ঝুপ
করে ঘন, জমাট অন্ধকার নেমে আসবে চারপাশে। আর সেই অন্ধকার ঝাঁপিয়ে পড়বে
আমাদের ওপর। গ্রাস করবে সবকিছু। এক লহমায় অচল হয়ে যাবে একটা শহর বা একটা
রাজ্যের সবকয়টা পাওয়ার গ্রিড। দুম করে বন্ধ হয়ে যাবে যাবতীয় কম্পিউটার।
উড়ে যেতে পারে হার্ড ড্রাইভে রাখা অনেক ‘মেমোরি’ও। অনেক গোপন তথ্য। সাড়ে
সর্বনাশ হয়ে যাবে গোটা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার। অচল হয়ে যাবে শেয়ার মার্কেট।
অকেজো, অচল হয়ে যাবে গাড়িঘোড়া, যানবাহনের যাবতীয় ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট।
আর সেই জমাট অন্ধকার আমাদের গ্রাস করে রাখবে বহু দিন ধরে। একজন মানুষকেও না
মেরে পরমাণু বা হাইড্রোজেন বোমার চেয়েও শক্তিশালী এমন একটি ভয়ঙ্কর অস্ত্র
বানানোর জোর প্রস্তুতি-তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে আমেরিকায়। ভারতের ‘রিসার্চ
অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স উইং’ (র)-এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কথায়, ‘‘গত দুই
বছরের গবেষণা, প্রযুক্তি-প্রকৌশল উদ্ভাবনের পর ২০১৭-র শেষে বা ২০১৮-র
মাঝামাঝি পরীক্ষামূলক ভাবে পৃথিবীর কোনো দেশ বা কোনো দেশের বিশেষ কোনো
শহরের ওপর মানুষ-না-মারা ওই ভয়ঙ্কর বিধ্বংসী অস্ত্র প্রয়োগের প্রস্তুতি
নিতে শুরু করে দিয়েছে পেন্টাগন।
এ ব্যাপারে সরকারিভাবে সহযোগিতা চাওয়া
হয়েছে আমেরিকার বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘বোয়িং’-এর গবেষণা ও উন্নয়ন (রিসার্চ
অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা, আরঅ্যান্ডডি) বিভাগের।’’ পেন্টাগনের একটি
রিপোর্টে সম্প্রতি ওই প্রস্তুতির সবিস্তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। রিপোর্টটির
নাম- ‘উইনিং দ্য এয়ারওয়েভস: রিগেইনিং আমেরিকা’স ডমিন্যান্স ইন দ্য
ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম’। সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্ত্রটি
যেন চুপিসাড়ে এসে যাওয়া যম! কোনো বিস্ফোরণ হবে না বলে এই অস্ত্র প্রয়োগের
পর শোনা যাবে না কোনো শব্দ। পরমাণু বা হাইড্রোজেন বোমা ফাটার পর যেমন
বিশাল একটা এলাকা জুড়ে অসম্ভব জোরালো ভূমিকম্পের মতো থরথর করে কেঁপে ওঠে
মাটি, গ্রহাণু ছুটে এসে আছড়ে পড়লে যেমন বিশাল এলাকা জুড়ে ফাটলের সৃষ্টি
হয় ভূপৃষ্ঠে, তেমন কিছুই হবে না এই অস্ত্র প্রয়োগের পর। তার বদলে, একেবারেই
নিঃশব্দে এই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী অস্ত্রটি থরথর করে কাঁপিয়ে দেবে এই পৃথিবীকে
চার পাশ দিয়ে ঘিরে থাকা তড়িৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক
ফিল্ডটাকেই। মাটি কাঁপলে মৃত্যুর আগেও তা বুঝতে পারে মানুষ, জীবজন্তু,
গাছপালা, প্রকৃতি। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক অনেক ওপরের স্তরে থাকা
চৌম্বক ক্ষেত্রে কোনো ভয়ঙ্কর আলোড়ন হলে, সেই চৌম্বক ক্ষেত্র আচমকা
ঘেঁটেঘুঁটে গেলে তার সরাসরি কোনো ‘ধাক্কা’ (শক) শারীরিক ভাবে এই বাসযোগ্য
গ্রহের কোনো প্রাণের পক্ষেই বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। আগে থেকে তা টের পাওয়াটাও
কারো পক্ষে অসম্ভবই।
সেই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী অস্ত্রটির নাম কী?
র’-এর ওই পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘ওই মার্কিন অস্ত্রটির নাম- ‘ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক পাল্স আর্টিলারি শেল’ (ইএমপিএএস বা, ‘এম্পাস’)। যা ছোঁড়া যাবে হাউইৎজারের মতো কোনো শক্তিশালী কামান থেকে। যা এক লহমায় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে তুমুল আলোড়ন ঘটিয়ে, তাকে ঘেঁটেঘুঁটে দিয়ে কোনো একটি দেশ বা কোনো একটি দেশের বেছে নেয়া বিশাল একটা এলাকার যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থাকে একেবারে তছনছ করে দেবে। ভাঙবে না, মচকাবেও না! ওই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী মার্কিন অস্ত্রটি এক লহমায় (এক সেকেন্ডের একশো ভাগের এক ভাগেরও কম সময়ের মধ্যে) একেবারে অনির্দিষ্ট কালের জন্য গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করে দেবে ওই দেশ বা ওই বিশেষ এলাকার যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থাকে। একেবারে টুঁটি টিপে শেষ করে দেবে সেই দেশ বা সেই বিশেষ এলাকার কম্পিউটার-নির্ভর যাবতীয় সিস্টেম এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে। সমরাস্ত্রের গোত্রে এই ধরনের শক্তিশালী অস্ত্রকে বলে- ‘নন-কাইনেটিক ওয়েপ্ন’ (এনকেডব্লিউ)।’’
কী ভাবে কাজ করবে ওই অস্ত্রটি?
বেসরকারি মার্কিন বিমান সংস্থা ‘বোয়িং’-এর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ইঞ্জিনিয়ার অনিতা ভোগলে টেক্সাস থেকে টেলিফোনে আনন্দবাজারকে বলেছেন, ‘‘ওই নন-কাইনেটিক ওয়েপ্নটিকে বসানো থাকবে হাউইৎজারের মতো কামানের ১৫৫ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের গোলার মধ্যে। পরে ওই কামান থেকে পরপর ছোঁড়া সবকয়টি গোলার (মালটিপ্ল শেল্স) মধ্যেই ওই নন-কাইনেটিক ওয়েপ্নটিকে পুরে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যাবে জোর কদমে। তার ফলে কামান থেকে বেরিয়ে আসা একের পর এক গোলার আঘাতে একেবারে থরথরিয়ে কেঁপে উঠবে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা তড়িৎ-চৌম্বক ক্ষেত্রটিকে। আর তাতেই ভয়ঙ্কর ওলটপালট ঘটে যাবে পৃথিবীর তড়িৎ-চৌম্বক ক্ষেত্র বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডে। ওই ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ওপর ভরসা করেই চালু রয়েছে পৃথিবীর সব প্রান্তের যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থা। তাই ওই ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডে ভয়ঙ্কর ওলটপালট ঘটে গেলেই যে দেশ বা যে এলাকাকে টার্গেট করে ছোঁড়া হবে সেই কামানের গোলা, তা সেই দেশ বা সেই বিশেষ এলাকার যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থাকেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য ঘুম পাড়িয়ে দেবে। যাতে অনেক দূর থেকে আসার পথে পৃথিবীর অনেক বেশি এলাকার ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে ঘেঁটেঘুঁটে দিতে না পারে ওই ‘ভয়ঙ্কর অস্ত্র’টি, তাই সেটিকে এমনভাবে বানানো হচ্ছে, যাতে তা অল্প দূরত্ব থেকেই আঘাত হানতে পারে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা তার কোনো সুনির্দিষ্ট এলাকায়।
সেই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী অস্ত্রটির নাম কী?
র’-এর ওই পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘ওই মার্কিন অস্ত্রটির নাম- ‘ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক পাল্স আর্টিলারি শেল’ (ইএমপিএএস বা, ‘এম্পাস’)। যা ছোঁড়া যাবে হাউইৎজারের মতো কোনো শক্তিশালী কামান থেকে। যা এক লহমায় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে তুমুল আলোড়ন ঘটিয়ে, তাকে ঘেঁটেঘুঁটে দিয়ে কোনো একটি দেশ বা কোনো একটি দেশের বেছে নেয়া বিশাল একটা এলাকার যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থাকে একেবারে তছনছ করে দেবে। ভাঙবে না, মচকাবেও না! ওই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী মার্কিন অস্ত্রটি এক লহমায় (এক সেকেন্ডের একশো ভাগের এক ভাগেরও কম সময়ের মধ্যে) একেবারে অনির্দিষ্ট কালের জন্য গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করে দেবে ওই দেশ বা ওই বিশেষ এলাকার যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থাকে। একেবারে টুঁটি টিপে শেষ করে দেবে সেই দেশ বা সেই বিশেষ এলাকার কম্পিউটার-নির্ভর যাবতীয় সিস্টেম এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে। সমরাস্ত্রের গোত্রে এই ধরনের শক্তিশালী অস্ত্রকে বলে- ‘নন-কাইনেটিক ওয়েপ্ন’ (এনকেডব্লিউ)।’’
কী ভাবে কাজ করবে ওই অস্ত্রটি?
বেসরকারি মার্কিন বিমান সংস্থা ‘বোয়িং’-এর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ইঞ্জিনিয়ার অনিতা ভোগলে টেক্সাস থেকে টেলিফোনে আনন্দবাজারকে বলেছেন, ‘‘ওই নন-কাইনেটিক ওয়েপ্নটিকে বসানো থাকবে হাউইৎজারের মতো কামানের ১৫৫ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের গোলার মধ্যে। পরে ওই কামান থেকে পরপর ছোঁড়া সবকয়টি গোলার (মালটিপ্ল শেল্স) মধ্যেই ওই নন-কাইনেটিক ওয়েপ্নটিকে পুরে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যাবে জোর কদমে। তার ফলে কামান থেকে বেরিয়ে আসা একের পর এক গোলার আঘাতে একেবারে থরথরিয়ে কেঁপে উঠবে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা তড়িৎ-চৌম্বক ক্ষেত্রটিকে। আর তাতেই ভয়ঙ্কর ওলটপালট ঘটে যাবে পৃথিবীর তড়িৎ-চৌম্বক ক্ষেত্র বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডে। ওই ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ওপর ভরসা করেই চালু রয়েছে পৃথিবীর সব প্রান্তের যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থা। তাই ওই ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডে ভয়ঙ্কর ওলটপালট ঘটে গেলেই যে দেশ বা যে এলাকাকে টার্গেট করে ছোঁড়া হবে সেই কামানের গোলা, তা সেই দেশ বা সেই বিশেষ এলাকার যাবতীয় ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থাকেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য ঘুম পাড়িয়ে দেবে। যাতে অনেক দূর থেকে আসার পথে পৃথিবীর অনেক বেশি এলাকার ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে ঘেঁটেঘুঁটে দিতে না পারে ওই ‘ভয়ঙ্কর অস্ত্র’টি, তাই সেটিকে এমনভাবে বানানো হচ্ছে, যাতে তা অল্প দূরত্ব থেকেই আঘাত হানতে পারে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা তার কোনো সুনির্দিষ্ট এলাকায়।
চেষ্টা চলছে ওই অস্ত্র বানানোর খরচ আরো কমানোরও। এই বছরের মধ্যেই ওই ভয়ঙ্কর
শক্তিশালী অস্ত্রের একটি ‘প্রোটো-টাইপ’ বানিয়ে ফেলার আশা করছে পেন্টাগন।
ইতোমধ্যেই ওই ‘ভয়ঙ্কর অস্ত্র’ বানানোর প্রস্তুতি-তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে
রাশিয়া, ইরান ও চীনেও। বেসরকারি স্তরে ‘বোয়িং’ ইতোমধ্যেই ‘চ্যাম্প’ নামে
এমন একটি 'ভয়ঙ্কর অস্ত্র' বানিয়েছে। ২০১২ সালে উটায় একটি মার্কিন মিলিটারি
বেসে সেই ‘চ্যাম্প’-এর সফল পরীক্ষাও করেছিল ‘বোয়িং’। তবে তার শক্তি অনেকটাই
কম। পেন্টাগন তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অস্ত্র ‘এম্পাস’ বানাচ্ছে।’’
এই অস্ত্র কি নেড়ে-ঘেঁটে দিতে পারে বেতার যোগাযোগ চলে যে ‘সুপার-হাইওয়ে’
বা ‘মহা-সড়ক’ ধরে, সেই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নেটওয়ার্ককেও ঘুম পাড়িয়ে দিতে
পারবে? ঘুমিয়ে পড়বে রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি নেটওয়ার্কও। অনিতা বলছেন, ‘‘রেডিও
ফ্রিকোয়েন্সি নেটওয়ার্ককে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া যায় কী ভাবে, তা নিয়ে গবেষণা
চলবে। সে দিনও খুব বেশি দূরে নেই, যে দিন এই ‘ভয়ঙ্কর অস্ত্র’ ঘুম পাড়িয়ে
দিতে পারবে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নেটওয়ার্ককেও।’’

No comments:
Post a Comment