প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প সাতটি মুসলিম দেশের শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ
স্থগিত করার পর দিন শনিবার মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিশৃংখলা
সৃষ্টি হয়েছে। ওই সাত দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদেরও
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। একারণে বিশ্বের বহু দেশের
বিমানবন্দরে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ বাঁধার মুখে অনেকেই ক্ষোভ
জানিয়েছেন।
এছাড়া বিমানে উঠতে না দেয়া এবং ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আটকের কারণে
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আটকা পড়ার আশংকায় অনেক অভিবাসী আতংকিত হয়ে পড়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আটকে পড়া মার্কিনীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে
শনিবার রাতভর চেষ্টা চালিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী ও পরামর্শকরা। এরইমধ্যে
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা নিউইয়র্কে একটি মামলা
করেছেন। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, বহু মানুষকে বেআইনীভাবে আটক করা হয়েছে।
যাদের মধ্যে ইরাকে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এমন ইরাকীও রয়েছেন।
শুক্রবার ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া,সিরিয়া এবং ইয়েমেনের শরণার্থীদের
আগমন স্থগিত এবং এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি
আরোপ করে নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এই আদেশ বিমানবন্দরগুলোতে
পৌঁছানোর পর বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়। নতুন নিয়মের ব্যাখ্যা করতে অভিবাসন এবং
কাস্টম কর্মকর্তারা হিমশিম খাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। নতুন আদেশে
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো থেকে আগতদের বিমানবন্দরেই আটক করতে বলা
হয়েছে। কিন্তু এ আদেশ জারির আগেই বিভিন্ন ফ্লাইটে সাত দেশের বংশোদ্ভূত বৈধ
মার্কিনীরা ছিলেন। আদেশ পৌঁছানোর পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে
পৌঁছালে তাদের ব্যাপারে করণীয় নিয়ে হিমশিম খান কর্মকর্তারা। এদিকে বার্তা
সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আদেশ জারির পর সাত মুসলিম দেশের বাসিন্দাদের
যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে উঠতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া
কড়াকড়ি আরোপের আগেই যারা যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটের আরোহী হয়েছেন তাদের
বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটক করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, আদেশ জারির পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে
যাত্রী নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া ট্রাম্প আদেশ জারির সময় যারা বিভিন্ন
ফ্লাইটে ছিলেন তাদের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই আটক করা হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডে ডাচ এয়ারলাইন 'কেএলএম' জানিয়েছে তাদের ফ্লাইটগুলো থেকে
এরইমধ্যে সাতজন যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয়
জানায়নি বিমান সংস্থাটি। ইরানের রাজধানী তেহরানে দুটি ট্রাভেল এজেন্সি
জানিয়েছে , ইতিহাদ, এমিরেটস এবং তুর্কি এয়ারলাইনের পক্ষ থেকে
যুক্তরাষ্ট্রগামী টিকেট বিক্রি বন্ধ এবং আমেরিকান ভিসাধারী ইরানীদের
যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটে না তুলতে বলা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে
ক্যালিফোর্নিয়াতে অধ্যয়নরত একজন ইরানী ছাত্রী জানিয়েছেন,
আগামী ৪
ফ্রেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রগামী তুর্কি এয়ারলাইনের টিকেট কিনলেও তা বাতিল
করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে তেহরান থেকে তার ক্যালিফোর্নিয়া ফিরে যাওয়া বন্ধ
হয়ে গেছে। দশ লাখেরও বেশি ইরানী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে। ইরানীদের
ব্যাপারে আদেশ জারির কড়া সমালোনা করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা এ
সিদ্ধান্তকে 'অবৈধ, অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী' আখ্যা দিয়ে এর
যথাযথ জবাব দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে খার্তুমে সুদানের পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত না হলেও শনিবার মিশরের রাজধানী কায়রোতে
নিউইয়র্কগামী ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইটে উঠতে দেয়া হয়নি এক ইরাকী দম্পতি
এবং তাদের দুই সন্তানকে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই চার ইরাকীর
সবারই মার্কিন ভিসা ছিল। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্পের আদেশ জারির পর
জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছলে দু'জন ইরাকী শরণার্থীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ও অন্যান অধিকার সংস্থা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। আদালতে
এক আবেদনে দুই ইরাকী শরণার্থীর আটকাদেশকে অবৈধ দাবি করে আইনজীবীরা তাদের
মুক্তি দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শরণার্থী মানুষদের আশ্রয়দান এবং
জাতি-বর্ণ-নির্বিশেষে তাদের সবার প্রতি সমান আচরণের যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের তা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে
জাতিসংঘ।

No comments:
Post a Comment