Tuesday, January 31, 2017

অস্ট্রেলিয়াও হারে নিউজিল্যান্ডে

অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রায় অসম্ভব এক জয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন মার্কাস স্টইনিস। জয় যখন অসিদের হাত ছোঁয়া দূরত্বে, তখনই ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজলউডকে রান আউট করে নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। স্টইনিস বীরত্বের পরও ৬ রানে জিতে তিন ম্যাচের চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রুফিতে এগিয়ে গেল কিউইরা। টিম সাউদির আগের দুই বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন স্টইনিস। স্ট্রাইক ফিরে পেতে সেই ওভারের শেষ বলে দ্রুত একটি রান নিতে চেয়েছিলেন তিনি। শর্ট মিডঅনে থাকা কেন উইলিয়ামসন সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি।
রান আউট হয়ে যান হ্যাজলউড। মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে ১৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন স্টইনিস। এই তরুণ অলরাউন্ডারের ১১৭ বলের ইনিংসটি গড়া ১১টি ছক্কা ও ৭টি চারে। ওয়ানডেতে সাত নম্বরে নেমে তার চেয়ে বেশি রানের ইনিংস আছে আর একটিই; শ্রীলংকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের লুক রনকির অপরাজিত ১৭০। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে সোমবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নয় উইকেটে ২৮৬ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৪৭ ওভারে ২৮০ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। আগে থেকেই ছিলেন না স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ম্যাচের আগে চোটের জন্য ছিটকে যান ম্যাথু ওয়েডও। তার জায়গায় দলকে নেতৃত্ব দেন অ্যারন ফিঞ্চ। তবে দলকে সামনে থেকে পথ দেখাতে পারেননি তিনি। জোড়া আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফিঞ্চ ও ট্র্যাভিস হেডকে ফিরিয়ে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। দলের বিপদ বাড়িয়ে দ্রুত ফিরেন শন মার্শ, পিটার হ্যান্ডসকম, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও অভিষিক্ত স্যাম হেজলেট।
১৯তম ওভারে ৬৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন প্রথম ৬ ব্যাটসম্যান। এই মাঠে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে ১৫১ ও ১৪৮ রান করে অস্ট্রেলিয়া। দলের বিপর্যয়ের সময় জেমস ফকনারের সঙ্গে ৮১ রানের জুটি গড়েন স্টইনিস। তার সঙ্গে ৪৮ রানের আরেকটি কার্যকর জুটিতে দ্রুত রান সংগ্রহ করে আশা বাঁচিয়ে রাখেন প্যাট কামিন্স। ক্লাব ক্রিকেটে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা হাঁকানোর কৃতিত্ব আছে স্টইনিসের। জেমস নিশামের এক ওভারে তিন ছক্কা হাকান। ট্রেন্ট বোল্টকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৯৬ বলে শতকে পৌঁছান স্টইনিস। ম্যাচে ৩ উইকেট নেয়ার সঙ্গে তিন অংকের রান করা প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার তিনি। এর আগে টম ল্যাথাম, কেন উইলিয়ামসন, রস টেলর ও কলিন মানরোকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন অতিথিরা। চোট কাটিয়ে ফেরা দুই ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল ও নিল ব্রুমের দুই অর্ধশতকের ওপর ভর করে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে নিউজিল্যান্ড। ৯ উইকেটে ২৮৬ করে তারা। ওয়েবসাইট।
স্কোর কার্ড
নিউজিল্যান্ড রান বল ৪ ৬
গাপটিল ব স্টইনিস ৬১ ৭৩ ৮ ০
লাথাম ক হ্যান্ডসকম্ব ব স্টার্ক ৭ ৯ ১ ০
উইলিয়ামসন ক ম্যাক্সওয়েল ব স্টইনিস ২৪ ৩৪ ২ ০
টেলর ব হেড ১৬ ২৪ ১ ০
ব্রুম ক স্টার্ক ব ফকনার ৭৩ ৭৫ ৪ ৩
মানরো ক ফিঞ্চ ব স্টইনিস ২ ৬ ০ ০
নিশাম ক হেড ব হ্যাজলউড ৪৮ ৪৫ ৬ ০
স্যান্টনার ক ম্যাক্সওয়েল ব কামিন্স ৭ ১৯ ০ ০
সাউদি ক ফকনার ব কামিন্স ০ ২ ০ ০
ফার্গুসন নটআউট ৩ ৬ ০ ০
বোল্ট নটআউট ১৬ ৭ ২ ১
অতিরিক্ত ২৯
মোট (৯ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ২৮৬
উইকেট পতন : ১/১৩, ২/৮৭, ৩/১২৮, ৪/১৩০, ৫/১৩৪, ৬/২১০, ৭/২৪৬, ৮/২৫১, ৯/২৬৯।
বোলিং : স্টার্ক ১০-০-৫৯-১, হ্যাজলউড ১০-০-৪৮-১, কামিন্স ৯-০-৬৭-২, ফকনার ৬-০-২৯-১, স্টইনিস ১০-০-৪৯-৩, হেড ৫-০-২১-১।
অস্ট্রেলিয়া রান বল ৪ ৬
ফিঞ্চ ক নিশাম ব বোল্ট ৪ ৭ ০ ০
হেড ক মানরো ব বোল্ট ৫ ১৫ ১ ০
মার্শ স্টা. লাথাম ব স্যান্টনার ১৬ ২১ ৩ ০
হ্যান্ডসকম্ব ক লাথাম ব সাউদি ৭ ৭ ১ ০
ম্যাক্সওয়েল ক লাথাম ব ফার্গুসন ২০ ২৪ ৩ ০
হিয়াজলেট ক লাথাম ব ফার্গুসন ৪ ১১ ০ ০
স্টইনিস নটআউট ১৪৬ ১১৭ ৯ ১১
ফকনার ব মানরো ২৫ ৪৯ ১ ০
কামিন্স স্টা. লাথাম ব স্যান্টনার ৩৬ ২৮ ৫ ১
স্টার্ক ক নিশাম ব স্যান্টনার ৩ ৩ ০ ০
হ্যাজলউড রানআউট ০ ০ ০ ০
অতিরিক্ত ১৪
মোট (অলআউট, ৪৭ ওভারে) ২৮০
উইকেট পতন : ১/৯, ২/১০, ৩/১৮, ৪/৪৮, ৫/৫৪, ৬/৬৭, ৭/১৪৮, ৮/১৯৬, ৯/২২৬, ১০/২৮০।
বোলিং : সাউদি ১০-০-৬৩-১, বোল্ট ৯-০-৫৮-২, ফার্গুসন ১০-০-৪৪-২, স্যান্টনার ১০-১-৪৪-৩, নিশাম ৫-০-৪৯-০, মানরো ৩-০-২০-১।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৬ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মার্কাস
স্টইনিস (অস্ট্রেলিয়া)।

No comments:

Post a Comment