমধ্যে প্রতিদিন কলড্রপ হয় ১
কোটি ৬০ লাখ মিনিট। সর্বনিম্ন কল রেটের মূল্য ৬০ পয়সা ধরলে প্রতিদিন
কলড্রপের কারণে গ্রাহকের ক্ষতি হয় ৯৬ লাখ টাকা। যা মাসিক আকারে দাঁড়ায় ২৮
কোটি ৮০ লাখ টাকা। অভিযোগে জানা গেছে, কলড্রপ যেমন বেড়েছে, পাশাপাশি মোবাইল
ফোন অপাটেরদের কিছু সার্ভিসে বিরক্ত হচ্ছেন গ্রাহক। সময়ে-অসময়ে পাঠানো
মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রচারণামূলক এসএমএসে অতিষ্ঠ মানুষ। এমনকি গভীর
রাতেও এসব এসএমএস আসছে। যদিও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
(বিটিআরসি) থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা আছে, ‘রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা
পর্যন্ত কোনো প্রচারণামূলক ফোন করা বা এসএমএস পাঠানো যাবে না।’ এ
নির্দেশনার তোয়াক্কাই করছে না অপারেটরগুলো। গত ৪ বছর ধরে চেষ্টা করেও ‘ডু
নট ডিসটার্ব’ নামে একটি গাইডলাইন তৈরির কাজ শেষ করতে পারেনি বিটিআরসি। জানা
গেছে, নেটওয়ার্কের কারণে ভয়েস কল ড্রপ হলে এক মিনিট ক্ষতিপূরণের ঘোষণা
ফলাও করে প্রচার করেও ‘গ্রাহকদের না জানিয়েই’ কিছুদিন আগে তা বন্ধ করে
দিয়েছে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। একই ধরনের প্রতারণার শিকার
বাংলালিংক, রবি ও টেলিটক গ্রাহকরাও। বাংলাদেশে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরদের
মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহকদেরই বেশি অর্থ গুনতে হয়। কয়েক কোটি প্রিপ্রেইড
গ্রাহককে ১০ সেকেন্ড পালসের বিল পদ্ধতিতে আটকে রেখেছে কোম্পানিটি, বিপরীতে
পোস্টপেইডের ক্ষেত্রে এক সেকেন্ড পালস। গ্রামীণফোনের প্রিপেইড ও পোস্টপেইড
গ্রাহকদের কোনো হিসাব কোম্পানির কর্মকর্তারা দিতে না চাইলেও এ শিল্প
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর পোস্টপেইড গ্রাহকের সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি নয়; যার
অর্থ দাঁড়ায় গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের ৯৫ শতাংশ প্রিপেইড গ্রাহক।

No comments:
Post a Comment