ছবির
মতো সুন্দর শহর নেপিয়ারেও সৌম্যদের সেই কুৎসিত ব্যাটিং। ফরম্যাট বদলালেও
ব্যাটিংয়ের কদর্য রূপ বদলাল না। তার সঙ্গে যোগ হয় বাউন্ডারিতে দু-দু’বার
কেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ মিস করার দুঃস্বপ্ন। প্রথম অপরাধী সৌম্য সরকার।
নিউজিল্যান্ডের তখন দরকার ৪১ বলে ৬১ রান। ডিপ মিডউইকেটে দড়ির ১০ গজের মধ্যে
সৌম্য। ক্যাচ তো নেয়া হলই না, উল্টো চার হয়ে গেল। দ্বিতীয় অপরাধী ইমরুল
কায়েস। ১৬তম ওভারে লং-অফে যথেষ্ট সময় পেয়েও উইলিয়ামসনের ক্যাচ নিতে পারেননি
ইমরুল। দু’বারই ফিল্ডারদের ভুলে নিউজিল্যান্ড রক্ষা পায় চাপ থেকে। এ দুটি
আউট বাংলাদেশকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারত। কেন না তখন তাদের
সাজঘরে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটসম্যান থাকতেন লুক রনকি। এমন নয় যে, ওই দুটি
ক্যাচে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে যেত। তবে চাপ আরও বাড়ত নিউজিল্যান্ডের ওপর।
সেটি হল না সৌম্য ও ইমরুলের শৈথিল্যে। শেষবেলায় বাংলাদেশের কপালে জুটল ছয়
উইকেটের হার। নেলসন হোক কিংবা নেপিয়ার, ওয়ানডে হোক অথবা টি ২০- সবখানেই
বাংলাদেশের বিবর্ণ ব্যাটিং। দুর্বল ফিল্ডিং। গরিবের যেমন নুন আনতে পানতা
ফুরায় অবস্থা, বাংলাদেশ দলের তেমনি কোনো না কোনো ঘাটতি রয়েই যায়। কোনোদিন
ব্যাটিং ভালো হলে বোলিং খারাপ। আবার বোলিং ভালো হলে ব্যাটিং যাচ্ছেতাই।
আবার কোনোদিন ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সবই চূড়ান্ত হতাশাজনক। বরাবরের মতো
অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা অবশ্য তার সহ-খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ালেন। সৌম্য ও
ইমরুল দু’জনেরই ব্যর্থতা আড়াল করলেন তিনি স্বকীয় ঔদার্যে।
মঙ্গলবার
নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে প্রথম টি ২০তে তাহলে বাংলাদেশ কক্ষচ্যুত হল কোন
জায়গায়? মাশরাফি বলেন, ‘ষষ্ঠ ওভারে আমরা যখন ৩০ রানে চার উইকেট হারিয়ে
বসি।’ লকি ফার্গুসন টি ২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজের প্রথম দুটি ডেলিভারিতে
উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ধাক্কা দেয়। সেখান থেকে সফরকারীদের ১৪১ পর্যন্ত টেনে
নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। টেনে নিয়ে যায় তার ৪৭ বলে ৫২ রানের ইনিংস। মাশরাফি
মনে করেন, অপরপ্রান্ত থেকে যুতসই সমর্থন পেলে মাহমুদউল্লাহ আরও ভালো করতে
পারতেন। নিউজিল্যান্ড সফরে এ পর্যন্ত এই সমর্থনহীনতা বাংলাদেশকে ভোগাচ্ছে।
ম্যাচ-উত্তর কৈফিয়ত পর্বে হতাশ মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘এই ম্যাচের টার্নিং
পয়েন্ট ৩০ রানে আমাদের চার উইকেট হারান। এ বিপর্যয় আমাদের পেছনের দিকে ঠেলে
দেয়। মাহমুদউল্লাহ যদি অমন অবিশ্বাস্য ইনিংস না খেলত, তাহলে আমরা ১৪১ করতে
পারতাম না।’ অধিনায়ক পরক্ষণে যোগ করেন, ‘খেয়াল করলে দেখবেন এই সফরে এ
পর্যন্ত আমরা যে চারটি ম্যাচ খেলেছি, তাতে আমাদের একজন ব্যাটসম্যান রান
করেছেন। এই জিনিসটা আমরা সম্মিলিতভাবে করতে পারিনি। আমি বলতে চাইছি, আমাদের
দুই কিংবা আরও বেশি ব্যাটসম্যান অবদান রাখতে পারেনি। যে ব্যাটসম্যান ভালো
করছে তাকে কেউ যোগ্য সমর্থন দিতে পারছে না। আমি মনে করি, এটা আমাদের জন্য
একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠছে।’ মাশরাফির কথার সারাংশ, দল হিসেবে খেলতে
পারছে না বাংলাদেশ। ক্রিকেট ১১ জনের খেলা। একজনের একটি ফিফটি সেখানে
সিন্ধুতে বিন্দুর মতো। দলের হলটা কী?
বাংলাদেশ
রান বল ৪ ৬
তামিম ক ব্রুস ব হুইলার ১১ ১৩ ১ ০
ইমরুল ক রনকি ব হেনরি ০ ২ ০ ০
সাব্বির ক হেনরি ব ফার্গুসন ১৬ ১৫ ১ ১
সাকিব ক স্যান্টনার ব গ্র্যান্ডহোম ১৪ ১৪ ০ ০
সৌম্য ক অ্যান্ডারসন ব ফার্গুসন ০ ১ ০ ০
মাহমুদউল্লাহ ব ফার্গুসন ৫২ ৪৭ ৩ ৩
মোসাদ্দেক ক অ্যান্ডারসন ব স্যান্টনার ২০ ১৭ ০ ২
মাশরাফি ক গ্র্যান্ডহোম ব হুইলার ১ ৩ ০ ০
নুরুল হাসান নটআউট ৭ ৬ ১ ০
রুবেল নটআউট ২ ২ ০ ০
অতিরিক্ত ১৮
মোট (৮ উইকেটে, ২০ ওভারে) ১৪১
উইকেট পতন : ১/৫, ২/২৮, ৩/৩০, ৪/৩০, ৫/৬৭, ৬/৯৯, ৭/১১৪, ৮/১৩৮।
বোলিং : হুইলার ৪-০-২২-২, হেনরি ৪-০-৪৪-১, ফার্গুসন ৪-০-৩২-৩, গ্র্যান্ডহোম ৪-০-২৩-১, স্যান্টনার ৪-০-২০-১।
নিউজিল্যান্ড
রান বল ৪ ৬
ব্রুম ক সাকিব ব রুবেল ৬ ৭ ১ ০
উইলিয়ামসন নটআউট ৭৩ ৫৫ ৫ ২
মানরো ক নুরুল হাসান ব মোস্তাফিজ ০ ২ ০ ০
অ্যান্ডারসন ক তামিম ব সাকিব ১৩ ১৪ ১ ০
ব্রুস রানআউট ৭ ৯ ০ ০
গ্র্যান্ডহোম নটআউট ৪১ ২২ ৩ ৩
অতিরিক্ত ৩
মোট (৪ উইকেটে, ১৮ ওভারে) ১৪৩
উইকেট পতন : ১/২২, ২/২৮, ৩/৪৬, ৪/৬২।
বোলিং : সাকিব ৪-০-৩০-১, মাশরাফি ৩-০-২২-০, রুবেল ৪-০-৪৩-১, মোস্তাফিজ ৪-০-২১-১, মোসাদ্দেক ২-০-৯-০, সৌম্য ১-০-১৭-০।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)।
বাংলাদেশ
রান বল ৪ ৬
তামিম ক ব্রুস ব হুইলার ১১ ১৩ ১ ০
ইমরুল ক রনকি ব হেনরি ০ ২ ০ ০
সাব্বির ক হেনরি ব ফার্গুসন ১৬ ১৫ ১ ১
সাকিব ক স্যান্টনার ব গ্র্যান্ডহোম ১৪ ১৪ ০ ০
সৌম্য ক অ্যান্ডারসন ব ফার্গুসন ০ ১ ০ ০
মাহমুদউল্লাহ ব ফার্গুসন ৫২ ৪৭ ৩ ৩
মোসাদ্দেক ক অ্যান্ডারসন ব স্যান্টনার ২০ ১৭ ০ ২
মাশরাফি ক গ্র্যান্ডহোম ব হুইলার ১ ৩ ০ ০
নুরুল হাসান নটআউট ৭ ৬ ১ ০
রুবেল নটআউট ২ ২ ০ ০
অতিরিক্ত ১৮
মোট (৮ উইকেটে, ২০ ওভারে) ১৪১
উইকেট পতন : ১/৫, ২/২৮, ৩/৩০, ৪/৩০, ৫/৬৭, ৬/৯৯, ৭/১১৪, ৮/১৩৮।
বোলিং : হুইলার ৪-০-২২-২, হেনরি ৪-০-৪৪-১, ফার্গুসন ৪-০-৩২-৩, গ্র্যান্ডহোম ৪-০-২৩-১, স্যান্টনার ৪-০-২০-১।
নিউজিল্যান্ড
রান বল ৪ ৬
ব্রুম ক সাকিব ব রুবেল ৬ ৭ ১ ০
উইলিয়ামসন নটআউট ৭৩ ৫৫ ৫ ২
মানরো ক নুরুল হাসান ব মোস্তাফিজ ০ ২ ০ ০
অ্যান্ডারসন ক তামিম ব সাকিব ১৩ ১৪ ১ ০
ব্রুস রানআউট ৭ ৯ ০ ০
গ্র্যান্ডহোম নটআউট ৪১ ২২ ৩ ৩
অতিরিক্ত ৩
মোট (৪ উইকেটে, ১৮ ওভারে) ১৪৩
উইকেট পতন : ১/২২, ২/২৮, ৩/৪৬, ৪/৬২।
বোলিং : সাকিব ৪-০-৩০-১, মাশরাফি ৩-০-২২-০, রুবেল ৪-০-৪৩-১, মোস্তাফিজ ৪-০-২১-১, মোসাদ্দেক ২-০-৯-০, সৌম্য ১-০-১৭-০।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)।

No comments:
Post a Comment