আজ
অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেলা
১১টায় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গভর্নর ফজলে কবিরের মুদ্রানীতি
ঘোষণার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও সহকারী মুখপাত্র
জিএম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো
হয়েছে। এবারের মুদ্রানীতিকেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সতর্ক মুদ্রানীতি
বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ৩ ধরনের চাপ বিবেচনায় নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং
পুঁজিবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশীয় শিল্পের
বিকাশে মুদ্রানীতিতে পদক্ষেপ থাকতে হবে। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, সুদের হার
কমাতে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অনুষ্ঠানে গভর্নর
ফজলে কবির জানান, নতুন মুদ্রানীতি উন্নয়নবান্ধব ও কর্মসংস্থান সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মো. আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে
বলেন, এবারের মুদ্রানীতিতে ক্রেডিট গ্রোথ বা ঋণ প্রবৃদ্ধিতে জোর দেয়া হবে।
জানা গেছে, মুদ্রানীতি ঘোষণার সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে
মুদ্রানীতির ধরন নিয়ে বেশ কয়েকটি সভা হয়েছে। এতে ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ,
সাবেক গভর্নর ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা বিভিন্ন মতামত
জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, বাজারে মুদ্রা সরবরাহের ভঙ্গি কেমন হবে, তাকে
মুদ্রানীতি বলে। এছাড়া মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে
সরকারকে সহায়তা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য বাজেটের সঙ্গে মুদ্রানীতির মিল
থাকতে হয়। বিশ্বব্যাপী মুদ্রানীতি দুই ধরনের হয়। একটি সংকোচন, অপরটি
সম্প্রসারণ। যে নীতিতে বাজারে টাকার প্রবাহ কমানো হয়, সংকোচনমূলক এবং
বাড়ানো হলে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি বলে। কিন্তু বাংলাদেশ দুই বছর ধরে
মাঝামাঝি একটি অবস্থান থেকে মুদ্রানীতি ঘোষণা করে আসছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের
কর্মকর্তারা একে বলছেন সংকুলানমূলক মুদ্রানীতি। এর অর্থ হল প্রয়োজনে সংকোচন
অথবা সম্প্রসারণ। মুদ্রানীতির দুটি কাজ। বাজারে ঋণপ্রবাহ ঠিক রেখে
বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যা মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি)
প্রবৃদ্ধি বাড়াবে। পাশাপাশি মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে মূল্যস্ফীতি
নিয়ন্ত্রণ। অর্থাৎ পরস্পর বিপরীতমুখী দুটি কাজের মধ্যে সমন্বয় করে উপযুক্ত
সিদ্ধান্ত নেয়া।

No comments:
Post a Comment