কুমিল্লার
মুরাদনগরে প্রতিবন্ধী কিশোরীর শ্লীলতাহানীর ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশের পর
অভিযুক্ত নজরুল ইসলামসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে
মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ জেলার হোমনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। দুপুরের দিকে
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অপর ৩ জন হচ্ছে-
নজরুলের বাবা আবদুল কুদ্দুছ, বোন রোজিনা আক্তার, ভাবী আমেনা বেগম। বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এর আগে পত্রিকায়
প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গত সোমবার দুপুরে স্বপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্ট
নজরুলকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ প্রদান করে। পুলিশ জানায়,
জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকার শ্রীকাইল ইউনিয়নের
ভাঙ্গানগর গ্রামের আবদুল কুদ্দুছের ছেলে বখাটে যুবক নজরুল ইসলাম এক
প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গত ২৩ ডিসেম্বর ওই এলাকার অনয় ব্রিকস নামের একটি
ইটভাটায় নিয়ে শ্লীলতাহানী করে। এ সময় ওই প্রতিবন্ধী চিৎকার করলে স্থানীয়রা
ওই গ্রামের বখাটে নজরুলকে আটক করে। এরপর প্রভাবশালীদের চাপের মুখে নজরুলকে
ছেড়ে দেয়া হয়। এ খবর শুনে প্রতিবন্ধীর ভাই নিজাম উদ্দিন ঘটনার প্রতিবাদ
করলে তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে বখাটে নজরুল ও তার
সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা আহত নিজামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। মঙ্গলবার বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি
মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জেলার হোমনা উপজেলার আলগীরচর থেকে নজরুলকে, অপর ৩
জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জোনারচর থেকে গ্রেফতার করা
হয়েছে এবং তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভিকটিমের মা
নিলুফা বেগম তার মেয়েকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ দাখিলের পর গত ৭ জানুয়ারি ৫
জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়।

No comments:
Post a Comment