ডেমরায়
সুলতানা কামাল সেতুকে গিলে খাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বহাল তবিয়তে
রয়েছে তাদের অবৈধ ইট-বালুর ব্যবসা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে চলছে এ
ব্যবসা। সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে
বেশ দাপটের সঙ্গে চলছে তাদের দখলযজ্ঞ। সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই এ দখলযজ্ঞ
বহাল থাকলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। সরেজমিন দেখা গেছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে
প্রকাশ্যে ভেকু দিয়ে ট্রাক লোড করার সুবিধাসহ পিলারের গোড়ায় গোড়ায় চলছে
ভিটি বালুর ব্যবসা। আর নদীতে ড্রেজার বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে বালু ফেলা হচ্ছে
পিলারের গোড়ায়। প্রতিদিন শত শত ট্রাক লোড করে বালু বিক্রি হচ্ছে সেতুর
নিচে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় আরও ৭-৮টি ইট-বালুর দোকান পরিচালিত হচ্ছে।
এতে পিলারের গোড়াগুলো দুর্বল হয়ে হুমকির মুখে পড়ছে সুলতানা কামাল সেতুটি।
এদিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে সেতুর পিলালের রক্ষা বেষ্টনী ঘেঁষে প্রতিদিন
প্রকাশ্যে বালুর ট্রলার অনলোড করা হয়।
ফলে সেতুর পিলারের রক্ষা বেষ্টনীর
অধিকাংশ অংশ ভেঙে মাটি সরে যাচ্ছে বলেও সেতুটি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। আর
নদী ভরাট করে এবং সেতুর আশপাশ দখল করে এখানে অবৈধ ইট-বালুর ব্যবসা দীর্ঘদিন
ধরে চলছে। ইতিপূর্বে এসব বিষয়ে কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত
হয়েছে। পরে কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে
জরিমানাও করেছে। কিন্তু কিছুতেই দখলদারদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তারা
রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তাদের
ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইট-বালু ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে সেতুর নিচে
প্রকাশ্যে লাকড়ির ব্যবসাও চালাচ্ছেন ২ ব্যবসায়ী। আর গাছের বড় বড় গুঁড়িও
সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান,
মালামাল সরবরাহের কাজে সেতুর নিচে অতিরিক্ত ট্রাক চলাচল করছে। এতে সেতুর
পিলারগুলোর গোড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আর মাঝে-মধ্যে বালু সংকট হলে অনেক
গভীরে চলে যায় ভেকু। তখন পিলারের গোড়ায় মারাত্মক ক্ষতি হয় বলেও জানান তারা।
সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত হলেও মুক্ত
হয়নি ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর দু’পাড়। আর পূর্বের দখলদারেরাই বেহাল
তবিয়তে রয়েছেন। আরও জানা যায়, প্রায় ৪০ জন প্রভাবশালী সুলতানা কামাল সেতুর
নিচে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তারা এসব দেখেও
না দেখার ভান করছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথের
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অমিত কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা আড়াই বছর আগেও সেতুর
নিচের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু পরে তারা আবার দখলে মেতে ওঠে। তবে
বর্তমান দখলদারদের তালিকা এস্টেট অফিসার ঢাকা জোনে এবং ডিসি অফিসেও দেয়া
হয়েছে। শিগগিরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে
সেতুর নিচে এসব দখলদারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হবে। এ বিষয়ে
বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিন মুঠোফোনে
যুগান্তরকে বলেন, গত বছরের শুরুতে আমরা ডেমরায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখল
উচ্ছেদ করে বনায়ন করেছি। তারপরও দখলদাররা বনায়নের পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরি করে
পিলারের গোড়ায় বালুবাহী জাহাজ রেখে মালামাল লোড-আনলোড করছে বলে খবর
পেয়েছি। সেতুর পাশে বিআইডব্লিউটিএর বেশ কিছু জায়গাও দখল হয়েছে। বর্তমানে
উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আমাদের এস্কেভেটরের স্বল্পতায় অভিযান পরিচালনা করা
যাচ্ছে না। তবে শিগগিরই এস্কেভেটরের ব্যবস্থা করে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।

No comments:
Post a Comment