Thursday, January 26, 2017

উজিরপুরে আলু চাষ : হীমাগারের অভাবে বীজ সংরক্ষন হচ্ছে না

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষাবাদ। তবে উৎপাদিত আলু ও বীজ সংরক্ষনের জন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর কৃষকদের নতুন বীজ ক্রয় করে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। যার কারনে দুর্ভোগে রয়েছে উপজেলার প্রায় সহ¯্রাধিক কৃষক। এই উপজেলার বেশীরভাগ অঞ্চলে হীরা জাতের আলু চাষ করে লাভোবান হচ্ছেন কৃষকরা।
তাই কৃষকরা এবারও অন্যান্য বছরের মতো শত শত হেক্টর জমি জুড়ে বিভিন্ন জাতের আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হীরা আলু চাষের পাশাপাশি ডায়মন্ড,কার্ডিনাল, ভিত্ত্ব ও বীজের জন্য বাসকের জাতের আলুর চাষও করছেন। উজিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার আলু চাষ অনেকাংশে বেড়েছে এবং কৃষকদের লাভবান হওয়ার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। বর্তমানে এ উপজেলার জল্লা,হারতা,সাতলা,বামরাইল,গুঠিয়া,শোলক ও শিকারপুর ইউনিয়নে মোট ৩৭৪ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ হাজার ৩শ কৃষক আলুর আবাদ করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী জল্লা ইউনিয়নে বর্তমানে ২৩০ হেক্টর জমিতে এ চাষাবাদ হচ্ছে। হারতা,জল্লা ও সাতলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি আবাদকৃত জমিতে বুধবার সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, যে সকল জমিতে বর্তমানে আলু চাষ করা হচ্ছে ওই জমিগুলোর আলু তোলার পর ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিকে কৃষকরা বোরো ধান,পাট,তিলসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করবেন। আর বর্ষার মৌসুমে ফসলি জমিগুলো পানিতে পরিপূর্ন থাকায় বিভিন্ন ধরনের মাছের চাষ করা হয়। ফলে ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধ এক ফসলি জমিতে এখন বহুবিধ ফসল আবাদ করে কৃষকরা দিনদিন সামলম্বী হচ্ছে। জল্লা ইউনিয়নের কারফা গ্রামের আদর্শ কৃষক সমীর বিশ্বাস (ঠান্ডা) জানান, তিনি বহু বছর যাবত বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করে আসছেন। এবার তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে আলুর চাষ করছেন। তিনি আরও জানান, এ চাষাবাদে অল্প পুঁজিতে বেশী লাভবান হওয়ায় কৃষকরা আলু চাষের প্রতি আরও উৎসাহিত হচ্ছে। যার ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর অধিক জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত আলু ও বীজ সংরক্ষনে উপজেলায় কোন হীমাগার না থাকায় প্রতি বছরই তাদের নতুন বীজ ক্রয় করে চাষাবাদ করতে হয়। ওই এলাকার সফল কৃষক প্রকাশ রায় জানান, বীজের কোনও প্রকার রোগ বালাই পচা ও ছত্রাক ধরার সম্ভবনা নেই। কারন আলু আবাদকৃত জমিতে ১০-১৫ দিন পরপর ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা হয়। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার বেশি ফসল লাভের আশা রয়েছে। সাতলা ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের কৃষক জুলহাস হাওলাদার জানান, সাধারনত ডিসেম্বর মাসে এ চাষাবাদ শুরু করা হয় এবং প্রায় তিন মাস পরিচর্যার পরে ফেব্রুয়ারী মাসে কৃষকরা আলু তোলে।
প্রতি ১ শতাংশ জমিতে আলুর চাষে প্রায় ৮ থেকে ৯শত টাকা ব্যয় হয়। তবে এবার আশা করছি, প্রকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে আলু চাষে খরচের তুলনায় অনেক বেশী লাভ হবে। অপরদিকে হারতা ইউনিয়নের উ: হারতা গ্রামের সজল মল্লিক বলেন, তিনি অনেক বছর যাবত আলুর চাষ করে আসছেন এবং প্রতি মৌসুমে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা লাভবান হচ্ছেন। তবে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদের শুরু থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেভাবে তাদের পরামর্শ ও সহযোগীতা করছেন তাতে কৃষকরা উদ্বুদ্ভ হয়ে আলু চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছে। জল্লা ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ব্যাপকভাবে আলুর চাষাবাদ হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা আশানুরুপ ফসল ঘরে তুলতে পারবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন তালুকদার জানান, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চল আলু চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী। কিন্তু আলু চাষের উপর এ উপজেলায় সরকারী প্রকল্প বরাদ্দ এবং উৎপাদিত আলু ও বীজ সংরক্ষনের জন্য হীমাগার না থাকায় কৃষকরা চরম দূর্ভোগে রয়েছেন।

No comments:

Post a Comment