Tuesday, January 31, 2017

টেক্সাসের সেই মসজিদ নির্মাণে ব্যাপক সাড়া

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যে একটি মসজিদ পুড়িয়ে দেয়ার পরপরই তা আবারও নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন মুসলমানরা। মসজিদটি নির্মাণের জন্য সাড়ে আট লাখ ডলার তহবিল চেয়ে আবেদন জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছয় লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ জোগাড় হয়েছে। অনলাইনে গণচাঁদার মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদি, খ্রিস্টান ও নাস্তিকদেরও অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। খবর আল-জাজিরার। শুক্রবার সাতটি মুসলিম দেশের শরণার্থীদের প্রবেশ ও নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে আদেশ জারি করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর সেদিনই রাত ২টায় দক্ষিণ-পূর্ব টেক্সাসের ‘ভিক্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার’ নামের মসজিদটি পুড়িয়ে দেয়া হয়। ‘বাইবেল প্রধান’ নামে পরিচিত উগ্র খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাটিতে ২০০০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
এর এক বছর পরেই টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার ঘটেছিল। তবে এ মসজিদে আগুনের ঘটনায় ভিক্টোরিয়া শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার তৈরি হয়েছে। মসজিদটির কর্মকর্তাদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন অন্য ধর্মের সাধারণ মানুষ এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মুসলমানরাও মসজিদটির সামনে ছুটে আসেন। এর মধ্যে ভিক্টোরিয়া থেকে চার ঘণ্টা দূরত্বের হিউস্টন ও ডালাসে বসবাসকারী মুসলমানরাও ছিলেন। আগুন দেয়ার ঘটনায় জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক সহানুভূতি পাওয়ার পর মসজিদটি পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। এজন্য তহবিলের আবেদন জানালে অনলাইনে ‘গোফান্ডমি’ নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছয় লাখ ডলার গণচাঁদা পাওয়া যায়। গোফান্ডমির পেজে গিয়ে দেখা গেছে, চাঁদাদাতাদের মধ্যে মুসলমানদের পাশপাশি অনেক ইহুদি, খ্রিস্টান এবং নাস্তিক ব্যক্তিও রয়েছেন। ইউরোপ থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আগত ইহুদিদের বংশধর বেঞ্জামিন টাম্বার রোজেনাউ মসজিদটি নির্মাণে ১০০ ডলার দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ইহুদিরা যেমন ইউরোপে আক্রান্ত হয়েছিলাম তেমনি আমেরিকাতে আরেকটি সম্প্রদায়কে (মুসলমান) ভিত্তিহীন ঘৃণার শিকার হতে দেখছি। এ কাজে আমাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ সরকারের বড় অংশ সহযোগিতা করছে।’ মার্টিন ওয়াগনার নামে আরেকজন চাঁদাদাতা বলেছেন, ‘আমি একজন খ্রিস্টান। আপনাদের (মুসলমানদের) সঙ্গে যা হয়েছে তাতে আমি কষ্ট পেয়েছি এবং হতাশ হয়েছি।’ ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্যাতন থেকে মুক্তির স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভিক্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট শহীদ হাশমি বলেন,
শনিবার সকালে মসজিদটি পুড়তে দেখে আমরা শোকাহত হয়ে পড়ি। তবে জনগণের কাছ থেকে সহানুভূতি এবং সহযোগিতা পেয়ে অভিভূত হাশমি। তিনি বলেন, যেভাবে হৃদয়গ্রাহী সাড়া পাচ্ছি তা অবিশ্বাস্য। আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ মসজিদটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সাড়ে আট লাখ ডলার তহবিল জোগাড় হয়ে যাবে বলেও জানান হাশমি। যার ভবনে মসজিদটি স্থাপন করা হয়েছে এরই মধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ভবন মালিক মসজিদ পুনর্নির্মাণে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং ভবন পুনর্নির্মাণের অনুমতি বাকি আছে। এরপরই মসজিদটি নির্মাণ শুরু হয়ে যাবে। হাশমি বলছেন, ইনশাল্লাহ আগামী রমজান আমরা নতুন মসজিদেই পালন করব। এদিকে মসজিদে আগুন লাগার কারণ এখনও জানাতে পারেনি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ভিক্টোরিয়া অগ্নিনির্বাপক দফতর। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) ভিক্টোরিয়া পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক দফতর ও অ্যালকোহল-টোব্যাকো-আগ্নেয়াস্ত্র বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে।

No comments:

Post a Comment