Sunday, January 29, 2017

বরিশালে স্কুল ক্যাম্পাসে ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশালে স্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকে দশম শ্রেণীর ছাত্র সাইয়েদুর রহমান হৃদয়কে (১৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে এক দল কিশোর দুর্বৃত্ত। শনিবার সকাল ১০টার দিকে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরেশ সাগর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও এক ছাত্রকে জখম করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, পার্শ্ববর্তী টেকনিক্যাল কলেজের কিছু ছাত্র প্রায়ই ওই স্কুলের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করত। হৃদয় এর প্রতিবাদ জানানোয় তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী সবাই ছিল ১৪ থেকে ১৫ বছরের কিশোর। নিহত হৃদয় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার শাহিন গাজীর ছেলে। আহত আরেক ছাত্র গোলাম সাফিন রাফিকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন রাফি জানায়, স্কুল মাঠে হৃদয়কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে ১০-১২ অস্ত্রধারী। এ সময় সে ও কয়েকজন অভিভাবক এগিয়ে গেলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় হৃদয়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে পেছন থেকে তার ওপরও হামলা করে দুর্বৃত্তরা। হৃদয়কে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাফি আরও জানায়, টেকনিক্যাল কলেজের কিছু ছাত্র প্রায়ই বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করত। কয়েক দিন আগে হৃদয় এর প্রতিবাদ জানালে তার সঙ্গে টেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রদের তর্ক হয়। এর জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা তার।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে হৃদয় স্কুল মাঠে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ১৪-১৫ বছরের বেশ কয়েকজন কিশোর আচমকা হৃদয়ের ওপর হামলা করে। তারা রামদা দিয়ে হৃদয়কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। হৃদয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে শত শত সহপাঠী-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হয় হৃদয়কে একনজর দেখার জন্য। হৃদয়ের বাবা শাহিন গাজী ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েকবার জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদয় নগরীর জর্ডন রোডের মা-সনি আবাসিক কোচিং সেন্টারের ছাত্র ছিল। সে ওখানে থেকেই পড়াশোনা করত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া জেসমিন জানান, বছর দুয়েক আগে স্থাপিত এ বিদ্যলয়টির মূল ক্যাম্পাস নগরীর রুপাতলীতে। সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এ কারণে নগরীর টেকনিক্যাল কলেজ এলাকায় সরকারি জিলা স্কুলের কয়েকটি ভবনে বর্তমানে ক্লাস চলছে এবং সংলগ্ন পরেশ সাগর মাঠকে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অস্থায়ী এ ক্যাম্পাসে সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতরা প্রায়ই ক্যাম্পাসে ঢুকে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে সাইদ ও শাহীন নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এরা বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। হৃদয়ের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আবুল কালাম আজাদ বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেফতারে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টিকে মেয়ে বা প্রেমঘটিত বিষয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত করে মূল বিষয়টি জানানো যাবে। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে জানান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান। তিনি বলেন, হত্যাকারী যারাই হোক তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।

No comments:

Post a Comment