আমার
ধারণা ছিল ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্ভবত রাজনীতি থেকে অবসর না নিলেও আর
সক্রিয় রাজনীতিক নন। তার ওপর দিয়ে সম্প্রতি অনেক শোকতাপ গেছে। সেজন্য
রাজনীতিতে আর সক্রিয় না থেকে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে
দু-একটা মন্তব্য করা এবং বইপত্র লেখার মধ্য দিয়েই সময় কাটাতে চান। অনেকটা
ড. কামাল হোসেনের মতো। তিনিও একটা রাজনৈতিক দলের নেতা বটে, কিন্তু তিনি এবং
তার দল রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় নন। মাঝে মাঝে সভা-সেমিনারে দেশে গণতন্ত্র
নেই বলে বিলাপ করেন এবং সুযোগ পেলে বর্তমান সরকারকে কটাক্ষ করে কথা বলেন।
মওদুদ আহমদের দল ড. কামাল হোসেনের দলের মতো ভাঙা দল নয়। বরং এখনও একটি
শক্তিশালী দল। তার এই দল বিএনপি এখনও বড় গলায় কথা বলতে চায়। ব্যারিস্টার
মওদুদও তাই মাঝে মাঝেই সরব হন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য।
তাই দলের বক্তব্য তার কণ্ঠে শোনা যাওয়ায় বিস্মিত হইনি। বিস্মিত হয়েছি হঠাৎ
রাজনৈতিক বিতর্কমূলক পুরনো কথা নিয়ে তাকে সরব হতে দেখে। এটা বিএনপির পার্টি
নির্দেশনা কিনা জানি না, কিন্তু এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার
সম্পর্কে দলটির বড়-ছোট সব নেতার মুখে একই বক্তব্য শোনা যায়। তারা বলেন, এই
সরকার ছিল অবৈধ এবং তারা দেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এই কথাটা এখন
অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপ্তবাক্য। বিএনপি নেতাদের কণ্ঠেই এই আপ্তবাক্যটি
বেশি শোনা যায়।
এটা পুরনো রেটোরিক। কিন্তু ব্যারিস্টার মওদুদ দেশে এত
রাজনৈতিক ইস্যু থাকতে এই আপ্তবাক্যটি আবার উচ্চারণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী
কমিটির আরেক সদস্য খোন্দকার মোশাররফ হোসেনের ওই এক-এগারোর সরকারের ওপর লেখা
একটা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে। খবরটা জানার পর আমার
বিস্ময় দূর হয়েছে। মওদুদ আহমদের সঙ্গে একটা বিষয়ে সহমত পোষণ করি, অবশ্যই
এক-এগারোর সরকার অবৈধ ও অসাংবিধানিক ছিল। কিন্তু এই সরকারই কি দেশে
গণতন্ত্র হত্যা করেছে এবং রাজনীতিবিদ ও দেশের সঙ্গে প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা
করেছে? তিনি একজন চতুর ব্যারিস্টার। তাকেই সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করি
মইন-ফখরুদ্দীন যখন দেশে ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন কি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিল?
না, একজন দলীয় রাষ্ট্রপতি দলের নির্দেশে তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে
অবৈধভাবে ভাঙাগড়ার খেলা খেলছিলেন এবং নিজেকেই নিজে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা বলে ঘোষণা করেছিলেন? বিএনপি মনোনীত এই রাষ্ট্রপতি
ইয়াজউদ্দিন (অনেকে বলতেন ইয়েসউদ্দিন) বঙ্গভবনে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের তৎকালীন ভবন এবং তার পুত্র তারেক রহমানের
হাওয়া ভবন থেকে টেলিফোন নির্দেশ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন। তার
স্বেচ্ছাচারিতায় তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন ব্যতীত সব উপদেষ্টা
একযোগে পদত্যাগ করেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করেই নিজের
পছন্দসই কয়েকজনকে উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। এখানেই ইয়াজউদ্দিন থামেননি। তিনি
সেনা কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে ঘোষণা করেন, ‘তার নির্দেশেই এখন সরকার চলবে।
কারণ, এখন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আছে তা আসলে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার।’
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদই বলুন, নিজের খেয়ালখুশিমতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন
এবং তাকে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারে রূপান্তরের কোনো এখতিয়ার সংবিধানে
রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়েছে কি? ইয়াজউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত ওই সরকার কি আদৌ
গণতান্ত্রিক অথবা সাংবিধানিক সরকার ছিল? ইয়াজউদ্দিনের এই অবৈধ সরকারটি ছিল
একদিকে বিএনপি এবং অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্টের সমর্থননির্ভর সরকার। পরে
ক্যান্টনমেন্ট এই সমর্থন প্রত্যাহার করায় তিনি সুবোধ বালকের মতো তাদের
নির্দেশ নতমস্তকে মেনে নেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পদে তার
পছন্দের লোকদের সরিয়ে সেনাবাহিনীর পছন্দের লোকদের বসান। প্রধান উপদেষ্টা
পদটিও তিনি ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে ছেড়ে দেন।
এই হল এক-এগারোর ইতিহাস। একটি
অগণতান্ত্রিক, দলীয় ফ্যাসিবাদের আজ্ঞাবাহী সরকারকে সরিয়ে সেনাসমর্থিত সরকার
ক্ষমতায় বসেছে। দেশের মানুষ প্রথমদিকে এই এক-এগারোর সরকারকে সমর্থন
দিয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগও প্রথমে এই সরকারের বিরোধিতা করেনি। কারণ, তা না
হলে দেশে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হতো। দেশ সত্যি সত্যিই গৃহযুদ্ধের
একেবারে দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছিল। এই অবস্থাটা ঘটিয়েছিল মওদুদ আহমদের দল
বিএনপিই। ২০০১ সালে শেখ হাসিনা তার সরকারের মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে
একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এবং
নির্বাচনে নানা গোপন ম্যানিপুলেশন হওয়া সত্ত্বেও পরাজয় মেনে নেন। কিন্তু
২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের মেয়াদ শেষ হতেই দেখা গেল তত্ত্বাবধায়ক
সরকার গঠনে বিএনপি নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিতে চাচ্ছে। ব্যারিস্টার মওদুদ
বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে নিজেও এই ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছিলেন।
তিনি বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়স বাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের কাউকে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চক্রান্ত শুরু করেছিলেন। বিএনপির এই
চক্রান্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অদলীয়, নিরপেক্ষ চরিত্রটি আর ছিল কি?
রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন স্বঘোষিতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়ে নিজের
পছন্দের (বিএনপির পছন্দের) লোকদের উপদেষ্টা নিয়োগের পর সংবিধান এবং
গণতন্ত্র কোনোটারই মর্যাদা রক্ষা হয়েছিল কি? তত্ত্বাবধায়ক
সরকার-ব্যবস্থাটিকে ব্যর্থ ও পক্ষপাতিত্বমূলক করে তোলার জন্য বিএনপি এই
ব্যবস্থায় শুরু থেকেই চক্রান্ত করে আসছে। প্রচণ্ড গণআন্দোলনের মুখে খালেদা
সরকার যখন ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হন, তখন
মধ্যরাতে সংসদের বৈঠক ডেকে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে এমনভাবে তত্ত্বাবধায়ক
ব্যবস্থার আইন পাস করেন, যেখানে সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব উপদেষ্টাদের হাতে
থাকলেও দেশরক্ষা ও সেনাবাহিনীসংক্রান্ত দফতর রাষ্ট্রপতির হাতে থেকে যায়। সে
সময়ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস। ’৭১ সালের ভূমিকার
জন্য যাকে বলা হতো রাজাকার রাষ্ট্রপতি।
বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান তখন
ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। তার সরকারের অধীনে যাতে একটি অবাধ
নির্বাচন হতে না পারে, সেজন্য জাতির উদ্দেশে দেয়া তার প্রথম টেলিভাষণ
কীভাবে গোপনে কর্তন করা হয়েছিল এবং ক্যান্টনমেন্টে সেনাবিদ্রোহ উসকে দেয়া
হয়েছিল তার নেপথ্য ইতিহাস মওদুদ আহমদ নিশ্চয়ই জানেন। সেই সেনাবিদ্রোহে
সেনাবাহিনীর যে উপপ্রধান তখন আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রক্ষা করার কাজে এগিয়ে
এসেছিলেন, তিনি এখন বিএনপির একজন প্রধান নেতা। বিএনপি এখন নির্বাচন কমিশন
গঠনের স্বচ্ছতা নিয়ে হায় মাতম শুরু করেছে। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে
নির্বাচন কমিশন ছিল দুর্নীতিপরায়ণ এবং তাদের হাতের পুতুল। বিএনপিকে
নির্বাচনে জেতানোর জন্য এই নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল,
তাতে হাজার হাজার ভুয়া ভোটারের অন্তর্ভুক্তি পরে ধরা পড়ে। বিএনপির অভিযোগ,
এক-এগারোর সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। আমার প্রশ্ন, দেশে গণতন্ত্র তখন
কোথায় ছিল যে, এক-এগারোর সরকার তাকে হত্যা করল? গণতন্ত্র নামক পাঁঠাটিকে তো
বিএনপি বহুদিন আগেই হত্যা করে তার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানিয়ে ফেলেছিল।
মওদুদ আহমদ যে ক’টি সরকারের মন্ত্রিত্ব করেছেন, তার অধিকাংশই ছিল
ক্যান্টনমেন্টসমর্থিত সরকার। গণতন্ত্র ও দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা যদি কেউ
করে থাকেন, তাহলে তারাই করেছেন যারা অনির্বাচত, অগণতান্ত্রিক সরকারগুলোকে
সহযোগিতা দিয়েছেন এবং তাদের চাকরি করেছেন। বিচারপতি সাত্তারের সরকার ছিল
একটি নির্বাচিত সরকার। সেই নির্বাচিত সরকারের মওদুদ আহমদও একজন মন্ত্রী
ছিলেন।
সেই সরকারের পতনের পর সেনাসরকার যখন ক্ষমতায় এলো, দু’দিন পর দেখা
গেল মওদুদ আহমদ প্রথমে তাদের দ্বারা জেলে গেলেও পরে তাদের মন্ত্রী হয়েছেন।
আজ সেই মওদুদ আহমদ গণতন্ত্রের জন্য কাঁদছেন। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ
গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল। বিএনপির অনুগত ইয়াজউদ্দীনের অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক
সরকার বন্দুকের পাহারায় গায়ের জোরে এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে
চাচ্ছিল যাতে বিএনপি আবার ক্ষমতা দখল করতে পারে। দলমত নির্বিশেষে দেশের
মানুষ ছিল এই একতরফা কারসাজির নির্বাচনের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ মহাজোট গঠন
করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। দেশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের
ভয়াবহ আশংকা দেখা দিয়েছিল। ঠিক এ সময় জেনারেল মঈন তার সেনাবাহিনী নিয়ে
ইয়াজউদ্দীনের গণবিরোধী ষড়যন্ত্র বানচালে এগিয়ে আসেন। সেনাপ্রধান জেনারেল
মঈন ইচ্ছা করলে তখনই ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারতেন। তিনি তা করেননি।
অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ড. ইউনূসকে দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ
জানিয়েছিলেন। ড. ইউনূসই তার স্থলে ড. ফখরুদ্দীনের নাম প্রস্তাব করেন।
মুখ্যত, সিভিলিয়ানদের দ্বারাই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যে
সরকারের উদ্দেশ্য ছিল দেশকে গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করা এবং একটি অবাধ ও
সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান দ্বারা একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা
হস্তান্তর। এজন্যই দেশের মানুষ প্রথমে এক-এগারোর সরকারকে সমর্থন দিয়েছে।
অনেকেই বলেছেন, এটা ছিল অ্যাক্ট অব গড। এই সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ সন্ত্রাস ও
দুর্নীতির আখড়া হাওয়া ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া। তারেক-বাহিনীর অত্যাচার থেকে
দেশকে মুক্ত করা এবং তারেক রহমানকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা, যে কাজটি
কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে করা সম্ভব হতো না। পরবর্তী ধাপে
সেনাসমর্থিত এই সরকার পথভ্রষ্ট হয়েছে। দশচক্রে ভগবান যেমন ভূত হয়, তেমনি
হয়তো সেনাপ্রধান জেনারেল মইন এবং তার সহযোগীদের মনেও ক্ষমতায় স্থায়ীভাবে
থাকার ইচ্ছা থেকে স্বৈরাচারী মনোভাব দেখা দেয়। তাদের এই মনোভাবে উৎসাহ
জোগানোর জন্য আওয়ামী লীগের বিরোধী একটি সুশীল সমাজও তখন কম তৎপরতা দেখায়নি।
ফলে মাইনাস টু থিয়োরির উদ্ভব, জেনারেল মইনের সমর্থক একটি রাজনৈতিক গ্রুপ
গঠনের চেষ্টা ইত্যাদি। সেই সঙ্গে শুরু হয় রাজনৈতিক নেতানেত্রী ও কর্মীদের
ওপর নির্যাতন, শিক্ষক-ছাত্র ও ব্যবসায়ী নির্যাতন।
এক-এগারোর সরকার দ্রুত
জনসমর্থন হারায় এবং এই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। এ
গণঅসন্তোষের মুখেই দেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং
নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এক-এগারোর সরকার বিদায় নেয়।
এখানেই মওদুদ আহমদ এবং বিএনপির অন্যান্য নেতানেত্রীর গাত্রদাহ। দেশের
রাজনীতিতে আকস্মিকভাবে এক-এগারোর হস্তক্ষেপ না ঘটলে মওদুদ সাহেবেরা এখনও
গণতন্ত্রের নামে তাদের দলতন্ত্রের ঘোড়া দেশময় দাবিয়ে বেড়াতে পারতেন।
নির্যাতিত হতো সেই ঘোড়ার পদপিষ্ট মানুষ। ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো
না। গণতন্ত্র নয়, তালেবানতন্ত্র বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতো। এক-এগারোর সরকার
একটি অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকার ছিল একথা সত্য। কিন্তু দেশের সঙ্গে
বিশ্বাসঘাতকতা ও গণতন্ত্র হত্যা তাদের দ্বারা হয়নি। তারা রাজনীতিকদের পীড়ন
এবং গণনির্যাতন করেছেন একথা যেমন সঠিক, তেমনি একথাও সত্য যে, তারা দেশকে
একটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ এবং একটি দলের ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা থেকে
রক্ষা করে গেছেন। দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং গণতন্ত্র হত্যার কাজটি
বাংলাদেশে শুরু হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই।
যারা ছিলেন তখন দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, গণতন্ত্র হত্যা, এমনকি
স্বাধীনতাযুদ্ধের মৌলিক আদর্শগুলো হত্যার পুরোধা, তারাই এখন ‘উদোর পিণ্ডি
বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইতিহাসের সত্য তারা খণ্ডাতে
পারবেন কি?

No comments:
Post a Comment