Tuesday, January 31, 2017

বখাটের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

চাঁদা না পেয়ে সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম রিদওয়ান ইসলাম ওরফে বিভোর (১২)। সে স্থানীয় নাবিস্কো সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। তার বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় পরিবহন ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি যাত্রাবাড়ী থানার ৬০/সি, গোলাপবাগ এলাকায়। স্থানীয় বখাটে আল-আমিন তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। নিহতের চাচাতো ভাই সুমন অভিযোগ করে যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় মান্নান মুন্সীর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে জমি কিনে বাড়ি করেন নজরুল ইসলাম। বাড়ি করার সময় মান্নানের পরিবারের লোকজন তার কাছে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করেন। মান্নান মুন্সীর ছেলে আল আমিন। সেও বিভিন্ন সময় নজরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে হুমকি ধমকি দিত। নজরুল একবার তিন লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ড্রেনেজ লাইনের কাজ করতে গেলে আবারও চাঁদা দাবি করে মুন্সী পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয়েছে।
এসব ঘটনার জের ধরে সোমবার বিকালে আল-আমিন (২৬) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে বিভোরকে। দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতজনিত কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে বিভোরের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিভোরের বন্ধু শাহরিয়ার জানায়, বিভোর ও নয়নসহ তারা বল খেলছিল। এ সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিল আল-আমিন। কোনো কথাবার্তা না বলে আল-আমিন গলিতে ধরে নিয়ে যায় বিভোরকে। ছুরি দিয়ে বিভোরের শরীরে কয়েকবার আঘাত করে। সে (শাহরিয়ার) দূর থেকে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখে চিৎকার করে ওঠে। কেউ আসার আগেই আল-আমিন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ কথা বলার সময় শাহরিয়ার ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল। নিহতের চাচা মো. শহীদ জানান, আল-আমিন স্থানীয় বাসিন্দা। বিকালে বিভোর বল খেলছিল। এ সময় আল-আমিনের গায়ে বল লাগে। এতে আল-আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কয়েকবার ছুরিকাঘাত করে। কেন ছুরিকাঘাত করেছে সেটা নিশ্চিত হতে পারিনি। শহীদের দাবি পারিবারিকভাবে তাদের সঙ্গে কারও শত্র“তা নেই।
নিহত বিভোরের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায়। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বিভোর সবার ছোট। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। র‌্যাবের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং তারা ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেমরা জোনের সহকারী কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম জানান, বিভোর বিকালে তার নিজ বাসার সামনে খেলছিল। তাদের পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও প্রতিবেশী আল-আমিন হঠাৎ এসেই তাকে কয়েক দফা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আল-আমিন এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। চাঁদা না দেয়ায় বিভোরকে হত্যা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার বলেন, কেন আল-আমিনকে হত্যা করা হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পর বিভোরের পরিবারের সদস্যরা মুষড়ে পড়েছে। শোকাহত পরিবারটি ক্রমাগত আহাজারি করছে। তাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। একটু সময় নিয়ে তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। তা ছাড়া বখাটে আল-আমিনকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

No comments:

Post a Comment