সুনামগঞ্জের
দিরাইয়ে জলমহাল দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষের সময় গুলিতে তিনজন
নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মঙ্গলবার উপজেলার
কুলঞ্জ ইউনিয়নের ঘোরামারা সাতপাকিয়া জারলিয়া জলমহালের পাশে যুবলীগ নেতা
একরার হোসেন একরামের সমর্থকদের সঙ্গে ইজারাদার পক্ষের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ
নেতা মাসুক চৌধুরী ও এয়াহিয়া চৌধুরীর সমর্থকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে হাতিয়া গ্রামের ছান উল্যার ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৫) ঘটনাস্থলেই মারা
যান। অপর দু’জনকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নিয়ে যাওয়ার পর মারা যান। তারা দু’জন হলেন- আকিলনগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার
ছেলে শাহরুল ও একই গ্রামের আমান উল্লাহর ছেলে উজ্জ্বল মিয়া। নিহতরা একরামের
লোক বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হাতিয়া গ্রামের মিরাস
মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৪), সুনাফর (২৭) এবং উত্তর সুরিয়ারপার গ্রামের সাহেব
আলীর ছেলে মালেক মিয়াকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্যদের বিভিন্ন জায়গায়
চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সংঘর্ষের সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা
আহাদ ঘটনাস্থলে ছিলেন। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার
দিকে যুবলীগ নেতা একরামের নেতৃত্বে তার লোকজন জারলিয়া জলমহাল দখল করতে যায়।
এ সময় ইজারাদার দক্ষিণ নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক
ধনঞ্জয় দাসের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই তাজুল
ইসলাম নিহত হন। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জে
পাঠিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় গুলিতে নিহত শাহরুল ও উজ্জ্বল মিয়ার লাশ
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিল। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
আবদুল জলিল জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইজারাদার ধনঞ্জয় দাসের পক্ষের ইউনিয়ন
আওয়ামী লীগ নেতা মাসুক চৌধুরী জানান, সরকারকে যথাযথ খাজনা দিয়ে আমরা জলমহাল
ভোগদখল করে আসছি। বেলা ১১টার দিকে একরাম ও তার বাহিনীর ৩০-৩২ জন
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমাদের খলাঘরে মৎস্যজীবীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ
সময় দিগ্বিদিক পালাতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। কিছু দিন আগেও একরাম
ও তার বাহিনীর লোকজন বন্দুক, পাইপগান নিয়ে আমাদের জলমহালে প্রবেশ করে মাছ
লুট এবং খলাঘর দখল নিতে গুলি চালিয়েছিল। ঘটনা সম্পর্কে একরার হোসেন ওরফে
একরাম বলেন, ইজারাদারদের কাছ থেকে তিনি ছয় বছরের জন্য সাব-লিজ নিয়ে জলমহাল
দখলে রেখেছি। এখন ওই জলমহাল দখলে নেয়ার জন্য প্রতিপক্ষের লোকজন আমার
লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করেছে।

No comments:
Post a Comment