মিয়ানমার
সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে
জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি মিয়ানমার সফর
শেষে শুক্রবার এক বিবৃতিতে রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুর্বিষহ
বলে বর্ণনা করেছেন। মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণের
জন্য দেশটিতে ১২ দিনের সফর করেন লি।
তিনি বলেন, ‘দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের
ওপর দমন অভিযানের ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে
বাস্তবতাও অস্বীকার করছে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।’ খবর
রয়টার্সের। লি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের নির্বাচিত
সরকারকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ জাতিসংঘের বিশেষ দূত
রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সেনা অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন,
'সেনাবাহিনীকে অবশ্যই সেদেশের আইন মেনে এবং মানবাধিকার রক্ষা করে অভিযান
পরিচালনা করতে হবে।' কোনোভাবেই যেন রোহিঙ্গাদের ওপর আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
না হয় সেদিকে খেয়াল রাখারও আহ্বান জানান তিনি। ওই দমন অভিযানের ফলে গত তিন
মাসে প্রায় ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে
বাধ্য হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযান চালানোর সময় মানবাধিকার রক্ষার
তোয়াক্কা করেনি বলেও উল্লেখ করেন লি। গত অক্টোবরে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী
বাহিনীর একটি চেকপোস্টে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ৯ জওয়ান নিহত হওয়ার
পর রাখাইন প্রদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান শুরু করে দেশটির
সেনাবাহিনী।
এ অভিযানে বহু মানুষ নিহত ও শত শত ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে
বলে রোহিঙ্গা মুসলমানরা অভিযোগ করেছেন। এদিকে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা
মুসলিমদের ওপর পরিচালিত অত্যাচার-নির্যাতন বিষয়ে মুসলিম সরকারের
প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করায় শনিবার মালয়েশিয়ার কড়া সমালোচনা করেছে
মিয়ানমার। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সদস্যদের নিয়ে
বৃহস্পতিবার বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক মিয়ানমারে মুসলিম
রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে
মুসলিমদের প্রতি ‘বৈষম্য ও মানবাধিকার ট্রাজেডি’ বন্ধে ৫৭ রাষ্ট্রের ওআইসির
সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন নাজিব। জবাবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি
নতুন এ সংঘাত থেকে মানুষদের নিরাপত্তা ও তাদের জীবন রক্ষায় তৎপর রয়েছে
মিয়ানমার সরকার। এছাড়া এ সংকটকে একটি ‘রাজনৈতিক এজেন্ডা’ হিসেবে উপস্থাপনের
জন্য কুয়ালালামপুরকে অভিযুক্ত করে দেশটি।

No comments:
Post a Comment