ভাতিজির
বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিন্ন স্টাইলে আনন্দ করেছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার
মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম ছানা। অনুষ্ঠানে
অন্য অতিথিরা নেচে-গেয়ে, হইহুল্লোড় করে আনন্দ করলেও মেয়র শটগানের
ফায়ারিংয়ের মাধ্যমে উল্লাস করেছেন। প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেছেন পিস্তলও। এমন
দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে
কুষ্টিয়াজুড়ে। স্থানীয়রা জানান, পৌর মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানার বড় ভাই
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের সাবেক এপিএস
সাইফুল ইসলাম রানার মেয়ের বিয়ে ছিল শুক্রবার। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ের
বিয়ে বলে কথা! বিয়ে উপলক্ষে সাড়ম্বর অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল কয়েক
দিন ধরেই। আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে বাড়িতে গান-বাজনা, নাচ, হইহুল্লোড়
কোনো কিছুর কমতি ছিল না। মঙ্গলবার রাতে বিয়ে উপলক্ষে অনুষ্ঠানে
আত্মীয়স্বজনরা যার যার মতো আনন্দ করেন। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের
অনুষ্ঠানে উল্লাসে মেতে ওঠেন মেয়র ছানাও। তবে মেয়রের উদ্যাপনটা ছিল ভিন্ন
রকম। তিনি শটগান শূন্যে উঁচিয়ে গুলি ছুড়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন।
অস্ত্র
প্রদর্শন করেন প্রকাশ্যে। এ নিয়ে একটি ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে
দেখা যায়- একটি পিস্তল শোভা পাচ্ছে মেয়র ছানার হাতে। বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া
জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে এভাবে
অস্ত্র প্রদর্শন কতটা আইনসিদ্ধ- এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ওসি নুর হোসেন
খন্দকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘কোনো অনুষ্ঠানে ফায়ারিং করতে
গেলে সংশ্লিষ্ট থানার অনুমতি নিতে হয়। ভেড়ামারার পৌর মেয়র সেই অনুমতি
চাননি। আমি কাউকে এ ধরনের অনুমতি দেইনি।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভেড়ামারা
পৌরসভার মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানা বলেন, ‘আমার লাইসেন্স করা শটগান থেকে
বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি ছুড়ে একটু আনন্দ করেছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল।’ ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তি
মনি চাকমা বলেন, ‘আমি অনুমতি দেয়া, না দেয়ার কেউ নই। মেয়র ছানা তার নিজ
নামে লাইসেন্স করা শটগান থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি ফুটিয়েছেন। কী শর্তে
তিনি অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছেন, সেটি তারই ভালো জানার কথা।’

No comments:
Post a Comment