Monday, January 30, 2017

তুরাগের বেশির ভাগ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী

রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকার ব্যস্ততম প্রায় অর্ধশত রাস্তায় ১ যুগেও কোনো সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে বেশির ভাগ রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে রাস্তাগুলোর বিভিন্ন অংশে খানা-খন্দ, উঁচু-নিচু, কোথাও ময়লা ও দুর্গন্ধময় পানির নালা-নর্দমার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধময় পানিতে ডুবে আছে অনেক রাস্তার পুরো অংশ। রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হলেও দেখার যেন কেউ নেই। সড়কগুলোতে চলাচলকারী ছাত্র-ছাত্রী, পেশাজীবী, অফিসগামী লোকজনের দুর্দশা নিত্যদিনের। পাশাপাশি এসব রাস্তায় চলাচলকারী রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা বা প্রাইভেট কার নিয়ে চলতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। পানির নিচে থাকা খানা-খন্দ ও চোরা গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়ার আতংক নিয়ে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নলভোগ থেকে দিয়াবাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশ ডোবা-নালা ও খানা-খন্দে ভরা। নলভোগ ৩ রাস্তার মোড় সংলগ্ন ‘ইটালী সু কারখানা’র সামনের পুরো রাস্তাই পানির নিচে। গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন গাড়ি কখনও ডানে আবার কখনও বামে কাত হয়ে চলাচল করে। একটু অসতর্ক হলেই গাড়ি উল্টে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। নলভোগের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর চলাচলের অযোগ্য এ রাস্তায় আমাদের অত্যন্ত কষ্ট করে চলতে হয়। তারারটেকের বাসিন্দা ডা. ওমর বলেন, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ভ্যান উল্টে বহুবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। একই অবস্থা নলভোগ হাজীবাড়ির মোড় থেকে ধরঙ্গারটেক পর্যন্ত রাস্তাটির। এ রোডে অর্ধ কিলোমিটার রাস্তা পুরোটাই পরিত্যক্ত কুয়ার মতো মনে হয়। এখানের বাসিন্দা স্বপ্না আক্তার বলেন, ১২ বছর ধরে এ রাস্তা সংস্কারের কোনো কাজ করতে দেখিনি। স্থানীয় বাসিন্দা হাজী শুভতারা বলেন,
ভোটের সময় হাশেম চেয়ারম্যান (স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান) বলেছিলেন, রাস্তাটি পাকা করে দেবেন। কিন্তু পাস করার পর তিনি ভুলে গেছেন। হাজী বাড়ির হাজী সাহাব উদ্দিন বলেন, এ রাস্তাটি সংস্কারের দাবি আমাদের ১ যুগের। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেননি গত ২ মেয়াদের জনপ্রতিনিধিরা। বামনার টেকের রমজান মার্কেট মসজিদ হয়ে রাজাবাড়ি চৌরাস্তা পর্যন্ত পুরো রাস্তাই খানা-খন্দে ভরা। এখানের বাসিন্দা প্রখ্যাত নৃত্যপরিচালক আজিজ রেজা কৌতুক করে বলেন, সিনেমার বাইরেও আমাকে ড্যান্স করতে হয় বাসায় যখন আসি। হেঁটে যেতে চাইলে লাফ-ধাপ-ঝাঁপ দিয়ে যেতে হয়। এ ছাড়া রাজাবাড়ি-বেড়িবাঁধ সড়ক, কামারপাড়া-তুরাগ থানা সড়ক, রানাভোলা-নয়ানগর সড়ক, ফুলবাড়িয়া- ১০নং সেক্টর সড়ক, হাবিব মার্কেট-দলিপাড়া সড়ক, বাউনিয়া-ক্যান্টনমেন্ট সড়কসহ প্রায় অর্ধশত রাস্তার একই দশা। আইইএস স্কুলের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল হক বলেন, আমাদের কয়েকশ’ ছাত্র-ছাত্রী তুরাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্কুলে আসে। এসব রাস্তা জরুরি সংস্কারের জন্য তিনি দাবি জানান। স্থানীয় ব্যবসায়ী শামীম আহম্মেদ নান্নু বলেন, মালামাল আনা-নেয়া করতে আমাদের লোকদের ভাঙা রাস্তায় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। মাঝে মাঝে গাড়ি উল্টে এবং গর্তে আটকে অনেক ক্ষতির শিকার হতে হয়। হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাশিম বিগত দিনের বাজেটের স্বল্পতা উল্লেখ করে যুগান্তরকে বলেন, আমাদের ইউনিয়ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২-৩ মাস আগে গেজেটও হয়েছে। সুতরাং সিটির নতুন যারা দায়িত্ব পাবে তারাই রাস্তাগুলোর উন্নয়ন করবে।

No comments:

Post a Comment