কেন
উইলিয়ামসন সংবাদ সম্মেলন করে চলে গেছেন বেশ আগেই। নিউজিল্যান্ড দলও চলে
গেছে মাঠ থেকে। মাশরাফি মুর্তজার দেখা নেই। সংবাদকর্মীদের অপেক্ষা চলছে তো
চলছেই। জানা গেল, ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই গোটা দলকে নিয়ে সভায় বসেছেন
চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ধরন দেখে অনুমান করা যায় ‘জরুরি সভা’। সভায় খোলামেলা
কথা বলেছেন সবাই। সিরিজে দলের পারফরম্যান্স কাটাছেঁড়া হয়েছে। তাতে একটি
সমস্যা ধরা পড়েছে প্রকটভাবে। সেটি দেখতে অবশ্য আতশি কাচের প্রয়োজন পড়ছে না।
খোলা চোখেই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে, সিনিয়র ক্রিকেটারদের বাজে পারফরম্যান্স!
দল নির্বাচন নিয়ে টুকটাক প্রশ্ন তোলা যায়। তবে সেসবের কোনোটাই খুব বড় কোনো
বিষয় নয়। সিরিজের তিনটি ম্যাচের স্কোর কার্ডেই চোখ রাখলে দেখা যাবে,
সিনিয়রদের পারফরম্যান্সই ডুবিয়েছে দলকে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। তামিম ইকবাল
তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই শুরুটা ভালো করেছেন। দুটিতেই মোটামুটি রান পেয়েছেন।
কিন্তু একটিতেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে ৩৮ রানের ইনিংসটি হতে
পারত ৭০-৮০, শেষ ম্যাচের ৫৯ রানের ইনিংসটি অন্তত সেঞ্চুরি। তিনটি ম্যাচেই
তামিমের আউট হওয়ার ধরন হতাশাজনক।
বিশেষ করে নেলসনের দুই ম্যাচে। একই রকম
কথা প্রযোজ্য ইমরুলের ক্ষেত্রেও। তামিমের মতোই একটি ম্যাচে ১৬, আরেক ম্যাচে
৫৯ করেছেন। শেষ ম্যাচে ৪৪। টপ-অর্ডারের ব্যাটসম্যানের টানা তিন ম্যাচে
এরকম শুরু পেয়েও বড় ইনিংস খেলতে না পারা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। দ্বিতীয়
ওয়ানডেতে বেশ ক’বার আউট হতে হতে বেঁচে গিয়েও ফিরেছেন ৫৯ রানে। পরে
সংবাদমাধ্যমে যে কথাটি বলেছেন, সেটিও জন্ম দিয়েছে বিস্ময় ও প্রশ্নের।
আরেকপাশে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান না থাকায় যেখানে দায়িত্ব নিয়ে খেলার কথা
বেশি করে, ইমরুল নাকি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন! মাহমুদউল্লাহ অবশ্য প্রতিটি
ম্যাচেই আগের চেয়ে উন্নতি করেছেন। তবে সিরিজে ফিরে তাকালে যারপরনাই বিব্রত
হবেন এই ব্যাটসম্যান। গত ক’বছরে দারুণ উন্নতি করা ক্রিকেটার হঠাৎ করেই এই
সিরিজে একদমই ম্রিয়মাণ। তিন ম্যাচে রান ০, ১ ও ৩! তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের
সবচেয়ে বাজে সিরিজ এটিই। সাকিবের শুরুটা খারাপ ছিল না। প্রথম ম্যাচে
করেছিলেন ৫৯। যদিও সেই সময় দল তার কাছে চাইছিল আরও বড় কিছু। পরের ম্যাচে
সাত রানে ফিরেছেন অনিয়মিত বোলার কেন উইলিয়ামসনকে উইকেট উপহার দিয়ে। শেষ
ম্যাচে ১৮ রানে রানআউট, প্রশ্ন তোলা যায় শেষ মুহূর্তে ডাইভ না দেয়ায়। বিশেষ
করে মুশফিকুর রহিম ছিটকে যাওয়ার পর মাহমুদউল্লাহর ফর্ম আর শেষ দুই ম্যাচে
সাকিবের রান না পাওয়া ভুগিয়েছে দলকে। মিডলঅর্ডার বলে যেন কিছু ছিল না।
ত্বরান্বিত হয়েছে ধস। সাব্বির রহমান ঠিক সিনিয়রদের কাতারে না হলেও খেলে
ফেলেছেন ৩০টির বেশি ওয়ানডে। তিন ম্যাচে ভালো শুরু পেয়ে একটিও অর্ধশতক না
পাওয়া তার মতো উঠতি ক্রিকেটারের জন্য এটা হতাশাজনক। সিরিজ শেষে অধিনায়ক
মাশরাফি মুর্তজাও বললেন,
সিনিয়রদের কাছে দলের চাওয়ার কথা, ‘যেটা হয়েছে,
ব্যক্তিগত কিছু পারফরম্যান্স হয়েছে। হয়তো প্রথম ম্যাচে সাকিব ভালো খেলেছে। তামিম আজকেও রান করল, ইমরুল আগের ম্যাচটায় রান পেয়েছে, আজকেও ভালো করল।
যেটা হলে দলের জন্য কার্যকর হতে পারত বা ওদের দলকে ভোগাতে পারত, তেমন
পারফরম্যান্স হয়নি; যেটা হয়তো আমরা আমাদের ঘরের কন্ডিশনে করে আসছি।’
অধিনায়ক যোগ করেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি অবশ্যই আরও বড় কিছু আশা করি। আজকে
তামিম-ইমরুল বা গত ম্যাচে সাব্বির-ইমরুল যখন ব্যাট করছিল, তখন কিন্তু ভালো
অবস্থায় ছিল দল। সেখান থেকে এভাবে ধস নামা অবশ্যই হতাশার। বিশেষ করে
মুশফিককে হারানোর পর আরও বেশি একতাবদ্ধ পারফরম্যান্স দরকার ছিল।’ শেষ কথায়
লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের হারের কারণ। পারফরম্যান্স ছিল বিচ্ছিন্ন, এক সুতোয়
জোড়া লাগেনি। একা কেউ করতে পারেননি বড় কিছু। দলের জুটেছে তাই টানা তিন
পরাজয়। সিনিয়ররাই এগিয়ে নিয়েছেন দেশের ক্রিকেটকে, পারফর্ম করে জিতিয়েছেন
অনেক অনেক ম্যাচ। তাই অভিযোগ নয়, বরং প্রত্যাশাটাও তাদের কাছে বেশি। দেশের
সেরা ব্যাটসম্যানের পরিচয় ছাপিয়ে তামিম যদি হতে চান বিশ্বসেরা
ব্যাটসম্যানদের একজন, সাকিব যদি আবার হতে চান অবিসংবাদিত বিশ্বসেরা
অলরাউন্ডার, মাহমুদউল্লাহ-ইমরুলরা দলের ভরসা না থেকে হয়ে উঠতে চান বিশ্ব
ক্রিকেটের পরিচিত নাম, তবে চাই বিদেশের মাটিতে দারুণ কিছু। তারা যদি পারেন,
তাহলেই জিতবে দল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

No comments:
Post a Comment