Monday, January 9, 2017

ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টেও আসছে পরিবর্তন: চাকরি গেল শীর্ষ ২ কর্মকর্তার

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের পর এবার পরিবর্তন আসছে ম্যানেজমেন্টেও। সোমবার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে যোগ দিয়েছেন মো. আবদুল হামিদ মিঞা। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অন্য ব্যাংকের কর্মকর্তাকে এই ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির শীর্ষ ২ কর্মকর্তা—এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) এন আই খান ও কবির হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
অবশ্য রবিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আরাস্তু খান বলেছিলেন ‘সুনির্দিষ্ট অপরাধ ছাড়া কারও চাকরি যাবে না।’ কিন্তু তার এই ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই ওই দু’জনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে রবিবার রাতেই এই দু’জন কর্মকর্তাকে ব্যাংকে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চাকরি করতেন এন আই খান ও কবির হোসেন। বৃহস্পতিবার ব্যাংকে নতুন নেতৃত্ব আসার পর ওই দু’জনের নিয়োগের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। এ কারণে রবিবার রাত ৮ টার দিকে তাদের ব্যাংকে না আসার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ওই ২ কর্মকর্তা ছাড়াও একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও (ডিএমডি) সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাকে আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর বাইরে মধ্যম সারির আরও কয়েক ডজন কর্মকর্তা রয়েছেন পর্যবেক্ষণে।
এদিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে ব্যাংকটি। সোমবার পর্যন্ত ১৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন শাখায় পোস্টিংও দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীর তালিকা অনুযায়ী আরও ২৫০জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ঢাকার রমনা, হেড অফিস কমপ্লেক্স ভবন ও ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখায় একজন করে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। অফিসার হিসেবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় এক কর্মকর্তাকে দুই ধাপ ওপরে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যিনি একটি বিশেষ ব্যবসায়ী গ্রুপের ফাইলপত্র দেখতেন।
নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন ব্যাংকটির একজন পরিচালক। তিনি বলেন, ‘একমাস আগে বোর্ডসভায় একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—নতুন লোকবলের প্রয়োজনে ছোটখাটো পোস্টে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিতে পারবেন। এজন্য বোর্ডের অনুমতি বা পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ওই সভায় ১০ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।’
এর আগে বৃহস্পতিবার অপসারিত হন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আনোয়ার। এরও আগে ব্যাংকটির পর্ষদে থাকা জামায়াত নেতাদের সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় বিশ্বাসীদের। মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটিতে ১৬ জন নতুন পরিচালক যোগ দেন। 
এই পরিবর্তনের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ছাঁটাই আতঙ্ক কাজ করছে। তবে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, কাউকে রাজনৈতিক কারণে ছাঁটাই করা হবে না। এদিকে ইসলামী ব্যাংকের এই পরিবর্তনে পর নতুন দায়িত্বে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন একজন এমডি ও চারজন ডিএমডি নিয়োগের অনুমোদন নিতে গত রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠায় ইসলামী ব্যাংক। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নিয়োগ অনুমোদন করে রবিবারই আবার চিঠি পাঠানো হয় ইসলামী ব্যাংকে। চার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টকে (ইভিপি) পদোন্নতি দিয়ে ডিএমডি নিয়োগ করা হয়। নতুন চার ডিএমডি হলেন কোম্পানি সচিব আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, করপোরেট ডিভিশন-১ প্রধান মোহন মিয়া, করপোরেট ডিভিশন-২-এর প্রধান মনিরুল মওলা ও মোহাম্মদ আলী।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমডি পরিবর্তনের বিষয়ে তারা আমাদের কাছে অনুমোদন চেয়েছে আমরা অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি।’
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের কোম্পানি সচিব হিসেবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কোম্পানি সচিব জাহিদুল কুদ্দুস মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিন ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার যেকোনও গ্রুপ কিনতে পারবে। নিয়মে কোনও বাধা নেই। আবার সেই গ্রুপের পছন্দের লোকদের বসাবে এটাই স্বাভাবিক। একইভাবে ইসলামী ব্যাংকের কোনও কর্মকর্তার মেয়াদ না বাড়ানো কোনও দোষের কিছু নয়। আবার নতুন লোকজন নিয়োগ দেওয়াও কোনও দোষের কিছু নেই।’
>>>বাংলা ট্রিবিউন

No comments:

Post a Comment