Sunday, January 15, 2017

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ

প্রায় সোয়া ২ বছর পর ধানমণ্ডিতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় নেতাদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। এরই মধ্যে আগামী নির্বাচনের ইশতেহার নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনে কঠিন সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার গত নির্বাচনী ইশতেহারের চেয়েও বেশি কাজ করেছে। তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের মাঝে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। এ সময় কার্যালয়ের সামনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে সেখান থেকে কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অপেক্ষমাণ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এরপর দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয় ও কার্যালয়ের জন্য কেনা নতুন ভবনগুলো ঘুরে দেখেন শেখ হাসিনা। গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম নিজ কার্যালয়ে যান শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সর্বশেষ গিয়েছিলেন তিনি। মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা আরও বলেন, নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। সবার ভেতরে সততা থাকতে হবে। এটি না থাকলে কোনো কাজই ভালোভাবে হয় না।
সবাইকে জনগণের কাছে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কাজগুলোর কথা তাদের জানাতে হবে। জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে খুন-খারাবি বেড়ে যায়। দেশের উন্নয়নের কথা বলে তারা নিজের উন্নয়ন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হয়। গত তিন বছরে যে কাজ করার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি কাজ হয়েছে। আওয়ামী লীগ যা বলে, তা-ই করে। পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে পদ্মা সেতু করছি। আমরা পারি, এটি তার দৃষ্টান্ত। বিশ্বের অন্যান্য দেশ আমাদের এ উদ্যোগ দেখে অনেকেই নিজ থেকে তাদের দেশে সেতু নির্মাণে উদ্যোগী হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করে। আওয়ামী লীগ নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য কাজ করে। এটাই হল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে পার্থক্য। সব শেষে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, দলের নেতাদের সামনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির আলোচনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, কার সঙ্গে আলোচনা করব? যারা একুশে আগস্ট আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করেছিল, তাদের সঙ্গে? যারা আমার দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে? বিএনপি নেত্রীর ছেলে মারা গেল, আমি তাকে সান্ত্বনা দিতে গেলাম। বাসার গেট বন্ধ করে আমাকে ঢুকতে দেয়া হল না। অপমান করা হল। আমি গেয়েছিলাম, সান্ত্বনা দিতে...
অথচ আমাকে ঢুকতে দেয়া হল না। যারা সামান্য সৌজন্যবোধ জানে না, তাদের সঙ্গে সংলাপ? কোনো খুনির সঙ্গে সংলাপে বসতে পারি না। তাদের হাতে রক্ত। তারা খুনি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন যথাসময়েই হবে। বিএনপি অংশ নেবে কি নেবে না, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইন করার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এত তাড়াহুড়া করে তো আর আইন করা যাবে না। সাত দিনের মধ্যে তো আর কোনো আইন করা যাবে না। তবে আমরা আইন করার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করব। আগামী নির্বাচন কমিশন যেন আইনের মধ্যে থেকে করা যায়, সে উদ্যোগ নেয়া হবে। উপদেষ্টা পরিষদের এক নেতা প্রস্তাব করেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকার করে না, বঙ্গবন্ধুর সর্ম্পকে জানে না, তাদের রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেয়া যাবে না। এমনকি এমন কেউ পেয়ে থাকলে তা বাতিল করতে হবে। দলের উপদেষ্টা পরিষদে এ প্রস্তাবকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা স্বাগত জানান।

No comments:

Post a Comment