কুড়িগ্রামের
রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন
রোগিরা। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যার স্থলে ৫১ শয্যায় উন্নীত করা
হলেও জনবলের অভাবে চালু হয়নি বর্ধিত সেবা কার্যক্রম। অসংখ্য সমস্যায়
জর্জরিত হাসপাতালটি। ডাক্তার নেই, নার্স, ওয়ার্ডবয় স্বল্পতা, আয়া নেই,
সুইপার নেই, অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট, এক্স-রে মেশিন অকেজো, ফ্যান নষ্ট, স্বল্প
সংখ্যক বাল্ব, রাতের বেলা হাসপাতাল চত্বরে বিরাজ করে ভুতুড়ে পরিবেশ। খোঁজ
নিয়ে জানা যায়, এখানে মঞ্জুরীকৃত ডাক্তারের পদ রয়েছে- উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ
পঃ কর্মকতা ১ জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১ জন, মেডিকেল অফিসার ১ জন, জুনিয়র
কনসালটেন্ট গাইনি ১ জন,
জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেসথেসিয়া ১ জন, জুনিয়র
কনসালটেন্ট মেডিসিন ১ জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী ১ জন, ডেন্টাল সার্জন
১ জনসহ ৯ জন। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ
কর্মকর্তা। ৮টি পদে কোন ডাক্তার নেই। টিএইচএ-সহ তিনজন ডাক্তার থাকলেও মো:
এহসানুল কবির (কোড নং ১২৬৩৩৮), ও মো: মশিউর রহমান (কোড নং ১৩৪৪৯৩) বদলী
আদেশ নিয়েছেন। মেডিকেল অফিসার মো: আমিনুর রহমান প্রেষণে দীর্ঘদিন ধরে রংপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। দাঁতভাঙ্গার স্যাকমো ডা: মো: খাইরুল কবির ও
স্যাকমো যাদুরচরের মেডিকেল অফিসার মো: শাহাবুল বাশার এ্যানথেসিয়া
প্রশিক্ষণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শৌলমারীর স্যাকমো অনুপ কুমার
বিশ্বাস রয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এব্যাপারে রৌমারী
উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তার মাহফুজার রহমান বলেন, ‘আমি এই অঞ্চলেরই
মানুষ, এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বার বার
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট ডাক্তার চেয়ে আবেদন করছি। এখানকার যোগাযোগ
ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ডাক্তার থাকতে চান না। ইতোমধ্যে দুইজন ডাক্তার বদলী
আদেশ নিয়ে এসেছেন।’
ডাক্তার না থাকার কারণে তাদের অনুরোধ করে ক’দিনের জন্য
রেখেছেন বলে জানান তিনি। তবে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নিবেদিত
প্রাণ হিসেবে মানুষের সেবা দিচ্ছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার
ডাক্তার দুলাল চন্দ্র পাল ও ডাক্তার অলক কুমার সরকার। প্রায় ৫০ লাখ টাকার
এক্স-রে মেশিনটি সরবরাহের পর থেকেই নষ্ট, অ্যাম্বুলেন্সটিও একই অবস্থা।
রৌমারী থেকে জেলা শহর ও পার্শ্ববর্তী বড় মেডিক্যাল কলেজ ময়মনসিংহ
মেডিক্যালের দূরত্ব প্রায় ১শ’ কিলোমিটার। তাই হাসপাতালটিতে অ্যাম্বুলেন্সের
অভাবে অকালে অনেক প্রাণ ঝরে যায়। এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি রৌমারী
হাসপাতলে ডাক্তারদের শূন্য পদগুলো পূরণ করে এক্স-রে মেশিন ও
অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা হোক।

No comments:
Post a Comment