পটুয়াখালীতে
তুচ্ছ ঘটনার জেরে কলেজছাত্র মো. মাহাবুব প্যাদাকে (২০) গলা কেটে হত্যা
করেছে সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পৌর শহরের নিউমার্কেট
চত্বরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মাহাবুব পটুয়াখালী ভোকেশনালের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সবুজবাগ ৯
নম্বর লেনের বাসিন্দা ইউছুফ প্যাদার বড় ছেলে।
মাহাবুব হত্যার বিচার দাবিতে
শুক্রবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। পটুয়াখালীর
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাহেব আলী পাঠান মুঠোফোনে জানান,
আসামিদের আটক করার জন্য অভিযান চলছে মাহাবুবের পরিবারের লোকজন জানায়, ৩-৪
দিন আগে মাহাবুবের ছোট ভাই মাহফুজের সঙ্গে ২ নম্বর বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা
মাংস ব্যবসায়ী জুলফিকারের ছেলে আল আমিন ওরফে কষাই আল আমিন, একতা সড়কের
ভাড়াটে বাসিন্দা পুলিশ সদস্য মোস্তফার ছেলে মিজানুর রহমান, মশিউরের ছেলে
সাইমুন ইসলাম বাপ্পী, গোরাস্তান রোড এলাকার ভাড়াটে বাসিন্দা জিএম জহির
রায়হান ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় মাহফুজের বড়ভাই
পটুয়াখালী ভোকেশনালের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাহাবুব এসে উভয়পক্ষকে শান্ত
করে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেয়। এ কথা তাদের মনঃপুত না
হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে মাহাবুব ও মাহফুজকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
মাহাবুবের
বাবা ইউছুফ প্যাদা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাকবিতণ্ডার বিষয়টি
মীমাংসার কথা বলে মিজানুর ও আল আমিন তাকে (মাহাবুব) চায়ের নিমন্ত্রণ দিয়ে
পৌর শহরের নিউমার্কেট চত্বরে নিয়ে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাহাবুবের
সঙ্গে থাকা তার সহপাঠী একই এলাকার কাওছার আহমেদ জানান, নিউমার্কেট চত্বরে
ওসমানের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে
মাহাবুবকে কোপাতে থাকে। কাওছার ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে একটু দূরে অবস্থান
নিয়ে দেখেন, বেশ কয়েকটি আঘাত মাহাবুব দুই হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে মাহাবুবের গলার নিন্মাংশে আঘাত করলে
শরীর থেকে গলা প্রায় এক তৃতীয়াংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় হামলাকারীরা
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থলে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পর স্থান ত্যাগ
করে। কাওছারসহ স্থানীয়রা আহত মাহবুবকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাহাবুবের অবস্থা আশংকাজনক বলে বরিশাল মেডিকেলে
পাঠায়। বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পথে বাখেরগঞ্জে মাহাবুবের মৃত্যু হয়। মাহাবুবের
বন্ধু রুবেল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মোবাইল ফোনে জানান।
পরে মাহাবুবের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মাহাবুব হত্যার বিচারের দাবিতে পটুয়াখালী
ভোকেশনাল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ
মিছিল করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে হত্যাকাণ্ডের জবাব চেয়ে
আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে। মাহাবুবের বাবা ইউছুফ প্যাদা
দাবি করেন, মিজানুর ও আল আমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন,
বেচাকেনা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বহু অভিযোগ রয়েছে।

No comments:
Post a Comment