Wednesday, January 18, 2017

ভোটারদের ভয়ভীতি ও চাপ দেয়া হয়

জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ, ভোটারদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখানো, এমপিদের আচরণবিধি লংঘনসহ সব ধরনের নির্বাচনী অনিয়ম হয়েছে বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। নবনির্বাচিতরা তাদের কার্যপরিধি জানেন না। সার্বিক বিবেচনায় এটি একটি অথর্ব জেলা পরিষদ গড়ে তোলা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘জেলা পরিষদ নির্বাচন চিত্র ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের তথ্য পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন এসব তথ্য জানায়। আগামীতে জেলা পরিষদে সরাসরি ভোটের বিধান, এমপিদের জেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে রাখার বিধান বাতিল,
জেলা প্রশাসনসহ জেলা পর্যায়ে কর্মরত সরকারের সব বিভাগকে জেলা পরিষদের আওতায় আনাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নবনির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৪ জন স্কুলের গণ্ডি পার হতে পারেননি। অন্তত ৩৮ জনই পেশায় ব্যবসায়ী। বর্তমানে দু’জন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা চলমান আছে। অতীতে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ছিল। ৪ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। বক্তব্য রাখেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও সহসম্পাদক জাকির হোসেন। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনকে নির্বাচন বলা যাবে কিনা এ নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। কেননা নির্বাচন মানে হল চয়েস, বিভিন্ন বিকল্পের মধ্যে ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিতে পারেন। এ নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রার্থী পছন্দের কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন, নিকট-অতীতের সব নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে, টাকার খেলা হয়েছে, কিন্তু এ নির্বাচনে সেগুলোর ষোল কলা পূর্ণ হয়েছে। এ নির্বাচনে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, আবার অনেক জনপ্রতিনিধি জানেও না যে, তারা কেন নির্বাচিত হলেন। সব মিলিয়ে এটি একটি অথর্ব জেলা পরিষদ গড়ে তোলার ব্যবস্থা হয়েছে। দিলীপ কুমার সরকার বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করা উচিত। স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য নির্বাচকমণ্ডলী একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা এই নির্বাচকমণ্ডলীকে সাধারণ ভোটাররা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন; অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে কাজ করার জন্য নয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নবনির্বাচিত ৫৯ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ৪৫ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর, যা মোট প্রার্থীর ৭৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এসএসসি বা তার কম শিক্ষাগত যোগ্যতাস¤পন্ন রয়েছেন ৫ জন। ৪ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির কম। পেশার ক্ষেত্রে দেখা যায়, নবনির্বাচিত ৫৯ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ জনের পেশা ব্যবসা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ জন চেয়ারম্যান পেশায় আইনজীবী।
অন্যান্য নির্বাচনের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, ১৫ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং ১ জনের বিরুদ্ধে উভয় সময়ে ফৌজদারি মামলা আছে বা ছিল। ৩০২ ধারায় অতীতে মামলা ছিল ২ জনের বিরুদ্ধে। এ দু’জন হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন এবং মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রসুল। ২২ জন চেয়ারম্যান বছরে ৫ লাখ টাকার নিচে আয় করেন। বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করেন ৩ জন। ৯ জনের সম্পদ ৫ লাখ টাকার নিচে। কোটি টাকার অধিক সম্পদের ৯ জন মালিকও রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জেলা প্রশাসনসহ জেলা পর্যায়ে কর্মরত সরকারের সব বিভাগকে জেলা পরিষদের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। উপজেলা পর্যায়েও একই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলীর পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ভোটে জেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। সংসদ সদস্যদের জেলা পরিষদের উপদেষ্টা রাখার বিধান বিলুপ্ত করতে হবে। চেয়ারম্যানসহ জেলা পরিষদের সদস্যদের আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান পরিবর্তন করতে হবে।

No comments:

Post a Comment