Monday, January 23, 2017

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জ

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী কৃষিপ্রধান, ব্যবসা ও প্রবাসীনির্ভর অঞ্চল দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রত্যন্ত এই জনপদ বর্তমানে উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে। আগে যেখানে মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে গন্তব্যে যেতে হতো, এখন সেখানে তৈরি হয়েছে পাকা সড়ক। নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে ব্রিজ। বর্তমান সরকারের তিন বছরে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের প্রচেষ্টায় এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে যাচ্ছে। দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় গড়ে উঠেছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন, বিলাসবহুল বাড়িঘর, প্রাইভেট ক্লিনিক, মোবাইল ব্যাংকিং, সাইবার ক্যাফে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টার। এক সময়কার অবহেলিত এ অঞ্চলের প্রায় সর্বত্রই পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। সন্ধ্যার পরই আলোকিত হয়ে উঠছে গ্রামের প্রতিটি ঘরদুয়ার। নেই কোনো সাম্প্রদায়িকতা। মসজিদ, মন্দির, গির্জার মিলনমেলায় একাকার হয়ে আছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। উৎসবের আমেজ যেন সবার দুয়ারে। তথ্যপ্রযুক্তিতেও এগিয়ে চলেছে দোহার-নবাবগঞ্জ। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে সামান্য খরচে তৃণমূলের জনসাধারণ পাচ্ছেন জন্মসনদ, ভিসা যাচাই ও অনলাইনে চাকরির আবেদন করার মতো অতি জরুরি সেবাগুলো। ইতিমধ্যে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ অ্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও দোহারের পদ্মা কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। যার ফলে এই অঞ্চলের কৃষক-শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হয়েছে।
এখানে উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে দুটি সরকারি হাসপাতাল। ইউনিয়ন পর্যায়ে আছে কমিউনিটি ক্লিনিক যার মাধ্যমে এখন জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। সার-বীজসহ কৃষি উপকরণেরও কোনো অভাব নেই এ অঞ্চলে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সার্বিক সহায়তায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন গ্রামে আইপিএম ক্লাব। যেখানে কৃষকরা সদস্য হয়ে জানতে পারছেন কৃষি আবহাওয়ার সংবাদ, কীটনাশক ছাড়াই ফসলের রোগবালাই দমনের পদ্ধতি ইত্যাদি। এতে করে বিগত সময়ের চেয়ে কৃষিতে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। অবহেলিত দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাকে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি। এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে নবাবগঞ্জে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্দেশনায় এলজিএসপি-২, এডিপি, টিআর, কাবিখাসহ উন্নয়নের এসব কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সার্বিক আইনশৃংখলাও ভালো আছে। ইতিমধ্যে কালীগঙ্গা নদীর ওপর পাড়াগ্রাম-সিরাজপুর সেতু ও ইছামতি নদীতে ধাপারী-বাজার-গবিন্দপুর সেতু, নবাবগঞ্জের অবহেলিত পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতে বান্দুরা নূরনগর সেতু ও জামসা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া দোহারের লটাখোলা করমআলীর মোড় এলাকার সেতুসহ বেশকিছু ব্রিজ ও কাঁচা-পাকা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। দোহারের বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, বাঁশতলা থেকে পদ্মা তীর মৈনটঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার হওয়ায় কষ্ট লাঘব হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী ছিল। স্থানীয় এমপি সালমা ইসলামের প্রচেষ্টায় উন্নয়ন কাজটি সম্ভব হয়েছে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পুরনো ভবন সংস্কারের পাশাপাশি নতুন ভবনও নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, বর্তমান সরকার গ্রাম ও শহরের ব্যবধান কমিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নবাবগঞ্জে এমপি সালমা ইসলামের প্রচেষ্টায় অনেক উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। এমপি কোটায় ২০ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। দরপত্র আহবান হয়েছে আরও ২৩ কোটি টাকার। এছাড়া আরও ২৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে, যা চলতি বছরের মধ্যে শুরু করা যাবে। নবাবগঞ্জের বাসিন্দা ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম মাস্টার বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জ এখন শান্ত-সৃষ্ট অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। মানুষের ধারণাও বদলে গেছে। আগের মতো এখন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, জমি-বাড়ি দখলের ঘটনা আর শোনা যায় না।

No comments:

Post a Comment