ন্যাপ-কমিউনিস্ট
পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩শ ৬৭ সদস্যের
মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিতে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
রাষ্ট্রপক্ষের করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি
সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম এবং মুক্তিযোদ্ধাদের
পক্ষে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর
বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন
জারি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও
বিচারপতি আবু তাহের মো: সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। ওই
রায়ে গেরিলাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রাপ্য সব ধরণের
সুযোগ সুবিধা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৪
জুলাই গেরিলা বাহিনীর ওই ২ হাজার ৩শ ৬৭ জন যোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে
স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট জারি করে সরকার।
পরে নতুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
দায়িত্ব নেয়ার পর কোনো কারণ ছাড়াই ওই গেরিলাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি
বাতিল করে ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে। মুক্তিযোদ্ধার
স্বীকৃতি বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর পঙ্কজ
ভট্টাচার্য হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। তিনি ওই গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি
কমান্ডার ও ইউনাইটেড ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ঐক্য ন্যাপ) সভাপতি। পরে
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিশেষ গেরিলা
বাহিনীর সদস্যদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল করে জারি করা প্রজ্ঞাপনটিকে
কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল
জারি করেন। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। গত ৮
সেপ্টেম্বর এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে
গেরিলাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির নির্দেশ দেয়া হয়। যার বিরুদ্ধে
রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও আপিল বিভাগে হাইকোর্টের আদেশই বহাল রয়েছে।

No comments:
Post a Comment