তুষারধসে
চাপা পড়ে প্রাণ হারাতে বসেছিলেন ভারতের সেনা মেজর। কিন্তু সময়োচিত বুদ্ধি
এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে বরফের স্তুপ সরিয়ে রক্ষা পেলেন মেজর
শ্রীহরি কুগাজি। কাশ্মীর উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন।
বুধবার সোনমার্গে আচমকা নেমে আসে তুষারধস। মুহূর্তের মধ্যে ১৫ মিটার
(প্রায় ৫০ ফুট) বরফের নীচে চাপা পড়ে ১১৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের সেনা ব্যারাক ও
সংলগ্ন এলাকা। রেহাই পান না সাধারণ মানুষও। ব্যারাকের উপর বরফের চাঙড়
ভেঙে পড়তে মারা যান মেজর অমিত সাগর। ১৫ মিটার গভীর তুষার-গহ্বরের নীচে
তলিয়ে যান মেজর শ্রীহরি কুগাজি। গভীর বরফের স্তূপের নীচে তিনি আটকে পড়েন।
প্রাণপণ চেষ্টা করেও গর্ত থেকে বেরোতে পারেননি কুগাজি। এদিকে ঠান্ডায় জমে
এবং অক্সিজেনের অভাবে ক্রমে শরীর অসাড় হয়ে আসে। ঠিক এমনই সময় শক্ত কিছুতে
হাত ঠেকে যায় মেজরের। স্পর্শ করে বুঝতে পারেন, লোহার ট্রাঙ্কের একটি হুড়কো
কোনও মতে তার নাগালে এসেছে। ছোট্ট সেই ধাতুর টুকরো দিয়েই মাথার উপরের
বরফের স্তরে বার বার আঘাত করতে শুরু করেন কুগাজি। প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টার
পরে অবশেষে তুষারস্তরে ফাটল ধরাতে তিনি সক্ষম হন। বরফের চাদর ফেটে ছোট্ট
ছিদ্র তৈরি হয়। তার মধ্যে দিয়ে কোনও রকমে দু'টি আঙুল বাইরে বের করতে পারেন
কুগাজি। সেই আঙুল নাড়িয়েই উদ্ধারকারী দলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে
থাকেন। মেজরের প্রাণান্তকর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়। তুষার স্তুপের মাঝে
নড়াচড়া করা আঙুলের দিকে নজর পড়ে উদ্ধারকারী সেনাদলের সদস্যদের। বরফ
সরিয়ে মেজর কুগাজিকে তুলে আনা হয়। আপাতত তিনি সেনা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন
রয়েছেন। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, তুষারধসে মোট ৮ জন জওয়ান চাপা পড়েন।
তাদের মধ্যে মেজর অমিত সাগর ছাড়া সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র : টাইমস
অব ইনডিয়া

No comments:
Post a Comment