এফবিসিসিআই’র
বর্তমান কমিটির মেয়াদ রয়েছে জুন পর্যন্ত। এরই মধ্যে আগামী মেয়াদের
নির্বাচনে সভাপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে গুঞ্জনের ডালাপালা মেলছে। ২৮ জানুয়ারি
২০১৭-১৯ মেয়াদের নির্বাচনের বোর্ড গঠনের ঘোষণা গুঞ্জনের পালে জোর হাওয়া
দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম
শোনা যাচ্ছে। তাদের উভয়েরই সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
দু’জনই এফবিসিসিআইকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ও দিচ্ছেন। এ অবস্থায় নির্বাচন পদ্ধতি
সংস্কার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ পরিষদের সদস্যরা। আগামীকাল
‘এফবিসিসিআই সংস্কার সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে
জরুরি সভার ডাক দিয়েছেন সাধারণ পরিষদের সদস্যরা।
জানা গেছে, ২৮ জানুয়ারি
এফবিসিসিআই’র বোর্ড মিটিংয়ে আগামী মেয়াদের নির্বাচনের জন্য বোর্ড গঠন করা
হবে। পরে বোর্ড ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।
প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
সম্ভাব্য সভাপতি পদে যে দুই প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন-
বর্তমান প্রথম সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি
জসিম উদ্দিন। সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এর আগে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন
বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মেয়াদকালে তৈরি পোশাক রফতানিতে
উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। অন্যদিকে জসিম উদ্দিন বর্তমানে প্লাস্টিকদ্রব্য
প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। সব শ্রেণীর
ব্যবসায়ীর কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই নেতার সরকারের উচ্চ মহলেও গ্রহণযোগ্যতা
রয়েছে। তারা দু’জনই ব্যবসায়ীদের নিজেদের ডেরায় ভেড়াতে এবং সরকারের উচ্চ
মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বিষয়ে থাইল্যান্ড থেকে
টেলিফোনে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।
এফবিসিসিআইকে শক্তিশালী করার ইচ্ছা রয়েছে। পাশাপাশি রিসার্স এবং পলিসি
গাইডলাইন দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। এফবিসিসিআই’র স্বচ্ছতা ও
জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কাজ করব।’ অন্যদিকে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের
সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। তারা চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি পদে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। এফবিসিসিআইকে আন্তর্জাতিক মানের একটি বাণিজ্য সংগঠন
হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ কারণে যা যা করার দরকার তাই করার চেষ্টা করব।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করতে চাই।’
সাবেক ও
বর্তমান পরিচালক এবং সাধারণ পরিষদের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা
গেছে, নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশ চাচ্ছে
পুরনো নিয়মেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কারণ সরকার গঠিত সংস্কার কমিটির
প্রতিবেদনের আলোকে নির্বাচন আয়োজন করতে হলে অনেক সময় প্রয়োজন। অপর অংশটি
চাচ্ছে সংস্কারের পর নির্বাচন হোক। একই সঙ্গে সব পদে সরাসরি নির্বাচনের
ব্যবস্থা রাখতে হবে। তা না হলে নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না। এদিকে এফবিসিসিআই
নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করতে সাধারণ পরিষদের সদস্যরা
একাট্টা হয়েছে। আগামীকাল ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে ‘এফবিসিসিআই সংস্কার
সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে জরুরি সভার ডাক দেয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত থাকার
আহ্বান জানিয়ে সদস্যদের এসএমএস করা হচ্ছে। টেলিফোনেও আমন্ত্রণ জানানো
হচ্ছে। ওই বৈঠকে পরবর্তী নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে
সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, সব পদে
সরাসরি নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে অনির্বাচিতরা এলে
সাধারণ সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে না। এ কারণে পরবর্তী সময়ে যেই
সভাপতি হোক সাধারণ সদস্যরা চায় নির্বাচনের মাধমে সভাপতি নির্বাচিত করতে।
যাতে জবাবদিহিতা থাকে। তিনি আরও বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা চাইলেই সরকারের
ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু ছোট ব্যবসায়ীদের দাবি
আদায়ের জায়গা হচ্ছে এফবিসিসিআই। একমাত্র সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত
সভাপতিই তাদের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করতে সক্ষম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে
এক সাধারণ পরিষদ সদস্য জানান,
১১ জানুয়ারি প্রথম সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম
মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সাধারণ পরিষদ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। ওই
চিঠি পাওয়ার পর তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সব পদে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জোরদারে
জনমত তৈরি করতে মাঠে নেমেছেন। কারণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে টিও রুলস
অনুযায়ী সংগঠনের অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বাণিজ্য সংগঠনগুলো সরকারকে যথাযথ
ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে থাকে। কাউকে ভুয়া ভোটার বলা অন্যকে হেয় করার শামিল। ওই
চিঠিতে বলা হয়েছে, এফবিসিসিআইকে ঘিরে একটি স্বার্থান্বেষী ও চক্রান্তকারী
মহল গড়ে উঠেছে- যাদের আদৌ কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। তারা নানাভাবে বিভিন্ন
বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্ট করে ভোটের সময় ভোট বাণিজ্য করা
ছাড়া আর তাদের কোনো অবদান নেই। যার কারণে এফবিসিসিআইতে সঠিক নেতৃত্ব গড়ে
উঠছে না এবং নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা গড়ে উঠছে না। ফলে
বাজেট প্রণয়নসহ শিল্প-বাণিজ্য পলিসি তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখা সম্ভব
হচ্ছে না।

No comments:
Post a Comment