সেদিন
এনসিটিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হচ্ছিল। আগে যখন
এনসিটিবিতে বই লেখা ও কারিকুলাম তৈরিতে যুক্ত ছিলাম তখন তাদের সঙ্গে
পরিচয়ের সূত্র তৈরি হয়েছিল। এনসিটিবির বইয়ে ভুলভ্রান্তি নিয়ে চারদিকে
শোরগোল চলছে। এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো কর্মকর্তা শাস্তিও পেয়েছেন।
আমি
স্নেহভাজন এ কর্মকর্তাকে বললাম, ‘তোমাদের ওপর তো বেশ ঝড় বয়ে যাচ্ছে।’ আমি
অবাক হলাম সে সহানুভূতি পাওয়ার মতো কোনো প্রত্যুত্তর করল না। অনুমান করছি
একটু ম্লান হাসি হেসে বলল, ‘এ আর নতুন কী! প্রতিবছরই তো আমাদের ওপর ঝড় বয়ে
যায়।’ এ কর্মকর্তার কথার তাৎপর্য অনুভব করলাম। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, যে
কাঠামো ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে এনসিটিবি জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায়
মাধ্যমিক ও নিন্মমাধ্যমিক পর্যায়ের কারিকুলাম তৈরি করছে তার দায় কে কীভাবে
বহন করছে তা বোঝা ভার। আমি মনে করি, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ এ জায়গাটি নিয়ে নানা পক্ষ এক ধরনের ছিনিমিনি খেলায় মেতেছে এবং
এ খেলাটা অনেক পুরনো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য
স্কুলশিক্ষাকে যূপকাষ্ঠের খাঁড়ার নিচে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি,
ক্ষমতাশালীদের প্রভাব বিস্তার এবং অদক্ষতা তো রয়েছেই। ১৯৯৬-এর অভিজ্ঞতা
দিয়ে শুরু করতে চাই। বিএনপি শাসনের শেষ পর্বে সম্ভবত এডিবির ফান্ডে
মাধ্যমিক ও নিন্মমাধ্যমিক পর্যায়ে কারিকুলামের আমূল পরিবর্তন ও পুস্তক
প্রণয়নের দায়িত্ব নেয় এনসিটিবি। এ বিপুল কর্মযজ্ঞে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল
আমার। নবম ও দশম শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ইতিহাস বইটির সিলেবাস তৈরি ও
পুস্তক প্রণয়নের অন্যতম দায়িত্ব আমার ওপরও ছিল।
নতুন সিলেবাসে আমরা যখন বই
লিখি, সরকার বা অন্য কোনো পক্ষ কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করেনি। ইতিহাস
লিখন পদ্ধতির নিয়ম মেনে আমি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক
ড. রতনলাল চক্রবর্তী সে বইটি রচনা করি। বই মুদ্রিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের হাতে
চলে এলো। এখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ
পর্যন্ত তথ্য-প্রমাণে যা লেখা উচিত ছিল তাই আমরা লিখলাম। বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা
যতখানি এবং যেভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য উপস্থাপনের প্রয়োজন সেভাবেই
উপস্থাপিত হল। জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসসম্মতভাবে যা থাকার কথা,
সেভাবেই থাকল। ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে যে স্বাধীনতার ঘোষণা
পাঠ করলেন তা যথাযথভাবে উপস্থাপিত হল। বিএনপির মাথায় তখনও দুর্বুদ্ধি তৈরি
হয়নি কোনো বিকৃতি আনার। এর অল্প পরই সরকারের পালাবদল হল। ক্ষমতায় এলো
আওয়ামী লীগ। অতি উৎসাহী আওয়ামী ঘরানার কোনো গোষ্ঠী এবার মঞ্চে উপস্থিত হল।
আমাদের লেখকদের অন্ধকারে রেখে সরকারি সংস্কার কমিটি গঠিত হল। তারা
মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়ে অপ্রয়োজনীয় কাঁচি চালাল। খুব বেশি সংস্কারের জায়গা
খুঁজে না পেয়ে আমাদের লেখা বইতে জিয়াউর রহমানকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে,
সেখানে তাকে কিছুটা খাটো করে একেবারে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কয়েকটি লাইন কমিয়ে
দেয়া হল। আর বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা ওয়্যারলেসে
পাঠিয়েছেন, এ তথ্য যুক্ত করা হল। এভাবে পুনঃমুদ্রিত হয়ে বই বাজারে এলো।
বইতে লেখক হিসেবে আমাদের নামই থাকল। কূটকাঁচি চালানো সংস্কারকদের কথা কোথাও
লেখা রইল না।
সব মন্দের দায়ভার লেখকদের ওপরই বর্তালো। আওয়ামী লীগের পর
আবার বিএনপি যখন সরকারে এলো তখন এদের কূটরাজনীতির চোখ খুলে গেছে। তাদের
নেতাকে ছোট করার শোধ তো তারা নেবেই। ইতিহাসের সত্য জাহান্নামে যাক এতে কার
কী! এবার লেখকদের একইভাবে অজ্ঞাতে রেখে বিএনপিও সংস্কার কমিটি গঠন করল।
কমিটি ছক তৈরি করল। ঠিক করা হল কোথাও ‘বঙ্গবন্ধু’ থাকবে না- শুধু শেখ মুজিব
বা মুজিবর রহমান লিখতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আগে জিয়াউর রহমানকে দিয়ে
স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়াতে হবে। এবার আর বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে নয় বা ২৭
মার্চেও নয়, লেখা হল ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। আরও
একটি অদ্ভুত ছক কাটলেন বিএনপির সংস্কার কমিটির কর্তারা। লিখলেন ২৬ মার্চ
রাতে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা ও আওয়ামী লীগের নেতারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে
যাওয়ায় মানুষ হতাশ হয়ে পড়ল। আর তখনই এসে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা
দেয়ায় মানুষ আবার দারুণ তেজে জেগে উঠল এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এভাবে
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কল্পকাহিনী ঢোকানো হল বইতে- এনসিটিবি প্রকাশ করল আর লেখক
হিসেবে রয়ে গেলাম আমরাই। সংস্কার কমিটির অপকর্ম অজ্ঞাত রয়ে গেল। সে সময়
আমি আর আমার সহলেখক অধ্যাপক রতনলাল চক্রবর্তী লিখিতভাবে এনসিটিবির কাছে
প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম; কিন্তু অনুমেয় কারণেই কোনো প্রতিবিধান হয়নি। সরকারি
নির্দেশনায় এভাবে এনসিটিবিকে হুকুম পালন করতে হয়। ২০০৫ সালে আরেকটি
ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে। অনেক দিনের দাবি ছিল এনসিটিবি একক স্কুল পাঠ্যবইয়ের
প্রকাশক হওয়ায় কোনো প্রতিযোগিতা না থাকায় বই ও প্রকাশনার মান বৃদ্ধি হচ্ছে
না। এনসিটিবি কোনো কোনো বই উন্মুক্ত করে দিক। মানসম্মত হলে এবং এনসিটিবি
অনুমোদন দিলে তা ছাপা যেতে পারে। ফলে শিক্ষার্থী এবং স্কুল পছন্দের বই
বাছাই করার সুযোগ পাবে।
এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালে কয়েকটি বইয়ের
প্রকাশনা উন্মুক্ত করে দেয়া হল। এর মধ্যে উল্লিখিত ইতিহাস বইটিও ছিল। শর্ত
ছিল বোর্ডের অভিন্ন সিলেবাসে পাণ্ডুলিপি জমা দিতে হবে। বোর্ডের কমিটি
মূল্যায়ন করে অনুমোদন পেলে মুদ্রণ করে আবার এনসিটিবিতে জমা দিতে হবে মূল্য
নির্ধারণের জন্য। আমি একটি বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থার হয়ে লিখলাম।
এনসিটিবির চেয়ে বইয়ের গুণগত ও মুদ্রণগত মান অনেক ভালো হল। ভালো কাগজ ও
দৃষ্টিনন্দন ছাপায় বই প্রস্তুত হল। শর্ত অনুযায়ী বোর্ড মূল্যনির্ধারণ করে
দিলে ইনার ছেপে বই বাঁধাই করে জানুয়ারির আগেই বই বাজারে আনার প্রস্তুতি
সম্পন্ন হল। এরপর মাস পেরিয়ে গেলেও মূল্যনির্ধারণের কোনো খবর নেই। এর মধ্যে
এনসিটিবি তাদের বই বাজারে নিয়ে এলো। প্রচারের অভাবে অধিকাংশ স্কুল জানলোই
না যে বোর্ডের বইয়ের বিকল্প বইও প্রকাশ পাচ্ছে। দীর্ঘ অভ্যাসবশত এবং না
জানার কারণে বেশিরভাগ অভিভাবক ও স্কুল বোর্ডের বই কিনে ফেলে। এভাবে বই
বাণিজ্য সম্পন্ন হওয়ার পর সম্ভবত ফেব্রুয়ারির শেষে মূল্যনির্ধারণ করে দিল
এনসিটিবি। ফলে এসব বই বাজারে আসতে মার্চ মাস প্রায় পেরিয়ে গেল। তখন আর পাঠক
পাবে কোথায়। এভাবে একচেটিয়া বাণিজ্য ধরে রাখার জন্য জন্মের আগেই এনসিটিবি
একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্পকে হত্যা করল; কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর কি কোনো
জবাবদিহিতা নিয়েছে? নাকি পুরো চক্রের সঙ্গে সবাই কম-বেশি জড়িত সে প্রশ্ন
থেকেই গেল। এবার ২০১১ সালে বর্তমান সরকারের আমলে নতুন শিক্ষানীতি
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আবার নিন্মমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিকুলাম তৈরি
ও গ্রন্থ প্রণয়নের মহাযজ্ঞ শুরু হল।
আমাকেও যুক্ত করা হল। নতুন নিয়ম
পদ্ধতিতে কাজ অনেক বেশি; কিন্তু সময় অনেক কম। শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে আমরা
আক্ষরিক অর্থে রাত-দিন খেটে দায়িত্ব পালনে নিজেদের যুক্ত করলাম। ভালো কিছু
করার জন্য এ চ্যালেঞ্জটিকে গ্রহণ করার একটি প্রত্যয় নিয়ে আমরা ঝাঁপিয়ে
পড়লাম। মনে আছে প্রথম বৈঠকে নতুন চিন্তায় সনাতন ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি,
সমাজ ইত্যাদি না পড়ে ‘বাংলাদেশ এ গ্লোবাল স্টাডিজ’ নামের বিষয়টি বিভিন্ন
শ্রেণীর জন্য ঠিক করা হল। তাৎক্ষণিকভাবে এর বাংলা নামকরণটি আমি করেছিলাম
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’। সবাই সমর্থন করেছিলেন। এ কাজ করতে গিয়ে প্রথম
জানলাম সৃজনশীল পদ্ধতির কথা। বিষয়টি ভালো; কিন্তু লক্ষ্য পূরণ কঠিন। আমি
বলেছিলাম, স্কুলের শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত না করে এ চিন্তাটি কার্যকর করা ঠিক
হবে না। বলা হয়েছিল প্রশিক্ষিত করা হবে। তারপর যা হয়েছে সবাই তো দেখতেই
পাচ্ছে। এভাবে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু হল।
একপর্যায়ে দেখলাম দলে দলে লেখক তালিকাভুক্ত হতে থাকলেন। অনেকে এলেন নানা
প্রভাবশালীর কোটায় অর্থাৎ প্রভাবে। এদের মধ্যে অনেকের স্কুল পর্যায়ে লেখার
বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা নেই। অষ্টম শ্রেণীর পাঠ লেখা হল বিশ্ববিদ্যালয়
পর্যায়ের টার্ম পেপারের মতো করে। এমনিতেই সময় কম। তার মধ্যে এসব পুনঃলিখন
করতে আমাদের ত্রাহি অবস্থা। একসময় ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও
বিশ্বপরিচয় বইয়ের পাণ্ডুলিপি রচনা শেষ হল। কমিটির সদস্য তালিকা লম্বা হল।
বই লেখার দায়িত্ব পালন করলাম পাঁচজন। এ সময় দুটো অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হল। তাতে
এনসিটিবিকে নিয়ে চিন্তায় পড়লাম। তখন মেয়াদোত্তীর্ণ একজন চেয়ারম্যান ছিলেন।
সবাই বলেন তিনি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সদা ব্যস্ত। আমাদের স্বাভাবিক কাজ
করতে দিচ্ছিলেন না। বারবার এসে বলতেন বই ছোট করে লেখেন। প্রধানমন্ত্রী
বলেছেন বাচ্চাদের বইয়ের ভার কমাতে। আমরা বলতাম দেখুন বই বইয়ের মতো করেই
এগোবে। নির্ধারণ করা আছে মোট বছরে ১০৩টি ক্লাস হবে। সেই মতো পাঠ তৈরি করতে
হবে। পাঠের পরিধিও ঠিক করা আছে। প্রধানমন্ত্রী বিনা কারণে বই ছোট করতে
বলবেন কেন?
আমরা কঠিন শ্রমে পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করে বাড়ি ফিরলাম। এবার
মুদ্রণের বাকি কাজ এনসিটিবি করবে। হঠাৎ ঝড়ের কথা জানলাম। শুনলাম একজন
প্রভাবশালী ‘বিশেষজ্ঞ’ এসে জাতিকে দুর্গতির হাত থেকে রক্ষা করতে কয়েকজন
সঙ্গী নিয়ে সম্পাদনার দায়িত্ব নিলেন। বই কেটেকুটে ঠিকই বামন করে দিলেন
তিনি। ইতিহাসের প্রচলিত অনেক ভুল ১৯৯৬ থেকে শুদ্ধ করা হচ্ছিল। হয়তো অজানার
কারণে সেসব শুদ্ধকে ভুল মনে করে আবার ভুল বসানো হল। পাঠ্যক্রম ও লিখন
পদ্ধতির বিধি স্বেচ্ছাতন্ত্রের ঝড়ে উড়িয়ে দিয়ে একটি সনাতন ধারার বই মুদ্রিত
হয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে এলো। আমরা পাঁচজন ছাড়াও কমিটির সবার নাম লেখক
হিসেবে যুক্ত হল। অর্থাৎ জাতীয় এ গুরুত্বপূর্ণ কর্মে যে কতভাবে ছিনিমিনি
খেলা যায় তা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। এবারও আমরা প্রকৃত লেখকরা কর্তৃপক্ষ
বরাবর লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছি এ গ্রন্থের দায় আমরা নিতে পারব না বলে;
কিন্তু পরবর্তী প্রতিক্রিয়া আমরা দেখিনি। এ ধারার পুঞ্জীভূত প্রামাণ্য কথা
অনেক আছে। মহাভারত রচনা করে কী লাভ। শুধু দেশবাসী ও নীতি প্রণয়নকারীদের
কাছে প্রশ্ন, এমন সব পথ মাড়িয়েই কি আমাদের শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হবে? আর
এর দায় নেবেন গিনিপিগ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। একটি সুস্থ নীতি কী
থাকবে না? এনসিটিবির মতো প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে এমন স্বেচ্ছাতন্ত্র চললে
শিক্ষা ক্ষেত্রে ঘোর অন্ধকারই দেখতে হবে।
এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com
এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com

No comments:
Post a Comment