আর
মাত্র দু’দিন পর শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭। কয়েক বছর ধরেই
গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্র্দী উদ্যান
প্রাঙ্গণে। মূল প্রকাশনা সংস্থাগুলোর স্টল থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
শনিবার মেলার দু’প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেল বিরামহীনভাবে চলছে স্টল নির্মাণের
কাজ। চারিদিকে পেরেকে হাতুড়ি ঠোকার আওয়াজ। শ্রমিকরা শোলা দিয়ে স্টল সজ্জার
কাজ প্রাথমিকভাবে শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও চলছে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ। অনেক
প্রকাশনা সংস্থা আবার ইতিমধ্যেই তাদের স্টল নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন। এক
ইউনিটের অনেকগুলো স্টলেরই নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। মেলা ঘুরে দেখা যায়, স্টল
নির্মাণের কাজ শেষ করেছে নন্দিতা, শোভা প্রকাশ, পূর্বা প্রকাশনী, অনিন্দ্য
প্রকাশসহ বেশ কিছু প্রকাশনা সংস্থা। আজ তারা রং দেয়ার কাজ শুরু করবেন বলেও
জানান। কিন্তু কাজে ধীরগতি দেখা গেছে বাংলা একাডেমির অংশের স্টলগুলোতে।
মেলার মূলমঞ্চের তেরপল লাগানোর কাজ শেষ হলে এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি
মূলমঞ্চটি। গত বছর গ্রন্থমেলার শেষদিকে বৃষ্টি অনেকটা তছনছ করে দিয়েছিল
পুরো মেলা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেক অংশে পানি জমেছিল হাঁটু সমান। এবার
বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে তাই প্রতি স্টলের ছাউনি তেরপলের পরিবর্তে টিনের
করা হয়েছে। কিন্তু পানি যেহেতু নিচেও জমে তাই অনেক প্রকাশকই ইট-সিমেন্ট
দিয়ে ভিটি উঁচু করেছেন। এ কাজে তাদের অনেককেই কিছু বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে
বলেও জানান অনেকে। মেলায় উপস্থিত থাকা অবসর প্রকাশনীর ম্যানেজার মাসুদ রানা
জানান, এ কাজে তাদের প্রকাশনাকে আলাদা অর্থ গুনতে হচ্ছে। তবে বেশ কয়েকজন
প্রকাশক জানান, মেলার লটারি এবার ১৭ তারিখের পরিবর্তে ২৩ তারিখে হওয়ায় তারা
স্টল বুঝে পেয়েছেন দেরিতে। তাই অনেকেই সঠিক সময়ে স্টল নির্মাণ ও সাজসজ্জার
যাবতীয় কাজ মেলা শুরুর আগে শেষ করতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ
করেছেন। তবু এবারের মেলা নিয়ে আশাবাদী প্রকাশকরা।
এ ব্যাপারে জ্ঞান ও
সৃজনশীল প্রকাশনীর সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলা একাডেমির সঙ্গে
প্রতিদিনই আমাদের কথা হচ্ছে। তারা আমাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনছেন এবং
সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদিকে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশকদের পক্ষ
থেকে মেলায় প্রবেশের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিউটের দিকের অংশেও যেন
প্রবেশদ্বার থাকে এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয় সে বিষয়টি বলা হয়। এ
ব্যাপারে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে
চিন্তাভাবনা করছি। আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে আলাপ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত
নেয়া হবে। এদিকে, অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী দিনে উদ্বোধন হবে
‘সম্প্রীতির জন্য সাহিত্য’ প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। এটি
এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ। বাংলা একাডেমির আয়োজনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন
করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান
খান বলেন, ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা একাডেমি প্রথমবারের মতো বৃহৎ
পরিসরে সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করে। এরপর বিভিন্ন সময় একাডেমি আন্তর্জাতিক
পর্যায়ের সাহিত্য ও ফোকলোর সম্মেলনের আয়োজন করলেও এবারের আয়োজন নানাদিক
থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। জানা গেছে, এ সম্মেলনে দেশের ছয়জন বিশিষ্ট
লেখক-বুদ্ধিজীবীকে ‘আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন লেখক সম্মাননা ২০১৭’
প্রদান করা হবে। তারা হলেন, জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, রবীন্দ্র
গবেষক আহমদ রফিক, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন
খান জাহাঙ্গীর, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ইমেরিটাস
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। সম্মেলনে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, চীন, রাশিয়া,
পুয়ের্তোরিকো, থাইল্যান্ড, ভারত প্রভৃতি দেশের বিশিষ্ট
কবি-কথাসাহিত্যিক-প্রাবন্ধিক-বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণ
করবেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য থেকেও কবি-লেখকরা
সম্মেলনে অংশ নেবেন। উদ্বোধনের পরবর্তী ৩ দিনে অধিবেশনগুলোর বিষয়বস্তুর
মধ্যে থাকবে কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ-সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য,
অনুবাদ-সাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, শিশু-কিশোর সাহিত্য, ফোকলোর। সম্মেলনে
বাংলাদেশ ও ভারতের লেখকদের উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর সংকলন যুগপৎ ঢাকা ও
কলকাতা থেকে প্রকাশিত হবে। এই সম্মেলনের একটি বিশেষ অংশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর
কবিদের কবিতাপাঠ অনুষ্ঠিত হবে।

No comments:
Post a Comment