যুক্তরাষ্ট্রের
ফার্স্ট লেডি হিসেবে হোয়াইট হাউসে সর্বশেষ আবেগী ভাষণ দিয়েছেন মিশেল
ওবামা। সমর্থকদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে মিশেল বলেন, আপনাদের ‘ফার্স্ট লেডি’
হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের। আমি আশা করি, ফার্স্ট লেডি হয়ে
আপনাদের সম্মান আমি রাখতে পেরেছি। এজন্য আমি গর্বিত। শুক্রবার মার্কিন
স্কুল কাউন্সিলর ও শিক্ষকদের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরবর্তী মার্কিন
প্রজন্মের প্রতি আবেগঘন বক্তব্য দেন ওবামা পত্নী। খবর সিএনএনের। বিশ্বে
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে ও দেশকে আরও এগিয়ে নিতে দেশের যুবকদের
অংশগ্রহণ ও অবদান অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন মিশেল। তিনি বলেন,
‘তোমরা কখনও ভীত হবে না। যুবকরা, তোমরা আমার কথা শুনছ? নিজেকে মেলে ধর, দৃঢ়
সংকল্প কর। আশাবাদী হও, নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোল। উন্নত শিক্ষায়
শক্তিমান হও।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরপর দেশকে গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করতে
হবে। মনে রাখবে কখনও ভীত হবে না, আশা দিয়ে সবকিছু জয় করবে।’ এসব কথা বলার
সময় বারবার তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফার্স্ট
লেডি বলেন, আমি বিশ্বাস করি কঠোর পরিশ্রম ও নিজের প্রতি বিশ্বাস যে কোনো
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।
ভাঙতে পারে সীমাবদ্ধতার দেয়াল।
আমেরিকানদের উদ্দেশে মিশেল জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে কাজ
করার আহ্বান জানিয়েছেন। তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে অভিবাসী, মুসলিম ও অন্য
জাতি-ধর্মের লোকদেরও এক হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান
তিনি। ভাষণে মিশেল বলেন, ‘কখনও কাউকে নিজেদের কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার
সুযোগ দিবেন না। কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আপনার কোনো ঠাঁই নাই- এমনটা
ভাবারও সুযোগ যেন কেউ না পায়।’ তিনি আরও বলেন, আমাদের বৈচিত্র্য নিয়েই আমরা
গর্ব করি। সেই বৈচিত্র্য আমাদের ধর্ম-বর্ণ-জাতি ও বিশ্বাসের বৈচিত্র্য।
এটা কখনও আমাদের জন্য হুমকি নয়। বরং এ বৈচিত্র্যতার মধ্য দিয়ে আমরা কারা সে
বিষয়ে আলোকপাত হয়। হোয়াইট হাউসে প্রতিবছর পুরো দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা
স্কুল কাউন্সিলরদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উচ্চতর
শিক্ষাগ্রহণে তরুণদের উৎসাহ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি। ২০১৭
সালের স্কুল কাউন্সিলরদের সম্মান জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিশেল ওবামা এসব
মন্তব্য করেন। ২০১৫ সালে হাই স্কুল কাউন্সিলরদের মধ্যে দক্ষতা বাড়াতে
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ সম্মাননা কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

No comments:
Post a Comment