Sunday, January 22, 2017

পেগাসাস মোটরসাইকেল তরুণদের দৃষ্টি কেড়েছে

শুধু গৃহস্থালি সামগ্রী নয়, এবারের বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহের তালিকায় রয়েছে গাড়ি ও মোটরসাইকেল। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মেলায় মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস অন্যতম। আকর্ষণীয় গড়নের পেগাসাস ব্রান্ডের মোটরসাইকেলগুলো নজর কেড়েছে সব বয়সী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। বিশেষ করে তরুণরা এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বেশি।
ক্রেতাদের সাধকে সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে প্রতিটি মোটরসাইকেলে দেয়া হচ্ছে নগদ ছাড়। শনিবার যমুনা প্যাভিলিয়ন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। যমুনা প্যাভিলিয়নে কর্মরত রকিবুল ইসলাম রানা বলেন, মেলায় পেগাসাস ব্রান্ডের চারটি মডেলের মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস। এসব মোটরসাইকেলের প্রতি তরুণ ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই দাম ও মোটরসাইকেলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। এসবের দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে রাখা হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ী। বিদেশী মোটরসাইকেলের তুলনায় স্থায়িত্ব বেশি। ক্রেতাদের সুবিধার্থে ডিজাইন ভেদে অর্থ ছাড় দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বিভিন্ন রঙ ও সিসির পেগাসাস ব্রান্ডের মোটরসাইকেলগুলো সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি। ভিক্টরি মডেলের মোটরসাইকেল ৮০ ও ১০০ সিসির। জিপসি স্টাইলের ফ্যাবিও মোটরসাইকেল ১২৫ সিসির। জিউস মডেলের মোটরসাইকেল ১২৫ সিসির। ইভো ১৫০আর মডেলের স্পোর্টস মোটরসাইকেল ১৫০ সিসির। সব মোটরসাইকেলই ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিনের। কিক ও সেফল স্টার্ট রয়েছে। জাপানিজ কেহিন কার্বুরেটর ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে সব মোটরসাইকেলই জ্বালানি সাশ্রয়ী। কালার টেকসই হওয়ায় মরিচা পড়ে না।
এ ছাড়া মোটরসাইকেলে এলয় রিং ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারী ব্যালেন্সিং ভালো হয়। দেশে তৈরি হওয়ায় মোটরসাইকেলের স্পেয়ার পার্টস বা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে প্রতিটি মোটরসাইকেলে পাঁচ বছর অথবা ৭০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ইঞ্জিন ওয়ারেন্টি দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সাতটি ফ্রি সার্ভিস দেয়া হবে। তিনি বলেন, ইভো ১৫০আর মডেলের মোটরসাইকেলের ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি। অরেঞ্জ, ডিপ ব্ল– ও গ্রিন- এ ৩ রঙে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যাচ্ছে। এরো ডায়নামিক শেপের মোটরসাইকেলটিতে রেডি পিকআপ, মনো শক অবজারভার, টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া জিউস মডেলের মোটরসাইকেলটি লাল, নীল, কালো ও গোল্ড সিলভার রঙের পাওয়া যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলায় আসা আবু কালাম বলেন, দেশে এত স্টাইলিশ মোটরসাইকেল তৈরি করা হচ্ছে ধারণাই ছিল না। পেগাসাস ব্রান্ডের সব মোটরসাইকেল দেখতে আকর্ষণীয়। ইঞ্জিন ওয়ারেন্টিও ভালো দিচ্ছে। শিগগিরই একটি মোটরসাইকেল কেনার ইচ্ছা রয়েছে। এ ছাড়া যমুনা ইলেকট্রনিক্সের প্যাভিলিয়নে বিভিন্ন আয়তনের এলইডি টিভি, এয়ারকন্ডিশন, রেফ্রিজারেটর, ফ্যান, হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস রয়েছে। এসবের প্রতিটিতে মূল্য ছাড় ও গিফট সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। যমুনা প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, মেলায় ১৭০ থেকে ৩৪৮ লিটার পর্যন্ত ৫০ মডেলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ফ্রিজ, ২০ থেকে ৫৫ ইঞ্চি পর্যন্ত আকর্ষণীয় গড়নের এলইডি টিভি, ইলেকট্রিক ফ্যান,
পাঁচ ধরনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স, এসি আনা হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করায় যমুনার সব পণ্য জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ওয়ারেন্টি সুবিধা তো থাকছেই। তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের সুবিধার্থে যমুনা ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইলসের পক্ষ থেকে মেলায় আকর্ষণীয় গিফট ভাউচার ও ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে। এক হাজার টাকার পণ্য কিনলে ১০০ টাকা গিফট ভাউচার দেয়া হচ্ছে, যা দিয়ে পরে ক্রেতারা যমুনা ফিউচার পার্কে কার্নিভাল ও ব্লক বাস্টার সিনেমাতে ছাড়ের সুবিধা পাবেন। ১০ হাজার টাকার পণ্য কিনলে এক হাজার টাকার গিফট ভাউচার দেয়া হচ্ছে। এ ভাউচার দেখিয়ে মেলা চলাকালীন যমুনার পণ্য ক্রয়ে ছাড় পাবেন ক্রেতারা। এ ছাড়া পণ্যের মূল্যের ওপর আকর্ষণীয় ছাড় রয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানায়, এবার ৩১ দশমিক ৫৩ একর জমিতে বাণিজ্য মেলা হচ্ছে। প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬৪টি, জেনারেল প্যাভিলিয়ন ১৬টি, বিদেশী প্যাভিলিয়ন ২৮টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৭টিসহ মোট ৫৮০টি স্টল রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়া ২০টি দেশ মেলায় অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া মেলায় শিশুদের জন্য দু’টি শিশুপার্ক, তিনটি মা ও শিশু কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র রাখা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment