Sunday, January 1, 2017

এমপি লিটনের প্রথম জানাযা সম্পন্ন, ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতি চলছে

দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটনের প্রথম নামাজে জানাযা রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তার জানাযা সম্পন্ন হয়। এখন তার মরদেহ হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। ময়না তদন্ত শেষে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের মর্গ থেকে লিটনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গোসল করানোর জন্য।
সেখান থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তার মরদেহ আনা হয় মাঠে। সেখানে প্রথমে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, র‌্যাব-১৩-এর সিও এটিএম আতিকুল্লাহ, ডিসি রাহাত আনোয়ার, এসপি মিজানুর রহমান। পরে তার নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন পুলিশ লাইন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা খন্দকার মোসাব্বিরুল ইসলাম। তার নামাজে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, রংপুর সিটি মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সেক্রেটারি রেজাউল করিম রাজু, মহানগর সভাপতি তুষারকান্তি মন্ডল, সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, এসপি মিজানুর রহমান, কোতয়ালী থানার ওসি জাহিদুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর কয়েক হাজার নেতাকর্মী। জানাযা নামাজের আগে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। তাকে তারাই হত্যা করেছে যারা ৭১-এ এদেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ধর্মের নামে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে তারা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। তিনি সুন্দরগঞ্জে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সেকারনে তিনি তাদের টার্গেটে ছিলেন। তারাই তাকে হত্যা করেছে। এদিকে এমপি লিটনের মরদেহ এখনো পুলিশ লাইন স্কুল মাঠে আছে। সেখানে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার আসামাত্রই তাকে ঢাকার উদ্দেশে নেয়া হবে। কাল সকাল ১০ টায় ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরগঞ্জে নেয়া হবে। সেখানে নামাজে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন এমপি লিটন। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ৭টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

No comments:

Post a Comment